হুমকির মুখে ব্রন্ডব্যান্ড সম্প্রসারণ কার্যক্রম

হুমকির মুখে দেশব্যাপী ব্রন্ডব্যান্ড সম্প্রসারণ কার্যক্রম ঢাকা :: যথাযথ নজরদারি ও পরিকল্পনার অভাবে হুমকির মুখে পড়তে যাচ্ছে দেশব্যাপী ব্রডব্যান্ড সম্প্রসারণ কার্যক্রম। নিয়ম বহির্ভূতভাবে গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেট সেবা দেয়ার কার্যাদেশ আইএসপির (ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার) পরিবর্তে এনটিটিএনকে (ন্যাশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক) দেয়ার প্রস্তাবেই মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে যাচ্ছে এ খাত। এ প্রস্তাব অনুমোদিত হলে একদিকে যেমন দেশব্যাপী ইন্টারনেট সেবা বিঘ্নিত হবে, অন্যদিকে লঙ্ঘণ করা হবে সরকারের তৈরি করা নীতিমালা। পাশাপাশি শুধু দুটি এনটিএন লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান লাভবান হলেও ব্যবসা গুটিয়ে ফেলতে হবে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র আইএসপি ব্যবসা।

২৩ আগস্ট (বুধবার) দুপুরে রাজধানীর হোটেল লা ভিঞ্চিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন আশঙ্কার কথা জানায় ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের সংগঠন-আইএসপিএবি। সংগঠনের সভাপতি আমিনুল হাকিমের সভাপতিত্বে এতে কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে সভাপতি আমিনুল হাকিম বলেন, “ইনফো-সরকার (৩য় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় দেশের ২৬০০ ইউনিয়নে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকারের এ ভালো উদ্যোগটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে যাচ্ছে বিসিসি (বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল), বেসরকারী এনটিটিএন প্রতিষ্ঠানগুলো। একনেকের সিদ্ধান্তকে অমান্য করে ৮টি পর্যায়ের দরপত্রকে দুটি ভাগে দিয়ে দিয়েছে বিসিসি। আর যোগাসাজশের মাধ্যমে সামিট কমিউনিকেশন ও ফাইবার অ্যাট হোম নামে দুটি এনটিটিএন প্রতিষ্ঠান এ দরপত্র হাতিয়ে নিয়েছে। এছাড়াও এনটিটিএন প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেট সেবা দেয়ার এখতিয়ার না থাকলেও এ দরপত্রের মাধ্যমে তারা বিধি বহির্ভূত এ সুযোগটি পেয়ে যাচ্ছে। প্রকল্প জুড়ে থাকছে অনেক অনিয়ম।”

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রকল্পটির দরপত্র আহ্বান, দরপ্রস্তাব মূল্যায়ন, কার্যাদেশ অনুমোদনের সুপারিশ এবং কার্যাদেশ প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কাজের আওতা নির্ধারনে ৪ টি সুনির্দিষ্ট অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে।  সেগুলো হচ্ছে- (১) একনেক থেকে  এ প্রকল্পকে ৮টি পর্যায়ে দরপত্র আহ্বানের জন্য অনুমোদন দেয়া হয়েছে। কিন্তু একনেকে সিদ্ধান্ত লঙ্ঘণ করে দুটি পর্যায়ে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। আর এ দুটি পর্যায়েও কেবল দুটি প্রতিষ্ঠানই দরপত্র জমা দেয়। এরমধ্যে সামিট কমিউনিকেশনস ১৩০৭টি ও ফাইবার অ্যাট হোম ১২৯৩টি ইউনিয়নে প্রকল্প বাস্তবায়নের সুপারিশপ্রাপ্ত হয়। একনেকের পূর্ব-অনুমোদন ব্যতিত, দুটি প্রতিষ্ঠানের বানিজ্যিক স্বার্থ রক্ষার্থে ৮টির স্থলে ২টি প্যাকেজে দরপত্র আহ্বান বিসিসির এখতিয়ার বহির্ভূত এবং সরকারের কার্যপ্রনালি-বিধিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘণ।

সংবাদ সম্মেলন থেকে এ বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে অনিয়ম ঠেকানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে আইএসপিএবি।-প্রেস রিলিজ

 

 

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মানুষের গড় আয়ু বেশি

ভারত, পাকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু বেশি

স্টাফ রিপোর্টার :: স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন ও চিকিৎসার নানামুখী অগ্রগতির প্রভাবে দেশে ...