আলোকিত স্কুলে শতভাগ পাশ

আলোকিত স্কুলে শতভাগ পাশস্টাফ রিপোর্টার :: প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা (পিইসি) ও জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে জেলাশহরগুলো থেকে এখনো অনেকটা পিছিয়ে আছে মফস্বলের বিদ্যালয়গুলো। পড়াশুনার মানেও একই চিত্র গ্রামে। তবে মেঠোপথের আলোকিত স্কুল এ জেলার অন্যসব বিদ্যালয় থেকে একেবারে আলাদ। ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত সুবিধাবঞ্চিত আর অবহেলিত শিশুদের বিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত এই স্কুলের নাম বিভিন্ন কারণে আলোচিত।

লক্ষ্মীপুর জেলার ১৮ নং কুশাখালী ইউানিয়নের ফরাশগঞ্জ গ্রামে অবস্থিত এই বিদ্যালয়টি ২০১৮ সালে পিইসি পরীক্ষায় প্রথম বারের মতো অংশ নিয়ে শতভাগ পাশের রেকর্ড অর্জন করে। ফলে বিদ্যালয়টি আবারো সবার দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হয়।

এই বিদ্যালয় থেকে ৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই পাশ করেছে। দুজন শিক্ষার্থী জিপিএ ৪ এবং বাকিরা সবাই জিপিএ ৩.৫ এর উপরে পেয়েছে। কুশাখালী ইউনিয়নের ১৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে শতভাগ পাশ করেছে মাত্র ৪টি বিদ্যালয়। তার মধ্যে ডা. মোমতাজ উদ্দিন আলোকিত স্কুল এন্ড কলেজ একটি। স্কুলটির কোড নং ৪০৮০৪৩৩১০। পুরো জেলায় শতভাগ পাশ করা বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৭৪৪টি। কুশাখালী ইউনিয়নে শতভাগ পাশ করা অন্যান্য স্কুলগুলো হলো কালিবিত্তি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম কল্যাণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম কাঠালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

প্রতিষ্ঠার পর বিভিন্ন বাঁধার মুখোমুখি হয়েও স্কুলটি এমন সাফল্যে খুশি আলোকিত স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক আরিফ চৌধুরী শুভ ও প্রধান শিক্ষক মো. নোমান হোসেন। তারা দুইভাই ২০১৩ সালে সুবিধাবঞ্চিত মাত্র ১১ জন শিক্ষার্থী নিয়ে এই বিদ্যালয়টি গড়ে তোলেন। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ৫ জন শিক্ষক রয়েছে। শিশু থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা শতাধিক। বিদ্যায়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে সরকারি বা বেসরকারি কোন সহযোগিতা ছাড়াই তারা বিদ্যালয়টি পরিচালনা করছেন। বছরের বিভিন্ন সময় এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন আয়োজনে জেলাভিত্তিক আলোচনায় আসলেও এবার শতভাগ ফলাফল অর্জন করায় বিদ্যালয়টি আবারো জনমুখে আলোচনার জন্মদিল।

১৮ নং কুশাখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন বলেন, ফরাশগঞ্জ গ্রামে এমন একটি বিদ্যালয় এটা অনেকের কাছেই কল্পনাতীত। আমি খোঁজ নিই মাঝে মাঝে।  ওখানেতো অনেক ছেলেমেয়ে পড়ে। শুনেছি সবাই পাশ করেছে এই বিদ্যালয় থেকে। যে বিদ্যালয়টি দিয়েছে সে অনেক কষ্ট করেই দিয়েছে। তাকে আমি সবার পক্ষ থেকে পুরষ্কিত করবো।

ঝাউডগী দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক এবং ফরাশগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা মাষ্টার আবু তাহের বলেন, আলোকিত স্কুলের এই সাফল্য এই গ্রামের সুনাম। এই স্কুল যে কত কষ্ট করে গড়ে তোলা হয়েছে তা আমি স্বচোক্ষে দেখেছি। যতটা কষ্ট করেছে ছেলেমেয়েদের নিয়ে তারতো সাফল্য আসতে হবেই। সবার জন্যে আমার শুভকামনা রইল।

আলোকিত স্কুলের এমন সাফল্যে ধন্যবাদ জানিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকতা আবু জাফর মো. সালেহ। তিনি বলেন, আমরা চাই আলোকিত স্কুল এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখুক।

লক্ষ্মীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ শাজাহান আলি বলেন, প্রত্যন্ত গ্রামের আলোকিত স্কুলের শতভাগ পাশের খবর আমি প্রথম ফেসবুকে দেখেছি। ভালো লেগেছে। এটাতো একটি সুসংবাদ সবার জন্যে।পুরো ইউনিয়নে মাত্র ৪টি স্কুল শতভাগ পাশ করলো। আলোকিত স্কুল তার মধ্যে একটি। আমি এই স্কুলের শিক্ষার্থীদের সাফল্য কামনা করি। সেই সাথে এমন সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে আশাবাদী।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সরিৎ কুমার চাকমা জানান, এবার লক্ষ্মীপুর জেলায় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ২৯৫২৯ শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৭৩১৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৯৩৪ জন। ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষায় ৮১৮৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭৯০৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০৪ জন। জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় ৮৯৯৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭৯৪১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৪ জন।

 

 

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

নজরুল ইসলাম তোফা

দুর্নীতিরোধে সরকারের জিরো টলারেন্স

নজরুল ইসলাম তোফা :: ঔপনিবেশিক আমলের ঘুনেধরা শাসনব্যবস্থা সর্বস্তরে যেন বিদ্যমান আছে। ...