মঙ্গলবার বিকেলে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ৫৪ জন বাংলাদেশীকে । এরা দালালের মাধ্যমে সমুদ্র পথে বিদেশ পাড়ী দেয়ার সময় থাইল্যান্ড পুলিশের হাতে আটক হয়। পরে তারা ছেড়ে দিলে ভারতের আন্দামান দ্বীপের কাছে সাগরে ভাসমান অবস্থায় আটক হয় ভারতীয় পুলিশের হাতে। ৩ বছর আন্দামান কারাগারে বন্দী জীবন কাটিয়ে তারা শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার তারা দেশের মাটিতে পা রাখলো।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) কামরুজ্জামান জানান, কক্সবাজারের টেকনাফ এলাকার দালালের মাধ্যমে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য তিন বছর আগে এরা টেকনাফ থেকে রওনা দেয় সমুদ্র পথে। দালালেরা এদের যন্ত্রচালিত নৌকায় তুলে সমুদ্রে ছেড়ে দেয়। পরে তারা থাইল্যান্ডের নৌ-বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে। এখানে আটকে রেখে তাদের নির্যাতন চালানোর পর নৌকায় ভাসিয়ে দেয় থাইল্যান্ডের কোস্টগার্ড সদস্যরা। ভাসতে ভাসতে এরা ভারতের আন্দামান উপকূল রক্ষীবাহিনী ও নৌ-বাহিনীর সদস্যরা এদের উদ্ধার করে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়। দীর্ঘ ৩ বছর তারা আন্দামান কারাগারে বন্দী জীবন কাটায়। পরে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের সাথে যোগোযোগ করে তাদের তালিকা বাংলাদেশ সরকারের কাছে পাঠায়। দীর্ঘদিন দু‘দেশের মধ্যে পত্র চালাচালির পর তাদের কারাগার থেকে মুক্তি মেলে। আন্দামান পুলিশ জাহাজে করে এদের এনে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ও বিএসএফ মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে এদেরকে বেনাপোল চেকপোষ্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। ইমিগ্রেশন ওসি জানায়, বিশেষ ব্যবস্থায় এদের নিজ নিজ বাড়িতে পাঠানো হবে।
যারা দেশে ফিরেছেন তারা হলেন, নুর হোসেন, জলিল, ইসমাইল, জাহাঙ্গীর, ফরিকুর, ইয়াজ, হোসেন, জাকির, উসমান গনি, মোনতাজ মিয়া, আব্দুলা, আব্দুল আমিন, ফরিদুল, আলতাফ মিয়া, আবুল ফয়েজ, বদিউল আলম, আজিজুল হক, বদিউল আলম, ইররাম, রেজাউল, মোয়েশ আলম, শুকুর আলম, নাসিম, আব্দুল শুকুর, নুরুল হক, আবুল কাশেম, নেসার উদ্দীন, মোঃ সোহেল, আবু তৈয়েব, আবুল নাসির, নুর বক্স, কাফিউলাহ, সৈয়দ আকবার, নাসির উদ্দীন, মোস্তাক আহম্মেদ, সৈয়দ আলম, সুলতান সালাম, ইলিয়াজ, ইসলাম, সফি আলম, নূর মোহাম্মদ, হোসেন, জামাল হোসেন, আবুল কালাম, জাফর আলম, খায়রুল বাসার, দোস্ত মোহাম্মদ এবং বাশার আহম্মেদ। এসব যুবকের বাড়ি চট্রগাম ও কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে।
ফেরত আসা নুর হোসেন, জলিল, ইসমাইল, জাহাঙ্গীর, জানায়, চট্রগ্রাম ও কক্সবাজার এলাকার বিদেশে পাঠানো দালাল ইমাম সাহেব, ফরিদ, হামিদ তাদের ভালো চাকুরির জন্য মালয়েশিয়া পাঠানোর জন্য এক এক জনের কাছ থেকে ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা নিয়ে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় উঠিয়ে সমুদ্রপথে নিয়ে যায়। ইঞ্জিনের তেল ফুরিয়ে গেলে তারা ভাসতে ভাসতে থাইল্যান্ড সীমানায় কোস্টগার্ড সদস্যদের হাতে ধরা পড়ে। সেখানে তারা তাদের সামান্য শুকনা খাবার দিয়ে নির্যাতন চালায়। পরে তাদের ইঞ্জিনবিহীন নৌকায় তাদের ভাসিয়ে দেয় সাগরে। পরে তারা আন্দামানের কাছে ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক হয়।
তারা আরো জানায়, তাদের দলে প্রায় ৫০০ জন লোক ছিল। এর মধ্যে ৭০ জন ধরা পড়ে। ৫৪ জনের কাগজপত্র ঠিক থাকায় তাদের জেল থেকে ছেড়ে দেয় হয়। ১৬ জনের কাগজপত্র জটিলতার জন্য জেল থেকে ছাড়া পায়নি। বাকীদের ভাগ্যে কি ঘটেছে তারা তা জানাতে পারেনি।
ইউনাইটেড নিউজ ২৪ ডট কম/সিরাজুল ইসলাম/যশোর









