২৩ টি রাষ্ট্রীয় স্থপনা এলাকায় হাই এলার্ট জারি

২৩ টি রাষ্ট্রীয় স্থপনা এলাকায় হাই এলার্ট জারিএম আর কামাল, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি :: দুই বিদেশি নাগরিক দূর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনা এবং এরপর উৎকণ্ঠার জের ধরে নারায়ণগঞ্জে ২৩টি রাষ্ট্রীয় স্থাপনা এলাকায় হাই এলার্ট জারি করা হয়েছে। কোন ধরনের অঘটন যাতে না ঘটে সে জন্য কঠোর সর্তক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে পুলিশকে।

এছাড়া নারায়ণগঞ্জ কারাগারেও জারি করা হয়েছে হাই এলার্ট। দুর্ধর্ষ আসামীদের উপর রাখা হয়েছে কঠোর নজরধারী। এদের স্বজনদের সাথে আপাতত দেখা সাক্ষাত বন্ধ রেখেছে কারা কর্তৃপক্ষ।

গার্মেন্টস শিল্প, বিদ্যুৎ, সিমেন্টসহ বিভিন্ন শিল্প কারখানায় কর্মরত বিদেশী নাগারিকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে প্রশাসন থেকে।

এছাড়া বিদ্যুৎ কেন্দ্র, খাদ্যগুদাম (সাইলো), তেলের ডিপোসহ ২৩টি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় (কেপিআই) নিরাপত্তা জোরদারের তাগিদ দিয়েছেন জেলা প্রশাসন।

নারায়ণগঞ্জের পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ডিপো থেকে বিমানে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে তেল পরিবহনের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে (বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশ) সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিরাপত্তা প্রদান করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কারাগার সূত্রে জানা যায়, দুই বিদেশি নাগরিক দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনা এবং এরপর উৎকণ্ঠার জের ধরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের ৬৮টি কারাগারে হাই এলার্ট জারি করা হয়েছে। বিশেষত যেসব কারাগারে জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা বন্দী আছেন, সেসব কারাগারে নিরাপত্তা দ্বিগুণ বাড়ানো হয়েছে। এমনকি এসব বন্দীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ স্বজন ছাড়া অন্য কাউকে দেখা করার সুযোগও দেয়া হচ্ছে না।

আইজি প্রিজন বিগ্রেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন জানান, কারাগারে সব সময়ই জোরদার নিরাপত্তা থাকে। এরপরও সামপ্রতিক ঘটনাবলি বিবেচনায় দায়িত্বরত সবাইকে আরো বেশি সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, ইতালি ও জাপানের নাগরিক হত্যার ঘটনায় জঙ্গি সম্পৃক্ততার দিকে আঙ্গুল তোলা হচ্ছে। এ কারনে কারাবন্দি জঙ্গিরা যাতে কারাভ্যস্তরে বসে কোনো ধরনের নাশকতামূলক তৎপরতা যাতে না চালাতে পারে বা কোনো পরিকল্পনার ছক কষতে না পারে সেজন্য তাদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কারাগারের বাইরে পুলিশ ও র‌্যাবের টহল বাড়ানো হয়েছে। সর্বোচ্চ নিরাপত্তার অংশ হিসেবে কারাগারগুলোতে বন্দিদের নিরাপত্তা রক্ষায় জেল সুপার, জেলার, ডেপুটি জেলার ও কারারক্ষীরা অতি সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।

সূত্র জানায়, ২০০৪ সালের ১৭আগষ্ট সারা দেশের মতো নারায়ণগঞ্জ জেলায়এক যোগে বোমা বিস্ফোরণ ঘটনায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন জেএম বি। এর পর থেকে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে জেএমবির একাধিক সদস্য গ্রেফতার হয়। বিশেষ জেএমবির শীর্ষ নেতা বন্দরের সালেহী কারনে নারায়রগঞ্জ জেলায় জেএমবির অবস্থান এবং ঝুকি পূর্ন জেলা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে পড়ে। তখন থেকে প্রশাসন সর্তক থাকে ।

সমপ্রতি দুই বিদেশী নাগারিক হত্যার ঘটনায় আবারো কঠোর সর্তক অবস্থানে চলে যায় প্রশাসন। জনগনের জান মালের নিরাপত্তার জন্য সবত্র ত্যাগ স্বীকারে মাঠে থাকে পুলিশ।

সূত্র আরো জানায়, নারায়নগঞ্জের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কাজ করছে বিদেশী নাগরিকরা। বিশেষ করে ইপিজেড এবং ফতুল্লা ও কাঁচপুরের বিসিক শিল্প নগরীতে কাজ করছে বহু বিদেশী নাগরিক। এছাড়া বিদ্যুৎ কেন্দ্র , জাহাজ নির্মাণ কেন্দ্র( ডক ইয়ার্ড), সিমেন্ট কারাখানাসহ গুরুত্বপূর্ণ শিল্প কারখানায় কাজ করেছেন বিদেশী নাগরিকরা। এদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাশাপাশি জেলার প্রায় ৩০লাখ মানুষের নিরাপত্তা দিতে সবোর্চ্চ সতর্ক রয়েছে আইন শৃংঙ্খলা বাহিনী।

হাই এলার্ট জারি প্রসঙ্গে জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মোহাম্মদ জাকারিয়া জানান, নারায়ণগঞ্জে কর্মরত বিদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ সর্তকাবস্থায় রয়েছে পুলিশ। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গুলোতেও পুলিশের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার মো: মহিবুল ইসলাম খান (চলতি দায়িত্ব) জানান, বিদেশী নাগারিকসহ জেলার মানুষের জান মালের নিরাপত্তার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সবোর্চ্চ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

শিবগঞ্জের জঙ্গি আস্তানা

শিবগঞ্জের জঙ্গি আস্তানা থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার :: চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবপুর উপজেলার শিবনগর গ্রামে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে একটি ...