‘পৌরসভা নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করা হবে না’

‌'পৌরসভা নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করা হবে না'ষ্টাফ রিপোর্টার :: সেনা মোতায়েনের মতো কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, তাই পৌরসভা নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করা হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ।

আজ শনিবার সকালে রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ বলেন, ‘নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পৌর এলাকাগুলোতে এমন কোনো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি যে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। প্রতিটি পৌরসভার রিটার্নিং কর্মকর্তারা আমাদের অবগত করেছেন যে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশের বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।’

সিইসি বলেন, পৌরসভা নির্বাচনে প্রতি তিন ওয়ার্ডের জন্য একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রতিটি পৌরসভার জন্য একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, পৌর নির্বাচনে সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ১৯ জন ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ২০ জন ফোর্স মোতায়েন করা হবে। কেন্দ্রে পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, এপিবিএন সদস্য মোতায়েন থাকবে।

এ ছাড়া প্রভাবমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য বহিরাগতদের অবস্থান ২৮ ডিসেম্বর রাত ১২টা থেকে নিষিদ্ধ করা হবে। যেদিন ভোট হবে সেদিন অন্য এলাকার প্রভাবশালীরা থাকলে বা নির্বাচনে অবৈধ প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করলে পুলিশ ও জেলা প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে কমিশন সূত্রে জানা যায়।

র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশ, কোস্টগার্ড ২৮ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় স্ট্রাইকিং ফোর্স ও মোবাইল টিম হিসেবে মোতায়েন থাকবে।

এ বৈঠকে সিইসি, অন্যান্য কমিশনার ও নির্বাচন কমিশন সচিব যোগ দেন। উপস্থিত এ ছাড়া রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, পুলিশ, বিজিবি, আনসার, এনএসআই, ডিজিএফআই, ডিবি ও কোস্টগার্ডসহ সব বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সিইসি সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনী এলাকার পরিস্থিতি শুনেছি।  এখন পর্যালোচনা করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করব। ভোটে পূর্ণ শৃঙ্খলা থাকবে।
তিনি বলেন, মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশে আচরণবিধি মেনেই প্রচারণা চলছে। দুয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে, ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি অনুকূলে রয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জানিয়েছেন।

সন্ত্রাসী কার্যক্রম নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে, উল্লেখ করে কাজী রকিব জানান, জঙ্গি ও সন্ত্রাসের সমস্যা জেনারেল  সমস্যা, এটা তেমন সমস্যা হবে না। এ পর্যন্ত সেরকম কোনো সমস্যা নেই বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানিয়েছেন। সন্ত্রাসীদের ধরপাকড়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভোট গ্রহণ পর্যন্ত সন্ত্রাসী-অপরাধী ধরপাকড় কার্যক্রম আরো ত্বরান্বিত হবে। এ নিয়ে কোনো উদ্বেগ থাকবে না।

এক প্রশ্নের জবাবে কাজী রকিব বলেন, বিজিবি-র্যা ব বলেছে, তারা ফোর্স বাড়িয়ে দেবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সব ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান কাজী রকিব।

সিইসি বলেন, যেকোনো অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। আমরাও অ্যাকশন নেব। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তারা ফিল্ডে রয়েছেন, তারাই এটা দেখবে। আমাদের প্রতিবেদন দেবে।

কাজী রকিব বলেন, আমি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বলে দিয়েছি, আগে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে, সামনে যেন না হয়। সাংবাদিকরাও ভোটে ব্যাঘাত না ঘটানোর বিষয়টি খেয়াল রাখবেন, আশা করি।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ

তারেক রহমানের ভিডিও কনফারেন্স আচরণবিধি লঙ্ঘন নয়: ইসি সচিব

স্টাফ রিপোর্টার :: বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকারে লন্ডন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দলটির ...