উদার আকাশ উদ্যোগে মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন ও এনআরসি নিয়ে আলোচনা 

কলকাতা প্রতিনিধি :: ১৪ অক্টোবর মুর্শিদাবাদ জেলা সাংবাদিক সংঘের বিজন ভট্টাচার্য সভাকক্ষে উদার আকাশ পত্রিকা ও প্রকাশন আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠান শুরু হয় বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী অনিন্দিতা মোদকের কবিতা আবৃত্তির মধ্য দিয়ে।

এদিনের আলোচনা সভায় অন্যতম বিষয় হিসেবে ছিল মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্রুত রূপায়ণ, জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি), কবিতা পাঠ ও সদ্য প্রকাশিত সময়োচিত গ্রন্থ “সম্প্রীতির বীজতলা” নিয়ে আলোচনা।

উপরক্ত বিষয় নিয়ে মননশীল বক্তব্য রাখলেন বিভিন্ন গুণীজন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ ও দৈনিক পুবের কলম পত্রিকার সম্পাদক আহমেদ হাসান ইমরান, রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ ও লেখক মইনুল হাসান, বিশিষ্ট সমাজকর্মী মশিউর রহমান, অধ্যাপিকা সাবিনা ইয়াসমিন, মুর্শিদাবাদ জেলা সাংবাদিক সংঘের সম্পাদক বিপ্লব বিশ্বাস, বিশিষ্ট লেখক ও সমাজকর্মী চন্দ্রপ্রকাশ সরকার, কবি ও সম্পাদক সমীর ঘোষ, জেলার বিশিষ্ট কবি সন্দীপ বিশ্বাস।

এদিন স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন এবাদুল হক, মণিরুদ্দিন খান, চিত্রা দত্ত, সমিত মন্ডল, জয়নুল আবেদীন, হামিম হোসেন মন্ডল, এস এম নিজামুদ্দিন, এস কে এম মিজানুর রহমান, মজরুল ইসলাম, রেজাউল করিম প্রমুখ।

এদিনের বিশেষ আকর্ষণ ছিল চন্দ্রপ্রকাশ সরকারের লেখা মূলব্যান প্রবন্ধ গ্রন্থ “সম্প্রীতির বীজতলা”র উপর সমৃদ্ধ ও প্রগতিশীল আলোকপাত। প্রগতিশীল আলোকপাত করেন অবসর প্রাপ্ত অধ্যাপক ও লেখক ড. আবুল হাসনাত ও শিক্ষক হাসিবুর রহমান।

মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে রাজ্য সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে আহমেদ হাসান ইমরান, মইনুল হাসান, মশিউর রহমান, বিপ্লব বিশ্বাস, মোসারফ হোসেন, উদার আকাশ পত্রিকার সম্পাদক ফারুক আহমেদরা মূল্যবান বক্তব্য রাখলেন।

জোলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত সাহিত্য ও শিক্ষা অনুরাগী মানুষের ভিড়ে হলঘর ছিল পরিপূর্ণ। বিশিষ্টদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সামশুল আলম, বাহারুল হক, বদরুদ্দোজা, আল গালিব, কাজী সিরাজুল ইসলাম, ডাফিউল মন্ডল, সুব্রত হাজরা, বদিউজ্জামান, রাজকুমার শেখ, সৌরভ হোসেন, আবরার হোসেন, সুমন চট্টোপাধ্যায়, রাসেল মন্ডল, ভিক্টর মন্ডল, সাহিন হোসেন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন উদার আকাশ পত্রিকার সম্পাদক ফারুক আহমেদ।

মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে দ্রুত কাজ শুরু করুক রাজ্যসরকার-এই দাবীও তোলা হয় আলোচনা সভা থেকে। মুর্শিদাবাদ জেলা সাংবাদিক সংঘের সভাঘরটি সোমবার অপরাহ্নে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠেছিল। এ দিন বহরমপুরে অনুষ্ঠিত হল এনআরসি-বিরোধী সভা এবং মুর্শিদাবাদে বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ ও পঠন-পাঠনের কাজ অবিলম্বে শুরু করার আহ্বান জানিয়ে এক মনোজ্ঞ আলোচনাচক্র। সেইসঙ্গে ছিল ‘সম্প্রীতির বীজতলা’ নামক একটি পুস্তকের উপর আলোচনা ও কবিতা পাঠ।

সভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেখক ও প্রাক্তন সাংসদ মইনুল হাসান, রাজ্যসভার সাংসদ ও পুবের কলম পত্রিকার সম্পাদক আহমদ হাসান ইমরান, লেখক ও গবেষক অধ্যাপক আবুল হাসানাত, বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ও শিক্ষাসেবী মসিউর রহমান, অনুষ্ঠানের সভাপতি বিপ্লব বিশ্বাস, বিশিষ্ট লেখক ও সমাজকর্মী চন্দ্রপ্রকাশ সরকার, সমাজকর্মী ও লেখক সামশুল আলম, শিক্ষক হাসিবুর রহমান, সাবিনা ইয়াসমিন, উদার আকাশ পত্রিকার সম্পাদক ও অনুষ্ঠানের আয়োজক ফারুক আহমেদ প্রমুখ। সভায় উপস্থিত ছিলেন সমাজকর্মী এবং কবি সাহিত্যিক ও স্থানীয় পত্রিকার বেশ কয়েকজন সম্পাদক।

মসিউর রহমান মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বলেন, অবিলম্বে এই বিশ্ববিদ্যালয় চালু হওয়া প্রয়োজন। কৃষ্ণনাথ কলেজ পশ্চিমবাংলার একটি প্রাচীন কলেজ। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়েরও পূর্বে এই কলেজ গড়ে ওঠে। তাই আমার বক্তব্য– এই ঐতিহ্যবাহী কলেজটিকে স্বনামে বজায় রাখা হোক। আর মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠুক আলাদা ভাবে পৃথকভাবে অন্য কোথাও নতুন জায়গায়। মুর্শিদাবাদে জায়গার অভাব নেই।

এনআরসি সম্পর্কে তিনি বলেন– এনআরসি নিয়ে ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল হলে যারা বাংলাদেশ থেকে আসা দলিত– নমঃশূদ্র রয়েছেন– তাঁদেরই বেশি অসুবিধা হবে। বহু রিফিউজি সংগঠন এই নিয়ে ইতিমধ্যে সোচ্চার হয়েছেন। সাংসদ ও পুবের কলম পত্রিকার সম্পাদক আহমদ হাসান ইমরান বলেন– মুর্শিদাবাদের জনসংখ্যা প্রায় ৭৪ লক্ষ। পৃথিবীর বহু রাষ্ট্রে এত জনসংখ্যা নেই। দেশভাগের ফলে সবথেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলা। বাম আমলে মুর্শিদাবাদ ভারতের অন্যতম দারিদ্র্যপীড়িত জেলা বলে চিহ্নিত হত। বেকারত্ব ছিল চরমে। এই জেলাটিকে নো-ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। ফলে এখানে শিল্পের বিকাশ ব্যাহত হয়। ইমরান বলেন– এটা খুব আনন্দের কথা যে– মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকার মুর্শিদাবাদের সার্বিক বিকাশে জোর দিয়েছে। তিনি অবশ্য একইসঙ্গে জঙ্গলমহল-পাহাড়–কৃষিপ্রধান সব এলাকার বিকাশে সচেষ্ট হয়েছেন। এটাও আনন্দের কথা– মুর্শিদাবাদে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার জন্য বিধানসভায় একটি আইন পাস করা হয়েছে। আমরা আশা করব– ‘মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়’ গড়ার এই আইন বাস্তব রূপ নেবে। এনআরসি সম্পর্কে সাংসদ ইমরান বলেন– পশ্চিমবাংলায় এনআরসি করা এত সহজ নয়। অসমে এনআরসি করতে গিয়ে বিজেপি সরকারের মুখ পুড়েছে। যে ১৯ লাককে তারা বিদেশি বলে চিহ্নিত করেছে তাদের বিপুল অংশ বাংলাভাষী হিন্দু। বিজেপির যে নেতারা তখন বলেছিলেন– অসমে এনআরসি করতে হবে–তাদেরই নেতা হিমন্ত বিশ্বশর্মা এখন বলছেন– আমরা এই এনআরসি মানব না–মানছি না। অমিত শাহ এখন বলছেন– এনআরসি বাস্তবায়নের পূর্বে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস করা হবে। আর এর মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে আগত সমস্ত অমুসলিমকে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। শুধু বাদ থাকবে মুসলিমরা। এই নীতি আরও বিপদ ডেকে আনবে। কারণ– এই আইন বাস্তবায়িত হলে যেসব বাংলাদেশি হিন্দু পশ্চিমবাংলা বা ত্রিপুরায় রয়েছেন– তাঁদের নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য এই বলে আবেদন করতে হবে যে– আমরা বাংলাদেশি নাগরিক। ধর্মীয় অত্যাচারের কারণে ভারতে এসেছি। এরপর তাঁদের নাগরিকত্বহীন অবস্থায় ছ’বছর অপেক্ষা করতে হবে।

 

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

পাবনায় ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় দুইজনের মৃত্যুদন্ড

কলিট তালুকদার, পাবনা প্রতিনিধি :: পাবনায় এক নারীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় ...