ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসুন আলেকজান্ডার

আলেকজান্ডার

সারোয়ার মিরন :: ঈদুল ফিতরের সাপ্তাহ ব্যাপী ছুটিতে বহুমুখী বিনোদন এবং ঈদ ভ্রমনে আকর্ষনীয় হতে পারে রামগতি উপজেলার বিভিন্ন স্থান ও স্থাপনা। প্রধানতম স্থান মেঘনার সুবিশাল তীর এবং বেড়ি বাঁধ। রামগতি উপজেলা সংলগ্ন আলেকজান্ডার বেড়ি বাঁধের দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে চার কিমি। দৃষ্টিনন্দন এ বাঁধে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ডজন খানেক বিশ্রাম ছাতা ও সোলার প্যানেল সিস্টেম। কংক্রীটের প্রতিটি ছাতায় আড্ডা দিতে পারবে ১০ থেকে ১২ জন।

সন্ধ্যায় বাঁধ জুড়ে সোলার প্যানেলের হালকা আলোয় রোমাঞ্চ জন্ম নেবে। মন মগজ শিহরিত হবেই। সারারাতই থাকে এ আলোর খেলা। আগে থেকেই আছে বসার বেঞ্চ। ছাতা কিংবা বেঞ্চ কোনটার জন্যই ফি দিতে হয় না। বড় ছোট সব ধরনের গাড়ি পার্কিং করার সুয়োগ রয়েছে।

বিশেষ করো মোটর বাইকের জন্য রয়েছে ব্যক্তি মালিকায় গড়ে ওঠা গ্যারেজ। দশ বিশ টাকায় এখানে নিরাপদে বাইক রাখা যায়। অন্য কোন গাড়ির জন্য এ সুবিধা না থাকলেও গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিশাল জায়গা রয়েছে।

খাওয়ার জন্য এক কিমি দুরের আলেকজান্ডার বাজারে বেশ কয়েকটি মোটামুটি মানের হোটেল রয়েছে। রাত্রি যাপনের জন্য আছে আবাসিক বোডিংও। তবে প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল এ সুবিধা। বেড়ি বাঁধ এলাকায় পারেন স্ন্যাকস্ জাতীয় সকল খাবার, পানীয়, ফুসকা, ছটপটিসহ নানান ধরনের খোলা খাবার।

আলেকজান্ডার

নিরাপত্তার জন্য থাকবে স্থানীয় আইন শৃংখলা বাহিনী পুলিশ এবং আনসার সদস্যরা। পুরো বাঁধ জুড়েই বহুমুখি সেবা ও সহযেগিতা নিয়ে বেশ কয়েকটি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবি সংগঠনও।

একটি মাত্র সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে এখানে আসা ভ্রমন পিয়াসুদের। এখানে শৌচাগার সুবিধা নেই। জরুরী প্রয়োজনে আপনাকে ব্যবহার করতে হবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর শৌচাগার। মেঘনা জলে গা ভেজানোর ইচ্ছা জাগলেও এখানে নেই কোন চেঞ্জ রুমও।

যাতায়াতের জন্য পাবেন বাস, রিকসা, অটো রিকসা, সিএনজি, ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল। ভাড়া সাধ্যের মধ্যেই। যে কোন অসুস্থতায় যেতে পারবেন ত্রিশ শয্যা বিশিষ্ট রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

আসতে পারবেন দেশের যে কোন স্থান থেকেই। নোয়াখালীর সোনাপুর জিরো পয়েন্ট নেমে সিএনজিতে/ বাসে অালেকজান্ডার। ভাড়া সিএনজিতে ৭০/৮০ টাকা। বাসে ৪০/৫০ টাকা। সময় লাগবে ৪০ মিনিট থেকে এক ঘন্টা। লক্ষ্মীপুর ঝুমুর স্টেশন নেমে বাসে/লেগুনায় আলেকজান্ডার আসতে হবে। ভাড়া ৫০ টাকা। সময় লাগবে এক ঘন্টা বিশ মিনিট। এ রুটে সরাসরি সিএনজি সুবিধা নেই। তবে রিজার্ভ করে আসতে পারবেন পাঁচশো থেকে ছয়শো টাকায়।

আলেকজান্ডার

ঈদের ছুটির দিন গুলোতে এখানে প্রচুর মানুষের সমাগম ঘটে। তাই এখানে এসে স্বপরিবারে রাত্রিযাপনের সুবিধা পাওয়া যাবেনা। চাইলে এখানে এসে খোলা মাঠে নিজেরা রান্না করে খেতে পারবেন দল বেঁধে। যৌন হয়রানি, উত্যক্তকরন, পকেটমারসহ ইত্যাদির শিকার হওয়ার ঝুঁকি নেই। স্থানীয় জনগন খুবই আন্তরিক।

বিকেল বেলায় অালেকজান্ডার বেড়ি বাঁধের প্রকৃত সৌন্দর্য ধরা দেয়। নয়নাভিরাম সুর্যাস্ত দেখার সুযোগ পাবেন। ওয়াটার বাসে করে নদীতে ঘুরতে পারবেন। ইচ্ছে হলে ভাটার সময় যেতে পারবেন একটু দুরের অস্থায়ী ভাবে জেগে ওঠা চর গুলোতেও। বালিময় চরে খেতে পারবেন ফুটবল ক্রিকেট। মোটামুটি এক দিনেই ভ্রমনের একটা ফুল প্যাকেজের আনন্দ পাবেন এখানে।

সময় পেলে ঘুরতে যেতে পারেন শ্রী শ্রী বুড়াকর্তার আশ্রম, রামগতি বাজার বেড়ি বাঁধ, বিবিরহাট বাঁশতলী শাহী দরবার শরীফ, ছেউয়াখালী ব্রিজ, টাংকি স্লুইসগেট ও বয়ারচর ঝাউবাগানেও। রামগতি বাজারের মিষ্টির নাম ডাক অনেক। খাওয়া পাশাপাশি নিয়েও যেতে পারেন। নিতে পারেন মহিষের দুধ ও টকদইও। ঢুমারতে পারেন রামগতি বাজার ও আলেকজান্ডার মাছ ঘাটেও। দাম কিছুটা বেশি হলেও ইলিশ পোয়া ইত্যাদি মাছ পাওয়া যায়।

আলেকজান্ডার

উল্লেখ্য, আলেকজান্ডার থেকে রামগতি বাজারের দুরত্ব সড়ক পথে বিশ কিলোমিটার। যাতায়াতের রাস্তাটাও চমত্কার। পুরো বাঁধ জুড়েই পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও বিভিন্ন বিষয়ে জনসচেতনতার কাজ করছে স্বপ্ন নিয়ে নামের একটি স্বেচ্ছাসেবি সংগঠনও।

ভ্রমন পিয়াসু সবাইকে রামগতিতে স্বাগত। মেঘনা জল তথা বেড়ি বাঁধের অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসতে পারেন ঈদের এ দিন গুলোতে। সকলের ঈদ যাত্রা হোক শান্তিময় এবং নিরাপদ।

 

 

লেখক: ফ্রিল্যান্সার, রামগতি

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

৮ দফা দাবিতে বাগেরহাট ম্যাটস শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

মোঃ শহিদুল ইসলাম, বাগেরহাট প্রতিনিধি :: যৌন হয়রানি বন্ধসহ ৮ দফা দাবিতে ...