একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযমের জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান নিজামুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল গোলাম আযমের পক্ষে করা জামিন আবেদন খারিজ করে দেয়।
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বুধবার জামিন আবেদনের শুনানি শেষে আজ ২৩ ফেব্রুয়ারি আদেশের দিন ধার্য করেছিল ট্রাইব্যুনাল।
এরআগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বুধবার সকালে তার আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক আদালতে ৬টি আবেদনের শুনানি করেন। এর মধ্যে ৩টি আবেদন আদালত সাথেসাথেই গ্রহণ করেন এবং প্রসিকিউশনকে বলেন, মামলার নথির অষ্পষ্ট ২৫ পৃষ্টা ডিফেন্স পক্ষকে ওইদিনের মধ্যে বুঝিয়ে দিতে।
পরে ওইদিন দুপুরে গোলাম আযমের অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শুরু হয় এবং গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বুধবার গোলাম আযমের বিরুদ্ধে উপস্থাপনের জন্য আনা অভিযোগের ১৯১ পৃষ্টা পাঠ শুরু করে ২২ ফেব্রুয়ারি বুধবার শেষ করেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটররা।
আগামী ২৭ তারিখে তার বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশি সিডি, ভিসিডি ও বিভিন্ন চ্যানেলের ফুটেজ দেখাবেন বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটররা।
শুনানিতে গোলাম আযমের জামিনের বিষয়ে আদালতে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, জামিনের শর্তে যা যা থাকবে তার সব পালনে সচেষ্ট থাকবে আমার মক্কেল অধ্যাপক গোলাম আযম। শর্ত দিলে আমার মক্কেল তা পালনে কোন রকমের অবহেলা করবেন না।
জামায়াতের সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযমকে কারাগারে পাঠানোর আগে গত ৯ জানুয়ারি তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশনের দেয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল।
ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের জমা দেয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে মোট ৬২টি অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়েছে।
এরআগে ২০১১ সালের ৩১ অক্টোবর গোলাম আয়মের বিরুদ্ধে তদন্ত কাজ শেষ করেন তদন্তকারী কর্মকতারা। পরে তদন্ত কর্মকর্তারা তার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন আদালতে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের মাধ্যম। মোট ৩৬০ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনের পাশাপাশি ১০ হাজারর পৃষ্ঠার নতিপত্র সংযুক্ত করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তথ্য ও চিত্র সম্বলিত সিডি, ডিভিডি, গণহত্যার ভিডিও, পাকিস্তানি সেনা, আল-বদর, আল-শামস, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, তখনকার এনবিসি, সিবিসি, এবং মুক্তিযুদ্ধের সময়ের দৈনিক সংগ্রাম, দৈনিক পুর্বদেশ, দৈনিক পাকিস্তান ও পাকিস্তান অবজারভার পত্রিকার প্রতিবেদন। ওইসব তথ্যের সাথে ভিকটিম প্রত্যক্ষদশীসহ মোট ১১৬ জন সাক্ষীর জবানবন্দিও রয়েছে।
গত ১১ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার পর গোলাম আযমকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন আদালত। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের প্রিজন সেলে রাখা হয়।
ইউনাইটেড নিউজ ২৪ ডট কম/স্টাফ রিপোর্টার









