কক্সবাজারে ছাত্রলীগের দুগ্রুপ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দফায় দফায় ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক কায়সারুল হক জুয়েল (৩২) ও জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আলী আহমদ(৩৩) আহত হয়েছে। আহত জেলা ছাত্রলীগ সভাপতিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ২২ ফেব্রুয়ারি বুধবার বেলা ২ টায় কক্সবাজার বিমানবন্দরে এবং বিকালে ৪টায় লালদিঘির পাড়স্থ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে পৃথক সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে বিমানযোগে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি প্রশান্ত ভূষণ বড়ুয়া, জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আলী আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের ঢাকা থেকে কক্সবাজার আসেন । তারা বিমানবন্দর থেকে গাড়ি যোগে বের হয়ে বিমানবন্দর সড়কের মহিলা কলেজ পর্যন্ত পৌঁছলে কলেজ গ্রুপ ও উপজেলা গ্রুপের একদল ছাত্রলীগ কর্মী তাদের অবরোধ করে মারধর করে। এ সময় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি প্রশান্ত ভূষণ বড়ুয়া ও সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের দ্রুত পালিয়ে গেলেও সভাপতি আলী আহমদকে ব্যাপক মারধর করা হয়। আহত আলী আহমদকে পুলিশ উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠায়।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার অপারেশন অফিসার উপ-পরিদর্শক মনোজ কুমার দে জানান, ছাত্রলীগের কর্মীর হাতে সভাপতি আহত হলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনার পরপর কক্সবাজার সরকারি কলেজ, পলিটেকনিক কলেজ, কক্সবাজার সদর উপজেলা ও কক্সবাজার শহর ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা জেলা সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে মিছিল সমাবেশ করে। সমাবেশ থেকে তাদের কক্সবাজারে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়।
কক্সবাজার সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহবায়ক ওয়াহিদুর রহমান রুবেল জানান, মঙ্গলবার রাতে কেন্দ্রীয় কমিটি জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেন। দীর্ঘ দেড় বছর পর অনুমোদন দেওয়া কমিটিতে অছাত্র, ইয়াবা ব্যবসায়ী, বিবাহিতরা স্থান পেলেও নিয়মিত ছাত্র ও ত্যাগী কর্মীরা বাদ পড়েন।এতে বিক্ষুব্ধ কর্মীরা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি প্রশান্ত ভূষণ বড়ুয়া, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আলী আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক আবু তাহেরকে ধাওয়া দেয় এবং কমিটি বাতিলের দাবিতে মিছিল সমাবেশ হয়েছে। এ কমিটি তারা মানেন না।
জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের জানান, হামলায় সভাপতি আহত হয়েছেন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, দফায় দফায় সম্মেলন আয়োজনে ব্যর্থ হওয়ার পর ২০১০ সালের নভেম্বর মাসে কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের ২ জনের একটি কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় কমিটি। কিন্তু কেন্দ্র ঘোষিত ২ জনের কমিটি দেড় বছর পার করলেও এ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেনি। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও মতবিরোধের কারণে গত এক বছরের মধ্যে কমিটি গঠনের চেষ্টাই করা হয়নি। এরই মধ্যে কক্সবাজার শহরসহ বিভিন্ন উপজেলায় জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বাতিলের দাবিতে হাতে লাঠি নিয়ে মিছিল সমাবেশ করে।
অপরদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিকালে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্পাদক কায়সারুল হক জুয়েলকে ছাত্রলীগের একটি গ্রুপ ছুরিকাঘাত করে। এর পর স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের দুগ্রপের সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয় গ্রুপ লাঠিসোটা নিয়ে মিছিল করে।
ইউনাইটেড নিউজ ২৪ ডট কম/কামাল আজাদ/কক্সবাজার









