ব্রেকিং নিউজ

অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার প্রধান লক্ষ্যবস্তু হবে জনসংখ্যাতাত্ত্বিক লভ্যাংশ অর্জন: পরিকল্পনামন্ত্রী

সোহানুর রহমানকেনিয়ার নাইরোবি থেকে :: পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ও ২০৪১ সালের মধ্যে মধ্যে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্যে অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার প্রধান লক্ষ্যবস্তু হবে জনসংখ্যাতাত্ত্বিক লভ্যাংশ অর্জন। বর্তমান তরুণ প্রজন্মকে ক্ষমতায়িত করার উপর নির্ভর করছে ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’।  
 
নারীর ক্ষমতায়ন এবং প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মপন্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে ১৭৯টি দেশের অংশগ্রহণে মিশরের কায়রোতে অনুষ্ঠিত হয় ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন পপুলেশান অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইসিপিডি)। সেই আয়োজনের ২৫ বছর পূর্তিতে “আইসিপিডি টোয়েন্টিফাইভ” শীর্ষক তিন দিনব্যপী এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত নাইরোবি সামটি অন আইসিপিডি-২৫ অনুষ্ঠানে  “জনসংখ্যাতাত্ত্বিক লভ্যাংশ ও বৈচিত্র্য” শীর্ষক এক প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য দিতে গিয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। 
 
গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ যে দৃশ্যমান অগ্রগতি করেছে তা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এসডিজি অর্জনে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে উত্তরণের জন্য বাংলাদেশের জনসংখ্যাতাত্ত্বিক লভ্যাংশ অর্জন খুবই গুরুত্বপূর্ন। এর জন্য একটি ত্রৈমাত্রিক কৌশল গ্রহণ করা দরকার। যেমন- যৌন এবং প্রজনন স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এবং জ্ঞানকে জোরদার করা, কমপক্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষায় স্মার্ট বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি এবং শ্রমবাজার প্রস্তুত করা এবং সর্বোপরি যুবদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনিকে শক্তিশালী করা। একটি সম্মিলিত ও ব্যাপক প্রচেষ্টা ছাড়া সরকারের একার পক্ষে জনসংখ্যাতাত্ত্বিক লভ্যাংশ অর্জন করা সম্ভব নয়। আইসিপিডির (ইন্টারন্যাশনাল কনফারন্সে অন পপুলশেন অ্যান্ড ডভেলেপমন্টে) অসম্পূর্ণ এজেন্ডা শেষ করতে আইসিপিডি কর্মসূচী এবং এসডিজির সাথে মিল রেখে আসন্ন পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাটি হবে কর্মভিত্তিক পরিকল্পনা। এতে মানবসম্পদ সৃষ্টির উপর বিশেষ মনোযোগ দেয়া হবে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।
 
এসময় প্যনেলে ছিলেন- ম্যারিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সোনাল্ডে দেসাই, তালা লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী শিবানি সারওয়া, জাপান সরকারের পরিচালক ডঃ রিইকো হাইয়াশি, করোনেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পারফেইট এম ইলোন্ডিউ এন্যেগুই, জার্মান সরকারের পার্লামেন্টারি স্টেট সেক্রেটারি ডঃ মারিয়া ফালাকবার্থ, বুলগেরিয়ার জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি জোর্জি পানায়াটোভ এবং নাইজারের জনসংখ্যা মন্ত্রী ডঃ আমাদু আইসসাটা ইসসা মাইগা।
 
১২ থেকে ১৪ নভেম্বর কেনিয়ার নাইরোবিতে অনুষ্ঠিত “আইসিপিডি টোয়েন্টিফাইভ” সম্মেলনের আয়োজন করেছে কেনিয়া ও ডেনমার্কের সরকার এবং ইউএনএফপিএ।  ‘নাইরোবি সামিট’ নামে পরিচিত এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য, ১৯৯৪ সালে কায়রো সম্মেলনে অংশ নেয়া ১৭৯টি দেশের সরকারের দেয়া রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতিসমূহ সম্পূর্ণ এবং নিশ্চিতরূপে বাস্তবায়নে পদেক্ষপ নেয়া। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিরোধযোগ্য প্রসবকালীন ও প্রসবপরবর্তী মাতৃমৃত্যু, পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে সব নারীর দাবি আদায় এবং নারী ও মেয়েদের প্রতি সহিংসতা নির্মূলের প্রতিশ্রুতি জানিয়ে শেষ হয়েছে নাইরোবি সম্মেলন।সম্মেলনের  অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সরকার ও বেসরকারি সংস্থাসমূহের প্রতিনিধি, তরুণ ও ব্যবসায়ী সমাজের প্রতিনিধিরাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
 
 স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক,  মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেহের আফরোজ চুমকি এমপি, ফখরুল ইমাম এমপি, সংসদ সদস্য অ্যারোমা দত্ত, এসপিসিপিডি’র সহকারী সচিব ও উপপ্রকল্প পরিচালক একেএম আব্দুর রহিম ভূঞা, স্বাস্থ্য ও পরিবার মন্ত্রণালয়ের সচিব ইউসুফ হারুন ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আইসিপিডি সম্মেলনে অংশ নেন। অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন ব্রাক ও পিপিআরসির চেয়ারম্যন ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল বাংলাদেশের দেশীয় পরিচালক আশা টোরকেলসন প্রমুখ।
Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

দৈনিক সংগ্রাম সম্পাদক তিন দিনের রিমান্ডে

স্টাফ রিপোর্টার :: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেফতার দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার সম্পাদক ...