শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রথম পূণর্মিলনী’র কমিটি নিয়ে তুমুল বিতর্কের রেশ ছড়িয়ে পড়ায় অনিশ্চয়তায় হাবুডুবু খাচ্ছে আগামী ১৯ জানুয়ারী থেকে অনুষ্ঠিতব্য প্রথম পূণর্মিলনী অনুষ্ঠান। পূণর্মিলনী নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তণ শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া ক্রমশ: ভারি হচ্ছে। উক্ত কমিটিতে দল মত নির্বিশেষের উপস্থিতি নেই এমন অভিযোগে ইতিমধ্যে প্রাক্তণ শিক্ষার্থী ও বর্তমান প্রশাসনের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠান শুরু নিয়ে দ্বিধা দ্বন্ধে খোদ সংশ্লিষ্টরা। বুধবার কমিটির প্রতি অনাস্থা এনে ও এর পূণর্গঠনের দাবি জানিয়ে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। স্মারকলিপিতে প্রথম ৫টি ব্যাচকে উপেক্ষা করে সদস্য সচিব ও যুগ্ম আহবায়ক নির্বাচনসহ কমিটি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তারা।

জানা যায়, পূণর্মিলনীর সময় যত গনিয়ে আসছে ততই প্রাক্তণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও তীব্র সমালোচনা বাড়ছে।

শাকসু’র সাবেক সভাপতি  কামরুল হাসান কাবেরী বলেন, ‘রি-ইউনিয়ন কোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত বিষয় নয়। তবে সেটা সকল বিতর্কেল উর্ধ্বে থাকা ভাল। গঠিত কমিটির সমালোচনা করে তিনি বলেন,যেখানে সকল মতের প্রতিফলন আসে নি সেখানে পরবর্তীতে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হলে নতুন প্রজন্ম এই কমিটির অবৈধ পথকে ব্যবহার করবে’।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও চেতনা-৭১ এর সমন্বয়কারী খুরশিদ আলম হিটু বলেন,‘মনে প্রাণে চাই রি-ইউনিয়ণ হোক। তবে যেভাবে কমিটি গঠিত হয়েছে সেটা ঠিক হয়নি।

শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও ১ম ব্যাচের শিক্ষার্থী দেলওয়ার ইসমাঈল টিটু  বর্তমান পুর্নমিলনী কমিটি অযোগ্য,বির্তকিত ও একপেশী দাবী করে বলেন, ‘এ কমিটির নেতৃত্বে পুর্নমিলনী কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে আমরা অনুষ্ঠান বর্জন করবো। বিশেষ করে অযোগ্য ও বিতর্কিত সদস্য সচিব সুশান্ত দাস গুপ্তকে প্রত্যাহার করে নির্দলীয়ভাবে যোগ্যতার ভিক্তিতে পূনরায় পুর্নমিলনী কমিটি গঠনের জন্য তিনি আহবান জানান’।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান রাজু সকল জটিলতার অবসান ঘটিয়ে সবাইকে নিয়ে একটি সফল রি-ইউনিয়ন করার আহবান জানান।

ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি ও ৫ম ব্যাচের শিক্ষার্থী আব্দুর রব ও ৮ম ব্যাচের  শিক্ষার্থী দেলওয়ার হোসেন শামীম  জানান,‘বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন রয়েছে। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রেখে এসেছেন। তাই দলমত নির্বিশেষে একটি সার্বজনীন কমিটির মাধ্যমে পুর্নমিলনী করা উচিত বলে মনে করেন।

২০০১-০২ সেশনের শিক্ষার্থী কামরুল হাসান মিঠু বলেন,‘বিশ্ববিদ্যালয় পুর্নমিলনী অনেক দিনের স্বপ্ন। সিনিয়র ও যোগ্যদের নিয়ে রি-ইউনিয়ন কমিটি গঠন করা উচিত। গঠিত কমিটি অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য গঠন করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন’।

চোখ ফিল্ম সোসাইটির সাবেক সভাপতি সালাহউদ্দিন বাপ্পী গঠিত রি-ইউনিয়ন সম্পর্কে বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ একদলীয়,যা কোনো ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়’।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপর সাংষকৃতিক সংগঠনের নেতারা বলেন,‘ পুর্নমিলনী নিয়ে স্বয়ং ভিসি সর্বদলীয় কমিটির ঘোষণা দিলেও একদলীয় কমিটি করে তিনি বিতর্কিত রি-ইউনিয়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণা করেছেন।

তবে  পূণর্মিলনীর সার্বিক বিষয়ে প্রশাসনের কাছে জানার চেষ্টা করলে কোনো সদুপত্তর পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত আগামী ১৯ জানুয়ারী থেকে  তিনদিন ব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম পূণর্মিলনী উৎসব শুরু হওয়ার কথা।

ইউনাইটেড নিউজ ২৪ ডট কম/আতিক মাহবুব/শাবিপ্রবি

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here