রুবিক্স কিউব

কাজী লাবণ্য

*প্রথম পর্বের পর-

(৪)

আমাদের গাড়ি এসে থামল মামা বাড়ির সামনে। মৃত্যুবাড়ির মত ভয়াবহ আর কিছু হতে পারেনা। লোকেলোকারণ্য। চারিদিকে শোকের বীভৎস রূপ। আমার আপন মাসিরাও সেখানে ছিল। তারা এসে আমাদেরকে ভেতরে নিয়ে গেল। দিপুদার ছোটবোন শুচিদি এসে আমায় ধরেধরে নিয়ে যেতে লাগল। যেন আমি শোকে মুহ্যমান, যেন আমার চলার শক্তি রহিত। কোথায় আমি তাকে ধরব তানা সেই জড়িয়ে ধরে আমাকে তার মায়ের কাছে নিয়ে গেল। মা সহ আমরা পাশাপাশি থাকলেও দিপুদার মা দুহাত দুদিকে মেলে দিয়ে আমাকেই বুকে টেনে নিলেন, জড়িয়ে ধরে ভীষণভাবে আর্তনাদ করে উঠলেন। তখন পর্যন্ত আমার ভেতরে শোকের কোন ছাপ পরেনি বরং আমি ভয় পাচ্ছিলাম। অজানা এক ভয়!তাঁর হাহাকার, আর্তনাদের জলোচ্ছ্বাসে একটু একটু করে খুলে যেতে লাগল আমার ছোট ছোট অংকের ধাঁধাঁ।

আরো দুসপ্তাহ বাড়িতে কাটানোর পর আমি হলে ফিরে গেলাম। ফেরার দিন গাড়ি দিপুদাদের বাড়ির সামনে গেলে আমি বিকাশ কাকাকে গাড়ি থামাতে বললাম। আমি এসেছি মুহুর্তেই ভেতরে খবর পৌঁছে গেল। শুচিদি বাড়িতেই ছিল সে এসে আমাকে হাত ধরে তার মায়ের কাছে নিয়ে গেল। এ বাড়িতে আমি খুব কম এসেছি, কিন্তু যখন যতবার এসেছি এরা সবাই আমাকে এমন ভাবে আপ্যায়ন করেছে যেন আমি কোন এক রাজকন্যা। বাড়ির ছোটবড় সকলেই। কেন এমন করত ওরা! আমি শুধু অবাক হতাম।আজও এই শোকের বাড়িতেও আমাকে ওরা খুব আলাদা ভাবে গুরত্ব দিল। নিজের মানুষের মত খুব সমাদরে ভেতরে নিয়ে বসাল। দিপুদার মা আমাকে বুকে জড়িয়ে কাঁদলেন। মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বার বার প্রবল দীর্ঘশ্বাস ফেললেন আর মা! মা! বলতে থাকলেন। একসময় শুচিদি আমায় ডেকে পাশের রুমে নিয়ে গেলেন। ঢুকে বললেন-

‘বন্যা, কদিন আগে দাদার লাগেজ এসেছে, সেখানে ক’টা ডায়েরি, কিছু অলংকার ছিল আমি সেগুলি সরিয়ে রেখেছি, তুই নিয়ে যা’।
আমি ভারি অবাক হয়ে দিদির দিকে তাকিয়ে রইলাম। আমার চোখের দৃষ্টি শুচিদি বুঝতে পারল। বলল- ‘এসব তোরই, তুই  নিতে চাইলে নিতে পারিস’। ভাবলাম আমি কেন আরেকজনের ডায়েরি নেব! আশ্চর্য! কিন্তু কদিন ধরেই তো আমি অনেক আশ্চর্য বিষয়ের সম্মুখীন হচ্ছি অনেক কিছুই আবিষ্কার করছি। কদিন ধরেই আমি অনেক দুয়ে দুয়ে চার মেলাতে পারছি। আমি অকম্পিত হাত বাড়িয়ে ডায়রিখানা হাতে নিয়ে খুব অর্থপুর্ণ দৃষ্টিতে শুচিদির দিকে তাকালাম। দিদি বুঝতে পারল-
-‘ঠিকাছে তুই এখানে থাক, কেউ আসবে না’ বলে দরোজা চাপিয়ে দিয়ে চলে গেল। এবার আমার হাত কাঁপতে লাগল। বুকের ঢিব ঢিব আওয়াজ আমার কানে কম্পন তুলতে লাগল। একবার ভাবলাম থাক, খুলব না। কি হবে! সেতো আর এই জগতে নেই! কিন্তু তারুণ্যের অদম্য কৌতূহল ও আরো কিছু আবিষ্কারের নেশার কাছে হেরে গিয়ে বিছানায় বসে আমি ডায়েরি খুলে পড়তে লাগলাম। কতক্ষণ হয়েছে, ক’পাতা পড়েছি আমি জানিনা।একসময় আমি অসুস্থ মানুষের মত বলা যায় প্রায় টলতে টলতে বের হয়ে অতি দ্রুত শুচিদিকে চেঁচিয়ে বলে আর কাউকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে এক দৌড়ে এসে গাড়িতে উঠলাম।

আমার অজান্তে, আমার অলক্ষ্যে আমাকে ঘিরেই দিপুদা, দিপুদার ফ্যামিলি এবং আমার মায়ের মধ্যে গড়ে ওঠেছিল এক নিদারুণ গেইম। যার বিন্দু বিসর্গও আমি জানতে পারিনি। এক অতন্দ্র প্রহরী মায়ের সন্তান আগলানোর দুর্ভেদ্য দেয়াল আর আরেকজনের অবিশ্বাস্য অনাবিল স্নেহময় ভালোবাসা আমায় সবকিছু থেকে নিরাপদ দূরত্বে রেখে দিয়েছিল। যখন জানলাম তখন আমার কি করার আছে! আমি কি করতে পারি! এ আমার কেমন নিয়তি!

হলে ফিরে এলাম। আমি যাদেরকে শ্যামের বাঁশির কথা বলতাম এবারে তারাই আমাকে উল্টো চেপে ধরল- বাড়ি গিয়ে তোর কি হয়েছে? কি ঘটেছে? চাপাচাপি করতে লাগল।

কি বলব আমি ওদেরকে? কি বলার আছে? না এসব একান্তই আমার। এ আমি কারো সাথেই শেয়ার করতে পারিনা, পারবনা। আমি যেন রাতারাতি খুব ম্যাচিউর্ড হয়ে উঠতে লাগলাম।আমরা সবাই যে যার মত লেখাপড়া পরীক্ষা নিয়ে দিন কাটাতে লাগলাম। ওরা প্রেম করে জলজ্যান্ত প্রেমিকের সাথে আর আমি নাই হয়ে যাওয়া একজনের অতীত আচরণ, ক্রমশ উন্মোচিত হওয়া আমার প্রতি তার দুর্নিবার ভালোবাসা, আর তার প্রবাসে লেখা ডায়েরি নিয়ে অন্য এক অনুভূতির গভীরে হাঁটতে থাকি। না, এমন অনুভূতির সাথে আমার আগে পরিচয় ছিল না, আমার নিয়তিই যেন আমায় ক্রমশ এক অচেনা জগতে নিয়ে যেতে লাগল।বন্ধুদের ভাষ্যানুযায়ী আমি খুব বদলে গেলাম।
পরীক্ষা শেষ করে ভার্সিটি থেকে বাড়িতে এলে খুব স্বাভাবিক নিয়মে বাবা মা ঘর বর দেখে আমার বিয়ে দিলেন।

এক কোকিল ডাকা বসন্তে আমার বিয়ে হল মাঝে দুই বসন্ত কাটিয়ে আরেক বসন্ত আসার আগেই আমি সেখান থেকে ফিরে এলাম। না, দিপুদার জন্য আমি ফিরে আসিনি। দিপুদা আমায় কখনই কোনরকম অস্বস্তিকর পরিস্থতিতে ফেলেনি। সে কাউকে বিব্রত করার মানুষ ছিল না, আর আমাকে তো প্রশ্নই ওঠেনা। তাছাড়া, বিয়ের আগেই আমি দিপুদা নামক স্যুইচটা অফ করে দিয়েছিলাম। আমি ফিরে এসেছি এই মানুষটার সাথে কিছুতেই ঘর করা সম্ভব নয় বলে। তবে আমি আর বাবার বাড়িতে ফিরিনি। আমি তাদেরকে বলে কয়ে ঢাকা শহরে এসে মেয়েদের একটি কর্মজীবি হোষ্টেলে উঠলাম। আমি আরো কিছুদিন লেখাপড়া করলাম। বিসিএস দিলাম। একটা কলেজে আমার চাকরি হলে পরে আমি বেঁচে গেলাম।

সেই যে আমি শুচিদির কাছ থেকে ডায়েরি নিয়ে চলে এসেছিলাম এরপর আর একবার আমি ওদের বাড়িতে গিয়েছিলাম। গিয়েছিলাম দিপুদার মাকে সেদিন বলে আসিনি এজন্য আর একটা জিনিস জানার জন্য। আমি যখন যেদিনই ওদের বাড়িতে গেছি তখনই ওদের সকলের মধ্যেই একটা চাপা উল্লাস শুরু হত, সেদিনও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সেদিন আমি ওর মায়ের কাছে অনেকক্ষণ ধরে বসে ছিলাম। পরে শুচিদিকে ডেকে পাশের রুমে নিয়ে আমি খুটিয়ে খুঁটিয়ে দিপুদার মৃত্যুর ‘দিন তারিখ ক্ষণ’ জেনে নিয়েছিলাম। সেটা জানা আমার জন্য জরুরী ছিল।

প্রায় আমি দিপুদার সাথে কথা বলি। বলি স্বপ্নে, বলি আমার একাকীত্বের জাগরণে। মাঝে মাঝে ফিসফিস করে বলি “দিপুদা তুমি আমাকে জানাওনি কেন! জানানোর জন্য আমি কি খুব ছোট ছিলাম! অবুঝ ছিলাম! যদি তাই হয় তবে এমন কিছুর সাথে নিজে কেন জড়ালে!তাছাড়া আমি এমন কিছু ছোট ছিলাম না, তুমি আমায় জানাতে পারতে। আজ বুঝি আমি যেন কোনরকম ঝামেলায় না জড়াই, আমি যেন কোন কষ্ট না পাই কেবল এজন্যই তুমি আমাকে কিচ্ছু জানাওনি। আহ! দিপুদা”!

 

(৫)

সুদীর্ঘ বছর চাকুরি করার পর আজ আমি অবসর নিলাম। মাঝে দু একবার এখানে ওখানে বদলী হয়েছিলাম কিন্তু তারপর আবার এখানেই ফিরে এসেছি। কলেজ কর্তৃপক্ষ বা পরিচিত মহলের ছোট্ট গন্ডি জানে বন্দনা রায় চৌধুরী বন্যা অকাল বিধবা একজন মানুষ। আমি এভাবেই মানুষকে জানিয়েছি। কারন আমি জানি আমাদের সমাজ যদিও বা একজন বিধবাকে সাদা চোখে দেখতে পারে কিন্তু একজন ডিভোর্সিকে কখনই নয়। তাছাড়া এসব সকল সমালোচনা বা মানুষের অহেতুক কৌতূহলের উর্ধে থাকার জন্য সব সময় নিজেকে এক লৌহ কঠিন আবরণে মুড়ে রাখতাম।

বাবা মা গত হয়েছেন এক এক করে। দাদারা নিজ নিজ জায়গায় সুপ্রতিষ্ঠিত। মা অনেক চেষ্টা করেছিলেন যেন আবার আমি সংসার করি। বাবার সম্পত্তির ভাগ বাটোয়ারা হলে আমিও মোটা অংকের কিছু অর্থ লাভ করেছিলাম।

অনেক খুঁজে খুঁজে আমি একটি ছোট্ট ফ্লাট নিয়েছি যেটি ছাদের উপরে। একপাশে ছোট্ট বাসা আর সামনে উঠোনের মত খোলা ছাদ। ছাদ জুড়ে আমার প্রিয় ফুলের টব। কেবল ফুল নয় কিছু পেয়ারা, লেবু, ডালিম মরিচ, টমেটো ইত্যাদির সতেজ গাছও আছে। আমার জন্য এমন একটি বাসাই দরকার ছিল। আমার কলিগ কেমিস্ট্রির টিচার পি কেগৌতম একজন ভাল মানুষ। মজার ব্যাপার, পি কে গৌতমের জীবন সঙ্গিনী হল আমার প্রিয় বন্ধু দেবযানী। ওদের সাথে আমার খুব ভাল সম্পর্ক। দরকার হলে গৌতমদা আমাকে সকল ব্যাপারে সহযোগিতা করে। ওদের চমৎকার দুটি মেয়ে আছে। বড়টি জামাই নিয়ে বিদেশে থাকে আর ছোটটি এখানেই পড়ে।

“বড়টি কোন দেশে থাকে জান দিপুদা! মাঝে মাঝে ভীষণ ইচ্ছে করে সেই শহরে যেতে যেখানকার বায়ুতে তোমার শ্বাস মিশে আছে। আবার ইচ্ছেকে দমন করি, কারন পৃথিবীর যেখানেই যাইনা কেন আমি তো আর তোমাকে পাবনা দিপুদা! এমন করলে কেন! এমন লুকোচুরি কেউ খেলে যে অপরপক্ষ একদম খুঁজেই পাবে না। কেবল তুমি যদি বেঁচে থাকতে, পৃথিবীর যেখানেই থাকতে আমার জীবনের সমস্ত তপস্যা দিয়ে আমি তোমায় খুঁজে বের করতাম দিপুদা”!

আজ কলেজে ফেয়ারওয়েল ছিল। সুদীর্ঘ বছর অধ্যাপনা শেষে আমি আজ অবসরে গেলাম। সেখানকার সব কিছু শেষে বাসায় ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যে পার হয়ে গেল। ফ্রেস হয়ে চা খাওয়া শেষ করে ধীর পায়ে এসে বসলাম আমার চিরসঙ্গী বারান্দার রিভলভিং চেয়ারে।চেয়ারের পাশে ছোট্ট একটি টেবিলে আর কিছু জিনিসের সাথে রাখা আছে একটি রুবিকিউব। হাতে নিলাম অনেক পুরনো রুবিকিউ টি। তখন মনে হয় আমার কোনো এক ক্লাসের ফাইনাল পরীক্ষা সামনে। বলা যায় দিনরাত কাটে পড়ার টেবিলে। বইখাতা বন্ধ করে ভাবছি স্নানে যাব, তখন শুনি মা যেন কার সাথে কথা বলছেন। আবার একটু পরেই মায়ের কিছুটা শক্ত কন্ঠ শুনলাম-“ না বাবা, ওর টিচার এসেছে, ও পড়ছে এখন ডাকা যাবে না” আমি আলগোছে উঠে স্নানে গেলাম। বিকেলে মা এই রুবিকিউবস আমার হাতে দিয়ে বললেন সুদিপ্ত দিয়েছে। আমি কৌতূহলী হয়ে হাতে নিয়ে বললাম – ‘আমি তো মেলাতে পারিনা মা’, ‘আচ্ছা এখন পড়তে যাও, পরে সুদিপ্ত শিখিয়ে দেবে বলেছে’। সেই ‘পরে’ আর আসেনি।

বাসাটি অনেক উঁচুতে হওয়ায় বেশ চমৎকার হাওয়া পাওয়া যায়। কত বিনিদ্র রজনী যে এখানে কেটে যায় তার কোন হিসেব নেই। আকাশে চাঁদ আছে কিনা বোঝা যাচ্ছেনা।
একাকী জীবনে হয়ত আমার অডিটরি হ্যালুসিনেশন হয়, হোক।  এখানে বসেই দিপুদার সাথে আমার কথা হয়। প্রায়ই ওর সাথে কথা বলি। এমনভাবে কথা বলি যেন সত্যিই দিপুদা আমার সামনে বা পাশের রুমে আছে। আজও বলছি-

-“দেখ দিপুদা! আজ আমি কলেজ থেকে রিটায়ার করলাম। রিটায়ার্ড পার্সন মানে বুড়ো মানুষ বুঝছ? আমি আর তোমার সেই অবুঝ সবুজ বালিকা নই!
তুমি যেখানে আছ সেখানে তো কেউ রিটায়ার করেনা। করে নাকি?
আমি এখন তোমার থেকেও অনেক অনেক বড় একজন মানুষ, একজন প্রৌঢ় বা বুড়ো মানুষ। আর তুমি বেশ আটকে আছ সেই নির্দিষ্ট তারুণ্যে! তোমার তো বয়স বাড়ে না! কী মজা তোমার!তোমার মত বয়সের ছেলেরা এখন আমাকে ম্যাডাম বলে, আজ্ঞে আপনি বলে- বুঝলে!
কি বলছ! আমারও বাড়েনি! আমি সেই আগের ছোট্ট খুকুটিই আছি!

বিগত ৩০ বছর যাবত আমার বালিশের পাশে কালো মলাটের ডায়েরি আছে। তুমি তো সবই জান। আসলেই কি তুমি সব জান! জানতে পার! তোমাদের ওখান থেকে কি এ জগতের কোনকিছু জানা যায়! জানা যায় কিনা জানিনা। কিন্তু আমার জানতে ইচ্ছে করে সেদিন তুমি কি করে আমার কাছে সেই বারতা পাঠিয়েছিলে!

দিপুদা, যখন তোমার বুকে সুনামির ঢেউয়ের মত প্রবল ব্যথার ধাক্কা লাগল, পৃথিবীতে হার্ট এটাকের ব্যথার মত আর কোন ব্যথা হয়না… যখন তোমার শ্বাস বন্ধ হয়ে আসতে লাগল তখন তুমি কি করেছিলে দিপুদা! নিশ্চই তুমি তখন তোমার মাকে ডেকেছিলে! অন্তত তোমার পাশের রুমের ছেলেটিকে ডাকতে চেয়েছিলে!তোমার হাত দুটি কাউকে অবলম্বন করার জন্য নিশ্চয়ই শুন্যের মাঝে হাতড়িয়েছে, এরপর বিছানায় আছড়ে পরে বিছানার চাদর খামছে ধরেছে! সেই অন্তিম মুহুর্তে তোমার খুব জলতেষ্টা পেয়েছিল কি! গলা শুকিয়ে নিশ্চয়ই শুকনো হয়ে গিয়েছিল! তুমি তো একটু জলও পাওনি দিপুদা! তাহলে তুমি কি করে তখন আমার কাছে বারতা পাঠালে! হ্যাঁ দিপুদা, যখন তুমি এই জগতের সকল মায়া ছিন্ন করে অন্য জগতে যাচ্ছ, যখন তুমি অকালে অনিচ্ছায় জীবিতের কাতার থেকে নিজের নাম মুছে দিচ্ছ,যখন তোমার হৃদয়টা আক্ষরিক অর্থেই স্তব্ধ হয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখন, ঠিক তখন হলের বিছানায় শুয়ে আমি অদ্ভুত এক স্বপ্ন দেখেছিলাম। প্রতিটি মেয়ে নিজের উন্মেষকালে যে স্বপ্ন দেখে একাধিকবার, আমি সেই স্বপ্ন দেখেছিলাম হলের বিছানায় শুয়ে, তোমাকে নিয়ে।শুনেছি স্বপ্নে নাকি গন্ধ পাওয়া যায়না, কিন্তু আমি সেদিন তোমার পারফিউম, আর ফুলের গন্ধ পেয়েছিলাম। তুমি দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে ছিলে, তুমি কেন সেদিন আসোনি দিপুদা! কেন আসোনি! আমি তো তোমার জন্যই বসে ছিলাম। এ কেমন প্রহেলিকার জীবন দিপুদা!এই স্বপ্নটা না দেখলে হয়ত আমার জীবনটা অন্যরকম হতেও পারত…

আমার দুচোখে শ্রাবণের অঝোর ধারা নামে…

-তুমি বিজ্ঞানের স্টুডেন্ট ছিলে, পুরোপুরি একজন বিজ্ঞানমনষ্ক মানুষ ছিলে তুমি এর কি ব্যাখ্যা দেবে দিপুদা! আমি সারাজীবন এ নিয়ে ভেবেও এ রহস্যের কোন কিনারা করতে পারিনি।

-তুমি বলবে আমি কল্পনা থেকে এমন দেখেছি। না, পরিষ্কার জেনে রাখ আমার কল্পনায় ঘুণাক্ষরেও এসব কিছু ছিলনা। আর স্বপ্নের ক্ষণটা! সেটাকে তুমি কিভাবে ব্যাখ্যা করবে! তোমার বারতা প্রশান্ত মহাসাগরের বাতাস ঠিক আমার কাছে পৌঁছে দিয়েছে দিপুদা। সেই বারতাই আমি স্বপ্নে দেখেছিলাম”।

সেই রুবিকিউবস টা আমি ঘোরাতেই থাকি। দেবযানীর মেয়েরা বেড়াতে এলে মুহুর্তেই সেটি মিলিয়ে রেখে দেয়, ওরা চলে গেলে আবার আমি সেটি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে গরমিল করে রাখি। আমি কেবল সেটা ঘুরাই কখনও মেলানোর চেষ্টা করিনা। জানি, সকলের জীবনের পথ মেলেনা… কিছু অংক থাকেই যার কোন ফলাফল হয়না।এটি ঘোরাতেই আমার আনন্দ …

 

 

 

 

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here