ব্রেকিং নিউজ

১০ বছরেও সিডরের কথা ভূলেনি ভোলার মানুষ

১০ বছরেও সিডরের কথা ভূলেনি ভোলার মানুষ

এম শরীফ আহমেদ, ভোলা থেকেঃ আজ বুধবার ভয়াল ১৫ নভেম্বর। ২০০৭ সালে এই দিনে ভোলার উপকূলে আঘাত হানে প্রলংকারী ঘূর্নিঝড় সিডর। সর্বনাশা বাংলাদেশর তৃতীয় ঝড়ের কথা মনে করে আতকে উঠেন স্বজনহারা মানুষ। জীবনে এমন কিছু স্মরণীয় দিন কিংবা কিছু ঘটনা থাকে যা কোনদিন ভূলবার নয় । ১০বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও যেন উপকূলে পড়ে রয়েছে ঝড়ের ক্ষতচিহ্ন।

সেইদিন ঘূর্ণিঝড় সিডর উপকূল তছনছ করে দিয়েছিল। কেড়ে নিয়েছিল হাজার হাজার মানুষের প্রাণ।একদিকে দেশে চলছিল সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নির্দেশে অন্যদিকে প্রকৃতির প্রলয়। সেদিন মানুষ জ্ঞানশুন্য হয়ে দিক-বেদিক ছুটেছিল । কেউ কেউ তাণ্ডবের কবল থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারলেও বাঁচাতে পারেনি নিকট আত্মীয় স্বজনকে।কারো কারো মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া গেলেও বহু মৃতদেহ রয়ে গেছে নিঁখোজ । সেদিনের মহাপ্রলয় আজও দুঃস্বপ্নের মত ভেসে ওঠে ।

প্রলংয়নকারী ঘূর্নিঝড় সিডর নিমিশেই লন্ড ভন্ড করে দিয়েছিল দ্বীপজেলা ভোলার-মনপুরা, চরফ্যাশন, লালমোহন,ও বোরহানউদ্দিনের জনপদ। সিডরে বাতাসের বেগ ছিল ঘন্টায় ২৬০কি.মি/ঘন্টা এবং ৩০৫কি.মি/ঘন্টা বেগে দমকা হাওয়া বইছিলো। একারণে সাফির-সিম্পসন স্কেল অনুযায়ী সিডরকে ক্যাটেগরি-৫ মাত্রার ঘূর্ণিঝড় আখ্যা দেয়া হয়। ঘূর্ণিঝড় সিডর সর্বপ্রথম আঘাত হানে দুবলারচরে ।

পর্যায়ক্রমে এটি আঘাত হানে বরিশালের সকল উপকূলে। ভোলা পিরোজপুর, পটুয়াখালী,সাতক্ষীরা, লক্ষীপুর, ঝালকাঠীসহ বাংলাদেশের প্রায় ৩১টি জেলায়। সারারাত তান্ডব চালিয়ে শেষ রাতে উপকূল অতিক্রম করে ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে। ঘূর্ণিঝড় সিডরের প্রবল আঘাত সহ্য করে যারা প্রাণে বেঁচে ছিল তার ১৬ নভেম্বর তাদের চেনা এলাকাকে আর চিনতে পারছিল না। এমনকি নিজ বাড়িটিকেও চিনতে কষ্ট হচ্ছিল।

সকাল থেকেই আর্তনাদের বেদনাবিধুর বিলাপ ভেঁসে আসতে থাকে। আধা পাকা, কাঁচা এমনকি পাকা বাড়িও ঝড়ের কবলে পড়ে ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায়। বাংলাদেশ বেতারের ক্রীড়া ধারাভাষ্যকার, রাজনীতিবিদ, কলামিস্ট আনোয়ার কবির বলেন, সে রাতে ভারত পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনাকর ক্রিকেট ম্যাচ চলছিল; আমি শুয়ে শুয়ে তা দেখছিলাম। হঠাৎ টেলিভিশনের নিচে শিরোনামে ভেসে আসল, দু’ঘন্টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড় সিডর বলেশ্বর নদী দিয়ে অতিক্রম করবে। এ সংবাদ দেখার পরেও ব্যক্তিগতভাবে ভাবান্তর হয়নি ।

পরিবারে প্রবীণদের মধ্যে খুব বিষন্ন দেখছিলাম এবং তারা কিছু সময় পরপর টেলিভিশন ও রেডিওতে খবর শোনার চেষ্টা করছিলেন। যতক্ষণ মোবাইলে নেটওয়ার্ক ছিল ততক্ষণ বিভিন্ন যায়গায় মোবাইল করে সেখানের অবস্থা জানছিলেন। বলেশ্বর নদী থেকে সিডর অতিক্রম করার সংবাদ দেখে তারা বিচলিত হয়ে পড়লেন। কারন ১৯৭০সালের ১২ নভেম্বরের সেই ভয়াল রাত্রের অভিজ্ঞতা প্রবীণরা আজও ভূলেনি।

ভোলার ৭টি উপজেলা ঘুরে দেখা যায়,সিডরের সেই ধ্বংসযজ্ঞ আজও রয়ে গেছে । ব্রিজ, সুইসগেট, কালভার্ট, সাইক্লোন শেল্টারে যে ক্ষতি হয়েছিল আজও তার অধিকাংশ সংস্কার করা হয়নি অথচ আজ সিডরের ১০ বছর পূর্তি হল। যথাযথ পদক্ষেপের মাধ্যমে ভবিষ্যতে যেন ঘুর্ণিঝড়ের আঘাতের ভয়াবহতা ও ক্ষতি থেকে মানুষ কিছুটা লাঘব পেতে পারে তার নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে এবং বেশি বেশি করে গাছ লাগাতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বাংলাদেশের দক্ষিনে যদি সুন্দরবন না থাকত তবে কেবল সিডরের আঘাতে গোটা দেশ জনমানবশূণ্য মরুভূমিতে পরিণত হত ।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ফখরুলের গাড়ি বহরে হামলায় নির্বাচন কমিশন বিব্রত: সিইসি

স্টাফ রিপোর্টার ::  নির্বাচনী প্রচারণার প্রথমদিনেই সহিংসতা ও হামলার ঘটনায় বিশেষ করে ...