ব্রেকিং নিউজ

আর নয় খুনি ধর্ষকদের জেল, জরিমানা বা ফাঁসি !

 

জুঁই জেসমিন :: হ্যাঁ, আর নয় খুনি, ধর্ষকদের জেল জরিমানা বা ফাঁসি! তাদের জন্য জানোয়ারখানা গড়ে তোলা হোক। কতকাল ধরে তো অপরাধীদের জেল জরিমানা, ফাঁসি, রিমান্ড,যাবৎ জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হচ্ছে, বন্ধ হয়েছে কি ধর্ষণ, খুন, দুর্নীতি লুটপাট হাঙ্গামা? হয়নি। এখন বলতে পারেন তাদের জন্য ‘জানোয়ারখানা’ কেন? জেলখানা তো আছেই? হ্যাঁ আছে। তবে তা জেলখানা নয়, আরামখানা। একজন অপরাধী অপরাধ করার আগে গর্ব করে বলে “শালার যা হবে হোক, খুন করে জেলে বসে খাবো।”

জেলখানা শব্দটা কারো মাঝে ভয়ভীতির কাজ করেনা, করবে কেন? যারা হাজতি তাদের কোনো কাজ থাকেনা। রাতদিন চলে ঘুম আড্ডা গল্পগুজব আর কার্ডখেলা, জেলের যাবতীয় কাজ কয়েদীরাই করে থাকে। আবার অনেক জেলখানায় জেলিদের উদ্দেশ্যে ভাল মানের খাবারও বিক্রি করা হয়। সময় মত তিনবেলা খাওয়া, গল্প আড্ডা, এটা অপরাধী বা আসামীদের আরাম না সাজা আপনারাই বলুন?হোস্টেলের খাবারের চেয়ে শতগুণে জেলখানার খাবার ভাল দেওয়া হয়। এখন বলতে পারেন এসব দেওয়ার অর্থ হল অপরাধীদের ভাল হওয়ার সুযোগ মাত্র।

তবে কজন জেল থেকে বের হয়ে ভাল কাজ করছে, ভাল হচ্ছে ?বরং যারা বিনা অপরাধে আসামী হচ্ছে, তারা আর ভাল থাকেনা, হয়ে ওঠে ভয়ংকর! আমি বেশ কয়েক জেল খাটা আসামীর সাথে কথা বলে দেখেছি, তাদের মধ্যে অনেকেই বলে জেল জীবনটাই নাকি বেশ ভাল, প্রথম প্রথম কিছুটা খারাপ লাগে, তবে তা আমদানি কক্ষে। আসামীদের রপ্তানি করা হলে, সেখানে মেট যারা যারা তাদের সাথে ভাল সম্পর্ক গড়তে পারলে বেশ সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায়, আর খাওয়াদাওয়া বেশ ভাল চলে। আবার তাদের মধ্যে অনেকে এও বলে, বাড়িতে স্ত্রী সন্তান পরিবার না থাকলে জেলেই সারাজীবন কাটাতে ইচ্ছে করে, কোনো চিন্তা নেই ভাবনা নেই এবং কী আয় রোজগার করার মাথায় কোনো চাপ থাকেনা। পরিবারের মায়া দায়দায়িত্বের জন্য শুধু মুক্তি পেতে মন চায় তাদের।

বর্তমানে এতিমখানা, হাফেজিয়া মাদরাসা, আর জেলখানার মধ্যে খুব একটা তফাৎ নেই বললেই চলে। হাস্যকর হলেও সত্যি, এক ঘটনা; এক লোক গরু চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়লে তার দুবছরের জন্য জেল হয়। কিন্তু জেলখানায় দীর্ঘদিন থাকতে থাকতে সে কয়েদীদের মধ্যে নেতা হয়ে যায়, মুক্তি পাওয়ার পর ঘরে ফিরে কোনো ক্রমই তার মন বসেনা। যেখানে কয়েদীরা তাকে ভয় করতো গুরু মানতো, নিজেকে বেশ ক্ষমতাধারী মনে হতো, সেখানে ঘরে ফিরে নিজেকে তার অসহায় হেয়-প্রতিপন্ন মনে হয় সমাজের কাছে। বেচারা আবার চুরি করা শুরু করে , তবে তা পেটের তাগিদে নয়, জেলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে। চুরি করতে গিয়ে ধরা পরার আগে, মালিকের ছেলের মাথাও ফাটিয়ে দেয়, যাতে অনেক বছর জেলে থাকতে পারে সে । স্বপ্ন তার দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। ফাঁসির রায় হয়ে যায়।

এ দেশের সুনাম ধন্য গবেষক, লেখক ও অধ্যাপক রেজাউল হক সুমন স্যার তাঁর লেখা প্রবচন অঞ্জলি ‘ বইয়ে প্রত্যেকটি উক্তিতে বাস্তবতা তুলে ধরেছেন বোধহয় এই জন্যই, যা- প্রত্যেক জীবনের তিন অধ্যায়ের সাথে মিলে যায়
তাঁরই উক্তি- (১)
পৃথিবীর প্রত্যেকটি মানুষ দু’টি সত্তা নিয়ে যাপিত, একটি সৎ অপরটি অসৎ।” (২) পৃথিবীতে কেউ হয় পথ, কেউ পথের দাবি, আবার কেউবা পথের কাঁটা।” সত্যিই তাই-কেউ পথ, কেউ পথের দাবি, আবার কেউ পথের কাঁটা। তবে জেলখানা মানেটা কি আরাম না হারাম? জেলে থাকা ইচ্ছে প্রবণতা, কেন অপরাধীর মাঝে দানা বাঁধে? কেন এই চার চারটে বর্ণ দিয়ে গাঁথা জেলখানা নামটি শুনে পায়ের তলা কেঁপে ওঠেনা অপরাধ করার আগে? লোভ ও লাভ মানুষকে কোথায় কোন নরকে কোন পথে পৌঁছাতে পারে ভাবা প্রয়োজন।

বেশ কিছুদিন আগে আমি ‘মন ও মানুষ’ নামে হাসান আলীর লেখা গল্পের বইয়ে একটি গল্প পড়েছিলাম এই অংকের মতই ব্যাপারটা-
“এক লোক যা জীবনো ছিপ দিয়ে মাছ ধরেনি কখনো, বেচারা একদিন বউয়ের বকুনি খেয়ে ছিপ নিয়ে রেগেমেগে মাছ ধরতে যায়। বাজি ধরে মাছ না ধরা অবধি বাড়ি ফিরবেনা। অনেকক্ষণ থাকার পর বড় ক্লান্ত হয়ে গেলে বিধাতাকে খুব মিনতি করে ডাকা শুরু করে, যাতে একটি মাছ বড়শিতে লাগে, একটি মাছ পেলেই সে চলে যাবে। সত্যি সত্যি মাছ উঠে, কিন্তু বিধাতার কাছে ওয়াদা ভুলে যায় সে- আনন্দ উল্লাসে আবার বড়শি জলে ফেলে, আবার মাছ ধরে,এভাবে বেশ কয়েকটা মাছ তোলার পর, হঠাৎ হাত ফসকে সব মাছ জলে পড়ে যায়, আনন্দমাখা প্রহর, মুহূর্তে পুত্রশোকের মতো ঝড় বয়ে যায় হৃদয়ে তার।” বিধাতা এমন ছোটোখাটো ভুল ত্রুটি নিয়ে দুনিয়ার বিচার দুনিয়াতেই করেন, কারণ এই ছোটো ভুল বা লোভ থেকে শিক্ষা হওয়ার সুযোগ দেন তিনি, বিবেক জাগানোরর জন্য। কিছু বিচার বিধাতা মানব শাসকদের হাতেও রাখেন পরীক্ষার জন্য। বিচার হয় তিনরকম (১) দুনিয়াতে কিছু বিচার আইন আদালত,বিচার সালিশ মারফৎ ২. কিছু বিচার আখিরাতে (৩) আর কিছু বিচার বিশ্ব প্রভু নিজ হাতেই করেন -যেমন, দুনিয়ার বিচার দুনিয়াতেই। এখন প্রশ্ন, মানুষের মাঝে তুমুল ক্ষোভ বা অভিমানের ঝড় কেন?কারণ অপরাধের তুলনায়, অপরাধীর না হচ্ছে বিচার না হচ্ছে সাজা, প্রত্যেক অপরাধীর বিচার সাজা না হলে, অপরাধ মুক্ত সমাজ আশা করা অসম্ভব।

পেপার পত্রিকা থেকে শুরু করে সব মিডিয়া গুলোতে দেখা যায়, আসামী বা অপরাধীদের তিনদিন বা সাত দিনের অধিক রিমান্ড আদালত মঞ্জুর করেন। আজ অবধি জনগণ কতটুকু বলতে পারেন, অপরাধীদের কেমন কিভাবে সাজা দেওয়া হচ্ছে আইনি ধারায় ? না তাদের রিমান্ড দেখানো হয়, না তাদের মুখের শুনানি শুনানো হয়। অপরাধীদের ভয়াল সাজা যদি দেশের মানুষ নিজ চোখে দেখতে না পায়, নিজ কানে শুনতে না পায়, টিভির পর্দা বা ইউটিউবে চোখ রেখে, তবে ভয় ভীতি হবে কথা থেকে বা সজাগ সচেতন হবে কথা থেকে? বেশিরভাগ আসামী অর্থের গুণ ভাগে রিমান্ড বা সাজা হতে মুক্তি পেয়ে ক্ষমতার ঢেকুর ফেলে বেশ দেমাগে।

গ্রামীণ, রবি, বাংলালিংক, রকমারি অফারের মতো অপরাধীদের সাজার পুরো প্যাকেজ – মেসেজ বা ভিডিও ফুটেজ ছেড়ে দেওয়া হলে প্রত্যেকের ফোন নাম্বারে, যারা অপরাধী তাদের কিছুটা হলেও টনক নড়বে। এতে নির্যাতনের কবল হতে রক্ষা পাবে অনেক নির্যাতিত মানুষ।

৯১/৯৭ কিংবা ৭৭ বা ৮০ সালের কথা বলি, সেকালে নাকি দেশে কোনো ঘটনা ঘটলে বা কোনো অপরাধীর ফাঁসি হলে, সারা দেশের হাটে-বাজারে ছোটো বড় হকারেরা হাতে কাগজ নিয়ে- গরম খবর, গরম খবর, বলে চিৎকার করতো। আর একটাকা বা দুটাকা করে ঘটনার চটি পাতা বিক্রি করতো, কৃষক মজুর শ্রমিক, বাজারের ক্রেতা বিক্রেতা পথিক সবাই কিনতো গরম খবরের কাগজ। এমন কোনো এলাকা নেই, এমন কোন লোক নেই যা ঘটনা গুলো জানতো না। নিজ নিজ এলাকাতে কেউ কুকাজ বা খুন খারাপি করলে তাকে জুতোর মালা পরিয়ে এলাকায় এলাকায় ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়ানো হতো।কিংবা প্রকাশ্য জনময়দানে মাইর দেওয়া হতো কঠিন ভাবে। সেকালের বেশির ভাগ এলাকার বিচারকই ছিলেন ন্যায় বিচারক। আর প্রত্যেক বাবা মা নিজ সন্তানকে বেশ গুরুত্ব দিয়ে বুঝাতেন বিভিন্ন ঘটনা শুনিয়ে, যাতে কোনো ক্রমই কেউ বাবা মায়ের মান হানি না করে ভুলভাল কাজে। আর ভুল করলে জনময়দানে এমনটি সাজা পেতে হবে, বাবা মায়ের প্রতি ছিলো ভয়, ছিলো শ্রদ্ধা। বাবা মায়ের প্রত্যেক কথা রাখা হতো। এ যুগে যেমন সম্মান শ্রদ্ধা একে অপরের প্রতি হালকা হয়ে গেছে তেমন সুকর্মের তুলনায় অপকর্ম ঢেরগুণে বেড়ে গেছে। সম্মান শ্রদ্ধা ক্ষমতাধারীর দুয়ারে দুয়ারে মহড়ার ঝলক মাত্র।
বাপ দাদার আমলেও দৈনন্দিনের পত্রিকা থাকতো অফিস থেকে শুরু করে ছোটো বড় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে। এখন বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা অফিসে পত্রিকা নেওয়া হয়না, রাখা হয়না। তাহলে ভাবুন দিনের পর দিন নজিরবিহীন ঘটনা ঘটবেনা কেন শিক্ষক ও ছাত্রীর মাঝে?কিংবা প্রত্যেক সমাজে-! বলতে পারেন সবার হাতে স্মার্ট ফোন, পত্রিকার প্রয়োজন আর কেন? হুম একদম তাই? তবে কে কতটুকু খবর রাখি আমরা?

রোজ পত্রিকায় শিশু ধর্ষণ নারী ধর্ষণের খবর-
দেশের খবর না রাখলে, অভিভাবক সহ ছেলেমেয়ে সচেতন হবেন কি করে আর শিক্ষকেই বা বুঝবেন কী করে তার দায়িত্ব কী, কতটুকু ? আর কি কি ভুলের সাথে জড়িতই বা আছেন।

যখন এইট নাইনে পড়ি তখনো বাজারের কম বেশি প্রত্যেক দোকানদার পত্রিকা রাখতেন পড়তেন। আমাদের উত্তরবঙ্গে পত্রিকা মানেই ছিলো দৈনিক ‘করতোয়া’। এই প্রযুক্তির যুগে দেশের মানুষ দেশের খবর কতটুকু রাখি আমরা? দেশে হচ্ছে কী, ঘটছে কী—-?

এখন যেই মার্কেটে যাননা কেন সব দোকানদার থেকে শুরু করে সবার হাতে হাতে স্মার্ট ফোন, পত্রিকা ছিটেফোঁটা কয়েকজনের হাতে —। পরিতাপের বিষয় হাতে হাতে স্মার্ট ফোন থাকা সত্তেও দেশের খবর অজানা!

সোনাগাজী মাদরাসার প্রিন্সিপাল সিরাজসহ মোট ১৬ জনের ফাঁসির রায় হয়েছে। এই রায় ষোলো কোটি মানুষের মধ্যে কত কোটি মানুষ জানে, বা বলতে পারবে ঘটনার বিস্তারিত? ব্যাপারটা নিজেই যাচাই করতে পারেন পরিচিত দশ পাঁচজনকে প্রশ্ন করে। আজ দেশের খবরাখবর রাখলে পেপার পত্রিকা পড়া হলে- অন্যের ঘটনা ও বিচার দেখে বা শুনে হাজার জন নিজ নিজ ভুল হতে বেরিয়ে আসতে পারে। যা প্রয়োজন তা যদি অজানা থাকে ঘটনা যদি চাপা থাকে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পেতেই থাকবে। এই সমাজ থেকে অপরাধ থেকে বেরিয়ে আসার নিস্তার নেই- একমাত্র সচেতনতা ছাড়া। আর সচেতনতার সূত্র হলো
প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে দৈনিক পত্রিকা পড়ার আইনত নির্দেশ দেওয়া এবং সমসাময়িক সব ঘটনা ছাত্রছাত্রীদের মাঝে আলোচনা করা হলে ভুল পথে পা বাড়ানোর সম্ভাবনা থাকবেনা। পত্রিকা এখন বেশির ভাগ অফিস বা বাসার দৈনন্দিনের সোপিছ, আর কিছু নয়, না পড়া হয় না দেখা হয়। মাঝে মাঝে খুব জোর শিরোনাম গুলোতে চোখ বুলিয়ে যায় মাত্র। প্রত্যেক ক্লাসের শুরুতে কম করে হলেও দু চার মিনিট দেশের ভাল মন্দ খবর আলোচনা করা হলে এতে শিক্ষার্থীরাই জীবন চলার পথ বেছে নিতে পারবে, কোনটি সুফল কোনটি কুফল? আর ঠিক অনুমান করে নিজ ভাগ্য রেখাও বদলাতে পারবে সুকর্মের দৌড়ে।

আজ এই অস্থির সমাজে- কজন মানুষ অপরাধীকে দেখে আসতে পারি? দেখার সুযোগ ও আইন উন্মুক্ত ভাবে নেই। একজন খুনি, ধর্ষক, কেন পর্দার আড়ালে থাকবে? কেন উন্মুক্ত ভাবে খুনিদের দেখে আসতে পারে না কেউ ? দিনে দিনে দশজন করে কেউ খুনি বা ধর্ষককে দেখতে যান, দেখবেন লজ্জায় চোখ তুলে তাকাতে পারবেনা কোনো অপরাধী নিজ অপকর্মের জন্য। এতে তাদের বিবেকের জন্ম হবে লজ্জায়, নতজানু হবে ভুলের জন্য। আর ফাঁসি দেওয়া মানেই তো মুক্তি। ফাঁসিতে কয়েক সেকেণ্ডে, অপরাধী কি করে বুঝবে যন্ত্রণার ভয়াবহ স্বাদ? বুঝবেনা! তিলে তিলে যন্ত্রণা দেওয়া উত্তম বিচার। আর এই জন্য চিড়িয়াখানার মতো জানোয়ার খানার প্রয়োজন। শুধু জানোয়ারখানায় রাখা না, নুসরাতকে যেভাবে পুড়িয়ে মারা হয়েছে, লক্ষ কোটি মানুষের মাঝে প্রকাশ্যে মূল অপরাধীকেও পুড়িয়ে মারা দরকার। আবরার হত্যার সকল অপরাধীদের প্রত্যেককে ওভাবেই মারা উচিৎ যেমনটি আবরারকে মারা হয়েছে। এক বিন্দু মুখে জল পেতে যেন ছটপট করে। মানুষ যখন জানোয়ারের চেয়ে আরও ভয়ংকর হয়, তবে তাদের জন্য ভদ্র সাজা বেমানান। রিমান্ড বা ফাঁসি যা ভীতির সৃষ্টি করেনা জাতিকে, এসব সাজা মানে রূপকথার কাহিনী মাত্র। অন্যায় অপকর্মের জন্ম মাত্র। সমাজে দৈনন্দিন ভয়াবহ ঘটনা ঘটেই চলছে, মোটা অংকের টাকার খেলায় ঘটনাগুলো ধামা চাপা দিয়ে অপরাধীরা দিব্বি ঘুরে বেড়াচ্ছে। আবার অনেক সময় হয়তো কিছু অপরাধীর জেল বা জরিমানা করা হয়। জরিমানার বিষয়টা আমার কাছে বেশ আপত্তিকর মনে হয়, কেননা এই জরিমানার প্রচলনে হাজার অপরাধী, জরিমানা দিয়ে দিন দিন আরও অপরাধের রঙ ছড়িয়ে চলছে। তাদের কাছে টাকাই মুক্তি টাকাই শক্তি। ছোটোবেলায় নানির কাছে শোনা, লাঠিকে নাকি যমও ভয় পায়। গ্রেফতার করা অপরাধীকে যখন আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়, তাদের দেখে মাঝে মাঝে মনে হয় বরযাত্রীর দলবল। ভিড়ের মাঝে সহজে আসামীকে চিহ্নিত করা মুশকিল হয়ে ওঠে- আসামীদের পোষাক হবে নাম লেখা সহ একেবারে ভিন্ন, যাতে সহজেই বুঝা যাই এই সিরাজ বা এই অমুক অপরাধী।

শিশু কিশোর সহ সকল শ্রেনীর মানুষ জানোয়ারখানা গিয়ে দেখুক রোজ; জঘন্য কাজ করলে- কেমন সাজা হতে পারে! এমনটি করলে আজকের মানব শ্রেণীর কেউই অপরাধী ও ধর্ষক হয়ে উঠবেনা। মানুষ রূপী জানোয়ারদের পোষাক হবে কালো আর প্রত্যেকের পোষাক তথা গেঞ্জির বুকে লেখা থাকবে খুনি বা ধর্ষক শব্দটা সহ তাদের নাম- যেমন-: খুনি সিরাজ বা ধর্ষক সিরাজ আর তাদের খাদ্য হবে বাসি পচা খাবার! দৈনন্দিন হোস্টেল, হোটেল মোটেল থেকে কত বাসি খাবার ডাস্টবিনে ফেলা হয়, সেই বাসি খাবার ডাস্টবিনে না ফেলে তাদের আহার হিসেবে ঠিক করা হলে,
বুঝবে জীবন আসলে কী, আর ভুল বা অপরাধ করার পরিণাম কী? চায়ের চুমুকের বদল চলবে লোহার খাঁচার ভেতরে রোজ চাবুক। এসব দেখে বাকি কেউই ভুল পথে যাবেনা।

প্রত্যেক শিশু কিশোরদের বছরে দু বার আনুষ্ঠানিক ভাবে ‘জানোয়ারমেলা’ গিয়ে অপরাধীদের দেখে নিয়ে আসা ও তাদের কু’কর্মের ইতিহাস জানানো এমন আইন পাশ হলে আগামীর কোনো শিশু, কিশোর, তরুণ ভুল পথে যাবেনা। কেউই হবেনা ধর্ষক, হবেনা খুনি, তাদের খাদ্য ও অবস্থান দেখে। কিংবা পরিবার থেকেও যে যার মতো যে কোনোদিন চিড়িখানার মতো জানোয়ারখানা’ দেখে আসতে পারে টিকিট কেটে।

জানোয়ারখানার পাশে বিজ্ঞান মেলা বা ‘সৃষ্টির আসর’ নামে প্রতিদিনের মেলা করার ব্যবস্থা হলে আরও ভাল হবে-কারণ শিশু কিশোর নতুন নতুন আবিষ্কার দেখে নিজেকে আবিষ্কার করার স্বপ্ন দেখতে পারবে। আমরা দৈনন্দিন যা ব্যবহার করি বা উপভোগ করি, কজন বলতে পারবো, টেলিভিশন কার আবিষ্কার, বিমান কার আবিষ্কার বা মোবাইল ফোন কার আবিষ্কার -বৈদ্যুতিক বাতি কে আবিষ্কার করেছেন? বেশির ভাগই বলতে পারবোনা!

দিনের পর দিন ধর্ষণ খুন এসব থেকে পরিত্রানের বড় সমাধান হলো জানোয়ার খানার ব্যবস্থা। আর শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে নিজেকে বিকশিত করার আয়না হলো ‘সৃষ্টির আসর’।

জান্নাত আর জাহান্নাম আমরা মুখে শুনেছি মাত্র! এবার দুনিয়ার ‘জানোয়ারখানা’ আর সৃষ্টির আসর’ বলে দেবে জান্নাত কী আর জাহান্নাম কী—? এতে প্রমাণ হবে কবি শেখ ফজলল করিমের সেই আলোচিত কবিতা-কোথায় স্বর্গ কোথায় নরক কে বলে তা বহুদূর? মানুষের মাঝে স্বর্গ নরক মানুষেতে সুরাসুর।”

 

 

 

 

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

অর্ণব আশিক’র কবিতা ‘ঝড়’

    ঝড় -অর্ণব আশি কিছু রোদ ছুঁয়ে যায় বৃষ্টির পর কিছু ...