ইরাকে শিয়া-সুন্নি বৈরিতা চরমে

ইরাক থেকে মার্কিন সৈন্যরা চলে যাওয়ার পর পরই দেশটির শিয়া আর সুন্নি সম্প্রদায়ের মধ্যকার চরম বৈরিতা আরও প্রকট আকার নিয়েছে। শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকারের কাছে চাপের মুখে পড়েছে দেশটির সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ সুন্নি রাজনীতিক।

ইরাকের অন্যতম উপ রাষ্ট্রপতি তারেক আল হাশেমি’র বিরুদ্ধে তার বেশ কয়েকজন দেহরক্ষী সহ গ্রেপ্তারি পরওয়ানা জারি হয়েছে বলে খবরে বলা হচ্ছে।

আমেরিকার সৈন্যরা ইরাক ছাড়ার পর সাধারণ ইরাকি নাগরিকরা স্বস্তি প্রকাশ করলেও অনেকেই দেশের আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে শঙ্কিত।

নাবেইল আবোউদ নামে বাগদাদের এক বাসিন্দা বলছেন,

‘আমেরিকার সৈন্যরা এখন চলে গেছে এবং এটা খুবই আনন্দের কথা। কিন্তু এখন রাজনীতিবিদরা যদি নিজেদের মধ্যে বিরোধে জড়ায় তাহলে প্রতিদিনই নতুন সমস্যার সৃষ্টি হবে।‌‌’খবর : বিবিসি

ইরাক থেকে সর্বশেষ মার্কিন সৈন্য চলে যাওয়ার পর পরই বড় এই রাজনৈতিক সংকট শুরু হয়েছে রাজধানী বাগদাদে। এক বছর আগে গঠিত দেশটির জাতীয় সরকার এর আগে এত বড় সংকট আর দেখেনি।

দেশটির বেশিরভাগ সুন্নি সম্প্রদায়ভুক্ত মুসলমানদের রাজনৈতিক জোট সংসদ থেকে বের হয়ে যাবার ঘোষণা দিয়েছে। আর দুজন জ্যেষ্ঠ সুন্নি রাজনীতিক ও উপ রাষ্ট্রপতি তারেক আল হাশেমি এবং খোদের আল খোজেই কে বাগদাদ বিমানবন্দরে কুর্দি অধ্যুষিত উত্তরের প্রেসিডেন্ট তালাবানির সাথে দেখা করতে যাবার পথে বাধা দেয়া হয়েছে।

দুই সপ্তাহ আগে পার্লামেন্ট ভবনের কাছে বোমা হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মি হাশেমি ও তার দেহরক্ষীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মি. হাশেমি দেশটির সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ। আরেক জ্যেষ্ঠ সুন্নি নেতা উপ প্রধানমন্ত্রী সালেহ আল মুতলাক কে প্রধানমন্ত্রী নুরি আল মালিকি সংসদে ইমপিচ করতে চাইছেন।

এর আগে আইয়াদ আল্লাউইর নেতৃত্বে সংসদে বেশিরভাগ সুন্নিদের জোট ইরাকিয়া প্রধানমন্ত্রী মি. মালিকির বিরুদ্ধে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করে অপব্যবহারের অভিযোগে সংসদ থেকে বের হয়ে যাবার ঘোষণা দেয়।

ইউনাইটেড নিউজ ২৪ ডট কম/আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Print Friendly, PDF & Email
0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

বিশ্বব্যাপী স্কুলপড়ুয়া দুই-তৃতীয়াংশের বাড়িতে ইন্টারনেট নেই

    স্টাফ রিপোর্টার :: শিশু এবং তরুণদের অনলাইনে মানসম্পন্ন ডিজিটাল শিক্ষা ...