আরিফা হত্যার : এক বছরেও গ্রেফতার হয়নি ঘাতক

পাবনার চাঞ্চল্যকর শিক্ষিকা আরিফা হত্যাকারীকে চিহ্নিত করতে পারলেও দীর্ঘ ১ বছরেও হত্যাকারীকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এদিকে গত ২২ ফেব্রুয়ারী দুই জনকে অভিযুক্ত করে পুলিশ আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করেছে।

গত বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারী নিজ বিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষের ভেতর ঘাতকের নির্মম ছুরিকাঘাতে খুন হন পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ভায়নাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা আরিফা খাতুন। হত্যাকান্ডের পর পাবনাসহ সারা দেশের শিক্ষকেরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। শিক্ষ ও সুশিল সমাজের আন্দলনের তোপের মুখে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন স্থানীয় সাংসদ স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট শামসুল হক টুকু এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ডা. আফসারুল আমিন। পরে এক জন সভাবেশে তারা ঘোষণা দিয়েছিলেন- মূল ঘাতককে খুব শিগগিরই গ্রেফতার করা হবে। কিন্তু এরপর ১ বছর পেড়িয়ে গেলেও পুলিশ ঘাতককে গ্রেফতার করতে পারেনি। ঘাতক আরিফারই মামাতো ভাই নাজমুল । আরিফা তাকে বিয়ে না করে অন্যত্র বিয়ে করার কারণেই এ হত্যাকান্ড হয়ে ছিল বলে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। পুলিশ সূত্র তা নিশ্চিতও করে।

নিহত আরিফার পিতা হালিম তালুকদার বলেন, হত্যাকারীকে চিহ্নিত করতে পারলেও পুলিশের আন্তরিকতার অভাবে ঘাতককে গ্রেফতার করা হচ্ছে না। গত বছরের ২৭ ফেব্রয়ারী স্কুল চলাকালে শ্রেণীকক্ষে ঢুকে প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে শিক্ষিকা আরিফা খাতুনকে খুন করে সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার শিমলা গ্রামের নূরু মিয়ার ছেলে নাজমুল।

হত্যাকান্ডের দুদিন পর ২৯ ফেব্রয়ারী প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ডা. আফসারুল আমিন ঘটনাস্থর পরির্দশনে এসে স্কুল প্রাঙ্গণে অভিভাবক সমাবেশ করে খুনিকে দ্রুত গ্রেফতারের ঘোষণা দেন।

তিনি আরো জানান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রীর ঘোষনার পর  ১২ মার্চ সাঁথিয়া উপজেলা রেস্ট হাউসে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট শামসুল হক টুকুর সঙ্গে আমি এবং আমার স্ত্রী শামসুন নাহার মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তিনিও দ্রুত খুনিকে গ্রেফতার করা হবে বলে আশ্বাস দেন। কিন্তু এতোদিনেও পুলিশ ঘাতককে গ্রেফতার করতে না পারায় পুলিশের দক্ষতা ও আন্তরিকতা নিয়ে আমাদের মনে প্রশ্ন উঠেছে।

এ ব্যাপারে আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল হাসান সরকার জানান, স্কুল শিক্ষিকা আরিফা হত্যার ঘাতক নাজমুলকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েও ব্যর্থ হয়েছে। তবে তাকে গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরো জানান র্দীঘ তদন্ত শেষে গত ২২ ফেব্রুয়ারী নাজমুল ও আতাইকুলা থানার চৌবাড়িয়া গ্রামের হারান আলীর ছেলে রবিউল ইসলামকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগ পত্র দেওয়া হয়েছে।

ইউনাইটেড নিউজ ২৪ ডট কম/কলিট তালুকদার /পাবনা

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

আটক

আলীকদমে যৌথবাহিনীর অভিযানে ইয়াবাসহ আটক ২

সাজিদ হাসান, বান্দরবান প্রতিনিধি:: আলীকদম বাজার সংলগ্ন মার্মা পাড়ায় শনিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ...