ব্রেকিং নিউজ

অনুমোদন পেল ২০ বছরের প্রেক্ষিত পরিকল্পনা

স্টাফ রিপোর্টার :: দেশ হবে উন্নত। গ্রাম বদলে যাবে। শহরের সব সুবিধা যাবে গ্রামে। বাড়বে মাথাপিছু আয়। ২০৪১ সালে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হবে ৯ দশমিক ৯ শতাংশ। আগামী ২০ বছরে গড় প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ৯ শতাংশে। এমন নানা লক্ষ্য নিয়ে অনুমোদন পেয়েছে দ্বিতীয় রূপকল্প প্রেক্ষিত পরিকল্পনা।

২০২১ সাল থেকে ২০৪১ সালের মধ্যে চারটি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এ প্রেক্ষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে সরকার। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাটি তৈরি করেছে সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)। এতে বলা হয়েছে: উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছাতে মানুষের প্রত্যাশিত গড় আয়ুষ্কাল বেড়ে দাঁড়াবে ৮০ বছরে।

এ ক্ষেত্রে ২০১৮ সালের হিসাবে গড় আয়ু ৭২ দশমিক ৩ বছর থেকে ২০৩১ সালে বেড়ে হবে ৭৫ বছর। এ ছাড়া এই সময়ের মধ্যে মোট বিনিয়োগ ৪৬ দশমিক ৯ শতাংশ হবে। মানুষের মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে ১৬ হাজার ৯৯৪ ডলারে এবং মোট রাজস্ব আদায় হবে ২৪ দশমিক ১ শতাংশ। মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও এনইসি চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে ব্রিফিং করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান।

এ সময় পরিকল্পনা সচিব মো. নূরুল আমিন, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সদস্য সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য জাকির হোসেন আকন্দসহ অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান জানান, উন্নত দেশে যেতে এ পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করা হবে। সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর হবে কি না, সেটি পরের বিষয়। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সোনাদিয়া দ্বীপের জীববৈচিত্র্য বিবেচনায় সেখানে বন্দরের পরিবর্তে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে।

পরিবেশের ওপর গুরুত্ব প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এ নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যে কোনো ডকুমেন্ট সহজ, সরল ও সুন্দর বাংলায় লিখতে হবে। তাছাড়া প্রেক্ষিত পরিকল্পনাটি তৈরির ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময় ২০১১ সালের তথ্য ব্যবহার হয়েছে। সেটি আপডেট করতে হবে।

এ ছাড়া পরিকল্পনাটির শুরুতেই একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট যুক্ত করতে হবে। সামাজিক নিরাপত্তার আওতা বাড়াতে হবে। বয়স্ক ও স্বামী পরিত্যক্তদের বেশি করে ভাতার আওতায় আনতে হবে। ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য কমানোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী নানা পূর্বাভাস শোনা যাচ্ছে। ঝড় যখন আসবে তখন আমরা মোকাবেলা করব। তাই বলে ঝড় আসার আগেই দরজা-জানালা বন্ধ করে রাখাটা ঠিক হবে না। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যে কোনো পরিকল্পনাই নিজস্ব সম্পদের ওপরই নির্ভর করতে হবে। আগে বৈদেশিক সহায়তানির্ভর ছিল আমাদের অর্থনীতি। এখন অনেক অগ্রগতি হওয়ায় সে অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে।

ড. শামসুল আলম জানান, তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পরিকল্পনায় ব্লক চেইন, আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স, আইওটি ইত্যাদি বিষয় যুক্ত করতে পরামর্শ দিয়েছেন। এ ছাড়া বৈঠকের আলোচনায় এসেছে খরা ও লবণাক্ত সহিষ্ণু জাতের ফসল আবিষ্কার বাড়াতে হবে। মাটি ছাড়া ভাসমান চাষ পদ্ধতির ব্যাপক প্রসার ঘটাতে হবে।

অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদানের বিষয়টি তুলে ধরতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া আরও যেসব পরামর্শ পাওয়া গেছে সেগুলো যুক্ত করে আগামী এক মাসের মধ্যে অনুমোদিত খসড়াটি পুরোপুরি চূড়ান্ত করে প্রেসে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সূত্র জানায়, ২০৪১ সালে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে আরও যেসব লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, সেগুলো হলো মুদ্রাস্ফীতি হবে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। জনসংখ্যা প্রবৃদ্ধি হবে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। মোট জাতীয় সঞ্চয় হবে মোট জিডিপির ৪৬ দশমিক ৭ শতাংশ। মোট দেশজ সঞ্চয় ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ। এ ছাড়া মোট বিনিয়োগ হবে ৪৬ দশমিক ৯ শতাংশ। এর মধ্যে সরকারি বিনিয়োগ (পিপিপিসহ) হবে ৮ দশমিক ৯ শতাংশ। বেসরকারি (পিপিপিসহ) বিনিয়োগ হবে ৩৮ শতাংশ। বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের (এফডিআই) লক্ষ্য হচ্ছে ৩ শতাংশ।

নতুন প্রেক্ষিত পরিকল্পনার প্রক্ষেপণে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ২ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০৩১ সালে দাঁড়াবে ৯ শতাংশে। সেটি আবার বাড়তে বাড়তে ২০৪১ সালে গিয়ে হবে ৯ দশমিক ৯ শতাংশ। সেই সঙ্গে চরম দারিদ্র্যের হার ২০২০ সালে ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ থেকে কমে ২০৩১ সালে পৌঁছাবে ২ দশমিক ৫৫ শতাংশে ।

সেটি পরিকল্পনার শেষ বছর ২০৪১ সালে কমে দাঁড়াবে শূন্য দশমিক ৬৮ শতাংশে। অন্যদিকে মাঝারি দারিদ্র্য বর্তমান বছরের ১৮ দশমিক ৮২ শতাংশ থেকে কমে ২০৩১ সালে দাঁড়াবে ৭ দশমিক শূন্য শতাংশে । পরিকল্পনার বাস্তবায়ন শেষে ২০৪১ সালে এ হার হবে ৩ শতাংশের নিচে।

পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে বৈষম্য হ্রাস, ধারাবাহিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন, দারিদ্র্য নিরসন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রফতানি বহুমুখীকরণ, বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা, লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা, পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা, টেকসই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন ব্যবস্থাপনা এবং এলডিসি উত্তরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার প্রস্তুতি।

পরিকল্পনায় আরও যেসব বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে সেগুলোর মধ্যে কয়েকটি হচ্ছে- দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার, জ্বালানি খাতের উন্নয়ন, যোগাযোগ খাতের বিশেষ উন্নয়ন, তথ্য ও প্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণসহ বিভিন্ন বিষয়।

এ ছাড়া সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার পূরণে গ্রাম ও শহরের মধ্যে বৈষম্য কমানোর জন্য সব ধরনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে পরিকল্পনাটিতে। প্রসঙ্গত, এর আগে দেশের প্রথম প্রেক্ষিত পরিকল্পনাটি (২০১০-২০২১) তৈরি করা হয়। এটি বাস্তবায়ন এনইসিতে করা হয় ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০১০-১৫) ও সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০১৬-২০) মাধ্যমে।

Print Friendly, PDF & Email
0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য ঘরের ব্যবস্থা : ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান বলেছেন, ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য আরও ...