আম্পানে বিধ্বস্ত পশ্চিমবঙ্গ পরিদর্শনে নরেন্দ্র মোদি

ডেস্ক নিউজ :: অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ জনে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ তথ্য জানানোর পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতি মেরামতে রাজ্য তহবিল থেকে এক হাজার কোটি রুপি বরাদ্দ দিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে গতকাল শুক্রবার রাজ্যে আম্পানে বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এক হাজার কোটি রুপির আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

গতকাল স্থানীয় সময় পৌনে ১১টায় কলকাতায় নামেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষসহ দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। এরপর হেলিকপ্টারে বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যপাল। তারা রাজারহাট, গোসাবা, মিনাখাঁ, হাসনাবাদ, সন্দেশখালী, হিঙ্গলগঞ্জসহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন।

আম্পানের তাণ্ডবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া জেলাগুলোর একটি উত্তর চব্বিশ পরগনা। বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে এই জেলার বসিরহাট কলেজের মাঠে অবতরণ করে মোদির হেলিকপ্টার। বসিরহাট কলেজে আর্থিক সহায়তার বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে বসেন মোদি, মমতাসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যকে আম্পানের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় এক হাজার কোটি রুপি অর্থ সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী। তবে কেন্দ্র কীভাবে এই অর্থ সহায়তা দেবে, তা এখনও স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন মমতা। আম্পানে নিহতদের পরিবারপ্রতি দুই লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। আহতদের প্রত্যেককে দেওয়া হবে ৫০ হাজার রুপি।

বসিরহাটে বৈঠকের পর স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টায় ওড়িশার রাজধানী ভুবনেশ্বরের উদ্দেশে রওনা হন মোদি। আম্পানে ওড়িশার ক্ষয়ক্ষতির অবস্থা খতিয়ে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। আম্পানের ধ্বংসযজ্ঞ দেখতে ৮৩ দিন পর রাজধানী ছেড়ে বাইরে এলেন মোদি। ভারতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে তিনি রাজধানীতে ছিলেন। এর আগে সর্বশেষ ফেব্রুয়ারিতে মোদি উত্তর প্রদেশ গিয়েছিলেন।

গত বুধবার পশ্চিমবঙ্গে আঘাত হানে অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় আম্পান। রাজ্য প্রশাসন জানিয়েছে, ৪০০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তাণ্ডব চালিয়েছে আম্পান। এর মধ্যে সাত-আটটি জেলা খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরের অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ। এ ছাড়া কলকাতায়ও প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে কলকাতায় ১৯ ও রাজ্যের অন্যত্র ৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। ফসলের ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন তৈরির পাশাপাশি কৃষকদের সহায়তার রূপরেখা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

উত্তর শহরতলি এবং উত্তর চব্বিশ পরগনায় প্রায় ৪৫ হাজার বাড়ি কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলার প্রায় সর্বত্র বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন। উপড়ে পড়েছে প্রায় ১১ হাজার গাছ। পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নন্দীগ্রামের দুটি ব্লকের ছয় হাজারের বেশি মানুষ এখন খোলা আকাশের নিচে। তাদের ঘরবাড়ি সব বিধ্বস্ত বা তলিয়ে গেছে।

নদিয়ায় প্রচুর ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই পেয়েছেন প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষ। মুর্শিদাবাদে পাঁচ হাজারের বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন সেখানকার ১১ হাজার মানুষ। সেখানে সাড়ে ১৬ হাজার হেক্টর জমির ফল ও দেড় লাখ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানেও ফসলের ক্ষতি হয়েছে বিপুল। জেলার ৭৫ শতাংশ ধান কাটা হয়ে গিয়েছিল। কেটে রাখা ধান পানিতে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে চাষ করা তিল পানিতে ডুবে গেছে। অন্যদিকে সুন্দরবন অঞ্চলের বহু বাঁধ ভেঙে লোকালয়ের পর লোকালয় প্লাবিত হয়েছে। ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মে মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৯২ জন

স্টাফ রিপোর্টার :: করোনা ভাইরাস সংক্রমণে লকডাউন পরিস্থিতি থাকা সত্ত্বেও মে মাসে ...