১১২ কোটি বরাদ্দ আছে, নিস্ক্রিয় কর্তৃপক্ষ

এনামুল হক কাশেমী, রুমা থেকে ফিরে। ইউনাইটেড নিউজ ২৪.কম

Ruma-bogalake setu-1স্থানীয়দের মতামত উপেক্ষা,পুরোপুরি অপরিকল্পিত, অদক্ষ প্রকৌশলগ প্রযুক্তি ব্যবহার এবং নির্মাণ কাজে ব্যাপক দুর্নীতি ও নিম্মমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় প্রায় ১৫কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৩টি আরসিসি সেতু কার্যত যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। ছোট যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে গত  ৩দিন ধরেই রুমা-বান্দরবান সড়কে। ফলে রুমা উপজেলা সদরের সাথে বান্দরবান জেলা সদরের মাধ্যে সড়ক যোগাযোগ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। যেকোন সময় সড়কপথ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।

সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে সেনাবাহিনীর ১৯ নির্মাণ প্রকৌশল ব্যাটালিয়নের তত্বাবধানে সেতুগুলো নির্মিত হয়েছে। মূল সড়কের দুইপাশ এপ্রোচ সড়ক শক্তিশালী না করে ড্রামশিটের প্রটেকশন দেয়ায় সড়কের মরণদশা আরও তীব্রতর হয়ে উঠেছে। সাংগু নদীর তীরে রুমা গ্যারিসনের প্রধান ঘাটে নির্মিত বড়েেসতুর পাশেই রুমা বাসষ্টেশন। এ বাসষ্টেশন থেকে রম্নমা সরকারি কলেজের সামনে হয়ে রম্নমা উপজেলা পরিষদ অফিস পর্যনত্ম প্রায় ৫কিমি এলাকায় কয়েকটি পাহাড়ি ঝিরির ওপর নির্মত হয় ৩টি আরসিসি সেতু। সেতুগুলো মূলসড়ক চেয়ে গড়ে ৩/৪ফুট নিচুতেই নির্মিত হয়েছে।

প্রকৌশলগত নিয়মানুসারে সড়কপথ থেকে গড়ে ৪/৫ ফুট উচুঁ করেই সেতু নির্মাণ করার কথা। এ ৩টি সেতু নির্মাণের ড়্গেত্রে তা করা হয়নি। সংবাদপত্রে কিংবা সরকারি দপ্তরগুলোতে সড়ক ও সেতুগুলোর নির্মাণের কোন প্রকার দরপত্র প্রকাশ করা ছাড়াই কর্মকর্তাদের পছন্দের ঠিকাদারদের মাধ্যমে কাজভিত্তিক নির্মাণ কাজ করানো হয়েছে।

এসব কারণেই সেতুগুলোর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর পরই চলতি বর্ষার শুরুতেই ভারী বর্ষণে এপ্রোচসড়ক ছিন্ন-ভিন্ন ও দেবে গেছে পড়েছে। মংগলবার দুপুরে পাহাড় কেটে মাটির আস্তর দিয়ে যানবাহন চলাচল খানিকটা সচল রাখার চেষ্টা করতে দেখা গেছে সেনা সদস্যদের। রোববার বিকেল থেকে ও মংগলবার দুপুর রম্নমা উপজেলা সদরে অবস্থাকালে ওই সেতগুলোর মুমুর্ষ অবস্থা অবলোকন করেছেন সরেজমিন এ প্রতিনিধি।

সেই সময় দেখা গেছে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ এবং সড়কের মরণফাঁদের অবস্থা। তাছাড়াও রুমা উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে এলজিইডির মাধ্যমে নির্মাণাধীন নাইক্যঝিরির ওপর আরসিসি সেতুর কাজ রহস্যজনকভাবে বন্ধ রাখায় সেই পয়েন্টে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধের উপক্রম হয়েছে বিশাল পরিসের কাদায়। এ সেতুর দুইপাশে ৪টি পিলারের একাংশ কাজ শেষ করেই নির্মাণ কাজ স্থগিত রাখায় বর্ষার এ সময় যারবাহন চলাচল তো দুরে থাক, স্থানীয়দের পায়ে হাঁটাও কঠিন হয়ে পড়েছে। জীবনের অতিঝঁথকি নিয়েই ছোট-বড় যানবাহনগুলো চলাচল করছে বর্তমানে। এলজিইডির এ আরসিসি সেতু নির্মাণে বরাদ্দ দেয়া হয় প্রায় কোটি টাকা। সেনা নির্মাণ প্রকৌশল বিভাগের উদ্যোগে রুমা উপজেলা পরিষদ অফিস বরাবর পর্যনন্ত মূল সড়কপথ ও ভগ্নদশাগ্রসত্ম সেতুগুলো পুননির্মাণের কথা থাকলেও প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নেই অজুহাতে সেইসব সেতুও পুননির্মাণ করা হচ্ছে না। রম্নমা বাজার থেকে পর্যটন কেন্দ্র বগালেক,ক্যক্রাডং এবং তাজিংডং পাহাড়ের এলাকা পর্যনত্ম সড়কপথ প্রসসত্মকরণসহ নতুন করে নির্মাণ ও প্রযোজ্য এলাকাসমুহে সেতু নির্মাণে সেতু ও সড়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রায় ৯৬ কোটি বরাদ্দ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি গত ৯ জুলাই বান্দরবান জেলার মেঘলায় স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকারে এসব তথ্য জানান।

তিনি ওই সময় জানিয়েছেন, বান্দরবান জেলা সদর থেকে রুমা উপজেলা সদর পর্যনত্ম প্রায় ৪৮ কিমি দীর্ঘ সড়কপথ ও সেতুগুলোর পুননির্মাণে ১৬কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু বিপুল অর্থ বরাদ্দ সত্বেও এ সড়কের নাজুক অবস্থা জিইয়ে থাকায় ভুক্তভোগী জনগণসহ সচেতন নাগরিকদের মাঝে সেনাবাহিনীর নির্মাণ প্রকৌশল ব্যাটালিয়নের অপরিকল্পিত ও দুর্নীতির কর্মকান্ড নিয়ে নানামুখি প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

রুমা সফরকালে স্থানীয়রা (নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক) অভিযোগ করেন, অন্য সরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানগুলো প্রকাশ্যে দরপত্র প্রদানের মাধ্যমে উন্নয়ন ও নির্মাণকাজ গুলো সম্পাদন বা বাস্তবায়ন করে থাকে। কিন্তু সেনাবাহিনীর নির্মাণ প্রকৌশল বিভাগ তা কখনও করে না। সেনাবাহিনীর নির্মাণ কাজের কোন জবাবদিহিতাও নেই, সংবাদপত্রে প্রকাশ্যে দরপত্রও নেই। ফলে অভিজ্ঞ ঠিকাদারদের পক্ষে তাদের কাজে অংশগ্রহণের সুযোগও নেই। তাই তারা যেনতেনভাবেই নির্মাণ কাজগুলো শেষ করে থাকে। এসব কারণে সেইসব কাজ জনগণের জন্যে কল্যাণকরের পরিবর্তে মরণফাঁদে পরিণত হচ্ছে।

এসব বিষয়ে মঙ্গলবার দুপুরে যোগাযোগ করা হলে রুমা এলাকায় সেতুসহ সড়কপথ নির্মাণ কাজে নিয়োজিত সেনা নির্মান প্রকৌশল বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, সরকারি অর্থবরাদ্দ সাপেক্ষেই উন্নয়ন কাজগুলো বাস্তবায়ন করা হয়ে থাকে। রুমা বাজার থেকে বগালেক পর্যন্ত ভগ্নদশায় পরিণত সেতু ও সড়কপথের দায়িত্ব সেনাবাহিনীর নির্মাণ প্রকৌশল বিভাগের কাছে অর্পিত হলে এবং প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সময়ের মধ্যেই কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। ওই কর্মকর্তা লক্ষ্যে মাটির আস্তরন ও ড্রামশিটের প্রটেকশন দেয় হচ্ছে। বান্দরবান-রম্নমা সড়কের ৪৮কিমি পথের নানাস্থানে পাহাড়ের অংশ ধসে পড়েছে। সড়কপথের অবস্থা খুবই করুন।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মালয়েশিয়ায় ৫৫ বাংলাদেশি আটক

ডেস্ক রিপোর্ট :: মালয়েশিয়ায় ওয়ার্ক পারমিটের নিয়ম লঙ্ঘন করে কাজ করার অভিযোগে ...