অনাহারে দিন কাটছে নিখোঁজ জেলে পরিবারের

অনাহারে দিন কাটছে নিখোঁজ  জেলে আংগুর মিয়ার পরিবারের

মো. রওশন আলম পাপুল, গাইবান্ধা প্রতিনিধি  :: গত ৭ মে গাইবান্ধা সদর উপজেলার গিদারী ইউনিয়নের ধুতিচোরা গ্রামের ব্রহ্মপুত্র নদে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ আংগুর মিয়ার স্ত্রী সামিনা বেগম ও তিন ছেলের দিন কাটছে অনাহারে-অর্ধাহারে। এই ঘটনায় আংগুর মিয়াসহ (৪৪) নিখোঁজ রয়েছে একই গ্রামের মেরেনা খাতুন নামের ১০ বছর বয়সের আরও এক স্কুলছাত্রী। নৌকাডুবির ১৩ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো সন্ধান মেলেনি তাদের।

গাইবান্ধা ফায়ার সার্ভিস ও নিখোঁজ দুজনের পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, সকালে চরাঞ্চলে ভুট্টা খেতে কাজ করার জন্য বেশি যাত্রী নিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদ পার হওয়ার সময় একটি নৌকা মাঝ নদে ডুবে যায়। পরে তিনজনের মরদেহ পাওয়া গেলেও নিখোঁজ থাকে আংগুর মিয়া ও মিনহাজ মিয়ার মেয়ে মেরেনা খাতুন। আংগুর মিয়া ব্রহ্মপুত্র নদে মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করে কোনমতে সংসার চালাতেন। আর মেরেনা পূর্ব ধুতিচোরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী।

আংগুর মিয়ার স্ত্রী সামিনা বেগম (৩৩) বিকেলে বলেন, তিন ছেলেকে নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে। দোকানে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা বাকী হয়েছে। তাই দোকানেও যেতে পারছি না। রবিবার বিকেলে একজন মহিলা এক কেজি চাল দিয়েছে সেই চাল রান্না করে রাতে খাবো। সোমবার কি খাবো তার নিশ্চয়তা নেই। কোথাও যে কাজ করবো তাও পারছি না। ইউপি চেয়ারম্যান কিছু চাল-ডালসহ খাদ্যসামগ্রী কিনে দিয়েছিল সেটাও কয়েকদিন আগে শেষ হয়ে গেছে। এ ছাড়া আর কেউ কোন সহযোগিতা করেনি আমাদের।

অনাহারে দিন কাটছে নিখোঁজ  জেলে আংগুর মিয়ার পরিবারের

আঙ্গুর মিয়ার প্রতিবেশি ও মেরেনার মামা সাদ্দাম হোসেন বলেন, নিখোঁজ দুজনকে পাওয়ার আশায় এখনো প্রতিদিনই নদীতে যাই। ভাটির দিকে পরিচিতজনদের কাছে খোঁজখবর নিই। কিন্তু কোন সন্ধান পাচ্ছি না কারোরই।

গিদারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ ইদু বলেন, নৌকাডুবির ওই ঘটনায় আংগুর মিয়া ও মেরেনা খাতুন নামের দুইজন নিখোঁজ আছে। বর্তমানে আংগুর মিয়ার পরিবার খুবই কষ্টে দিনাতিপাত করছে। তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। বিষয়টি জেলা প্রশাসক স্যারকেও জানিয়েছি।

নৌকাডুবির ওই ঘটনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হতাহতদের পরিবার প্রতি দশ হাজার টাকা করে দিতে চেয়েছিলেন জেলা প্রশাসক। উদ্ধার হওয়া নিহত তিনজনের পরিবার এ সহায়তা পেলেও নিখোঁজ দুই পরিবারকে গতকাল পর্যন্ত এই সহায়তা দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে বিকেলে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মতিন বলেন, যাদের লাশ পাওয়া গেছে তাদেরকে সহায়তা করা হয়েছে। আরও যে দুজন নিখোঁজ আছে সেটা তো আমরা জানি না। লাশ তো পাইনি। পরিবারটি ভীষণ অর্থকষ্টে আছে বলে জানালে তিনি বলেন, দেখি চিন্তা করি, দেওয়া যাবে কিনা। তারা নিহত কিনা সেটা কি করে বুঝবো।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানাতে পারবেন বলে জেলা প্রশাসককে জানালে আব্দুল মতিন বলেন, আচ্ছা দেখি তাহলে, কি করা যায়।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

রামগতিতে ৩০লাখ টাকার অবৈধ জাল ধ্বংস

মিসু সাহা নিক্কন :: লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার মেঘনার তীরবর্তী এলাকায় কয়েকটি অভিযান ...