আরব আমিরাতের মরুভূমিতে

কাজী আসমা আজমেরি

কাজী আসমা আজমেরি :: অবশেষে আমার দেখা হলো সেই আরব আমিরাতের কাঙ্খিত সেই মরুভূমি, জীবনে প্রথম মরুভূমি দেখেছিলাম সাহারা মরুভূমি মরক্কোতে ২০১০ সালে আজও চোখের সামনে প্রতিটি মুহূর্ত ভেসে আছে। কখনোই ভুলবো না সেই মরুভূমির গল্প এবং আমার সেই মরক্কোর ভালোবাসা।

দুবাইয়ের সাফারি নাকি বিশ্ব বিখ্যাত । বন্ধুরা আত্মীয়-স্বজনরা আমায় সব বলতে লাগলো এটা না দেখে যদি আমি চলে যাই , তাহলে নাকি জীবনটাই বৃথা হবে। অপেক্ষা করছিলাম সুইডিশ বন্ধু মাটিও আসলে, তার সাথে একসাথে দেখব, কিন্তু তার সময় না থাকায় দেখা হয়নি ‌। অবশেষে শুক্রবার দিন আমার বড় ভাইয়ের ট্রাভেল এজেন্সিতে উনি বুক করে দিলেন শনিবারের ট্রিপটা। অগত্যা না যে পারলাম না। মনে মনে অনেক আশা ছিল অনেক সুন্দর হবে কারণ আমিরাতের ইন্ডিয়ান বহু ছবির শুটিং হয়েছে মরুভূমিতে কিংবা সেক্স অফ দ্য সিটি মুভি দেখার পর থেকেই দুবাই সম্পর্কে আমার কৌতূহল যেন বেড়েই চলেছে। তারপর গতকাল দুপুরে ডেজার্ট সাফারি চললাম, মনে তো অনেক excitement কিনা কি হবে?

কাজী আসমা আজমেরি

আরব আমিরাতের কথা শুনলেই মনের পর ভেসে ওঠে সেই মরুভূমির আলিফ লায়লা থেকে শুরু করে এরাবিয়ান নাইটস এর কথা। আরবের মরুভূমিতে যাবো সেই জন্য তো একটা প্রস্তুতির ব্যাপার আছে, ট্যুর গাইড যখন আমাদের সুভেনিয়র শপে নামালো, আমাদের সবাই আমরা এরাবিয়ানদের মতো সেজে নিলাম। আমার সঙ্গে অবশ্য দুজন হ্যান্ডসাম তার্কিশ এরাবিয়ান হয়ে গেল। এবং সঙ্গে আর এক দম্পতি যারা এসেছে আঙ্কারা থেকে তাদের ছোট্ট মেয়ে নালিশা কে নিয়ে। আমাদের tour আমরা আমি সহ 6 জন, হোটেল থেকে পিক আপ করার পরে ঝটপট সবার সাথে পরিচিত হয়ে নিলাম ‌।

স্পেশালি তুর্কীস দম্পতি অনেক মজার। তারপর রওনা দিলাম অনেক আকাঙ্ক্ষিত সেই মরুভূমির উদ্দেশ্যে, to be honest just broken my heart. অনেকক্ষণ যেতে যেতে ড্রাইভার শুধু থামায় থামায় আর ফোনে কথা বলে যেটা খুবই কমন প্র্যাকটিস, অন্য ড্রাইভার দের আসার জন্য। তারপর সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটায় পৌছালাম সেই আকাঙ্খিত মরুভূমিতে হেলতে-দুলতে, ড্রাইভার অবশ্য তার দক্ষতার সাথে উঁচু-নিচু মরুভুমির পাহাড়ে আমাদের ঘুরিয়ে দেখালো, ড্রাইভিং টা অনেক মজার ছিল যেটা বলে শেষ করতে পারবো না।

It’s a fun drive. তারপর আমরা মরুভূমির মধ্যে খানে নামলাম ছবি তোলার জন্য এবং সৌন্দর্য দেখার জন্য। মরুভূমির সেই ভালো পথে হাঁটা খুবই মজার এবং তার ছুঁয়ে দেখা আর মজার, nothing to compare Morocco. মরক্কোতে আমরা তিনরাত দিন উটের পিঠে মরুভূমির পথে ছিলাম। অন্য অনুভূতি সেটা অন্য কোন সময় শুনিয়ে দিব।

এখানকার মরুভূমি যেমন বড় নয় এক পাশ থেকে আরেক পাশে শহর দেখা যায়, সেই সাহারা ও মরুভূমি এখনো শেষ ছিল না।
তারপর কিছুক্ষণ ছবি তোলার পরে আমরা চলে গেলাম সূর্যাস্ত দেখতে, রাস্তার পাশে কোনরকম দায়সারাভাবে দাঁড়ালো এক জায়গা, অনেক আশা করে গিয়েছিলাম যে সূর্যাস্ত দেখবো মরুভূমির মধ্যে খানে সেজন্য আমরা অনেক সেজেগুজে আরবদের মত কত কিছু করলাম কিন্তু আশাটা টোটালি মাটি হল। সাদামাঠা সূর্যাস্ত দেখে গাড়ি নষ্ট হয়ে গেল, তারপর ড্রাইভার অনেক চেষ্টা করে গাড়িটা ঠিক করে আমাদের নিয়ে গেল যেখানে রাতের মনোরঞ্জন অনুষ্ঠান।

কাজী আসমা আজমেরি

এটা একেবারে মরুভূমির মধ্যে খানে একটি তাবু করে মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা করা জায়গাটা অনেক সুন্দর কিন্তু যখন আমরা আসলাম তখন সূর্য চলে গিয়েছে, (মনে মনে ভাবলাম ইউরোপ আমেরিকা কিংবা আফ্রিকান tour মানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ইতিহাস কালচার কে জানা ও সুন্দর জায়গা গুলো কে সুন্দর ভাবে গুছিয়ে প্রদর্শন করা, কিন্তু বাংলাদেশি পাকিস্তানি কিংবা ইন্ডিয়ান tour মানে এক জায়গা থেকে নিয়ে আরেক জায়গায় পৌঁছে দেয়া আর কয়েকটা ছবি তোলা)

তারপরে আমরা চলে আসলাম হচ্ছে মরুভূমির মধ্যেখানে যেখানে, আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিল রাতের মনোরঞ্জন ,আরবের রাতের মনোরঞ্জনের কথা শুনলেই মনে আনন্দ ফুটে ওঠে। তো এই আরব্য রজনীতে আমাদের নর্তকীর এবং তাদের কলাকৌশল দেখে পর্যটকদের মুগ্ধ করে আমিও মুগ্ধ হয়েছি।

তবে বলা যায় রাত শেষে Tourটি মন্দ ছিল না। এটার দাম ছিল 250Aed , VIP Tour, এখানে খাবার কোয়ালিটির যা খুবই ভালো ছিল। আপনি অবশ্য দায়রা তে খুঁজলে ১০০ থেকে দেড়শ Aed ভিতরে পেয়ে যাবেন same tour । কখনো মরুভূমিতে আসেনি তাদের জন্য অসম্ভব নতুন অনুভূতি নিয়ে আসবে দুবাইয়ের Tour, আরব আমিরাতে সবকিছুই আর্টিফিশিয়াল, শুধুমাত্র এই মরুভূমিটা বাদে। এখানে soul খুঁজে পাওয়া খুব কষ্টসাধ্য।

 

 

 

লেখক: বাংলাদেশি নারী বিশ্বপর্যটক।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

কবীর চৌধুরী তন্ময়ের ‘ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু’ গ্রন্থমেলায়

স্টাফ রিপোর্টার :: অমর একুশে গ্রন্থ মেলায় কালো প্রকাশনী থেকে বেরিয়েছে বাংলাদেশ ...