ব্রেকিং নিউজ

হিন্দু হওয়াটাই কি আমার অপরাধ?

হিন্দু হওয়াটাই কি আমার অপরাধসৈকত দত্ত, শরীয়তপুর প্রতিনিধি :: শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে সিনিয়র স্টাফ নার্স নীলিম কান্না জড়িত কন্ঠে জানায়, হিন্দু হওয়ার কারণে আয়ার দ্বারা লাঞ্ছিত হয়েও বিচার পেলাম না। তা হলে কি হিন্দু হওয়াটাই আমার অপরাধ ছিল? আমার স্থালে যদি কোন মুসলিম নার্স লাঞ্ছিত হতো তা হলে ঠিকই ন্যায় বিচার পেতো। আমি সিভিল সার্জনের কাছে বিচার চেয়ে ভুল করেছি। সিভিল সার্জনের অযোগ্যতা আমার চোখ খুলেছে আর যতই লাঞ্ছিত হইনা কেন ওনার মতো কর্তৃপক্ষের কাছে বিচার চাইব না। সময় উপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বদলী হয়ে ভাল আছি। অযোগ্য সিভিল সার্জনের কাছে আর বিচার চাইতে হবে না।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে সিনিয়র স্টাফ নার্স নীলিমা রাণী তারই অধিনস্থ এমএলএসএস (আয়া) হোসনে আরা’র হাতে লাঞ্জিত হওয়ার ৪ মাসেও তদন্ত শেষ হয়নি। গত ২৮ জুলাই’১৫ মঙ্গলবার আয়া হোসনে আরা’র হাতে সিনিয়র স্টাফ নার্স নীলিমা রানী তার নিজস্ব কর্মস্থলে কর্তব্য পালনের সময় লাঞ্জিত হয়।

এ বিষয়ে নীলিমা রাণী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও সিভিল সার্জন এর বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করে। সিভিল সার্জন গত ১১আগস্ট’১৫ ৪ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন এবং ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়।

কিন্তু ৪ মাস অতিবাহিত হলেও তদন্ত প্রতিবেদন ফাইল বন্দি হয়ে আছে। বিচার পাওয়ার বিন্দু মাত্র ভরসা না পেয়ে অন্যত্র চলে গেলেন লাঞ্ছিত নার্স নীলিমা।

তদন্ত কমিটিঃ প্রধান সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ মসিউর রহমান টগর, জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মুনির আহমেদ খান, সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডাঃ সৈয়দা শাহিনুর নাজিয়া ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যানবীদ মোঃ সালাহউদ্দিন হাওলাদার।

এ বিষয়ে সুশীল সমাজের শান্তি প্রিয় লোকেরা বলেন, এই রকম একটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হলো না। বিষয়টি দুঃখ জনক যে বেচারি হিন্দু। মায়ের মত ভালোবাসা দিয়ে অসুস্থ মানুষকে সুস্থ করে তোলে নার্স। আর সেই যদি অপমানিত হয় একজন সাধারণ আয়া দ্বারা। স্বাস্থ্য বিভাগেতো আর যোগ্য কোন কর্মকর্তা নাই যে, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার করবে। বিভিন্ন সময় পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারছি জেলার সিভিল সার্জন অযোগ্য। তার দ্বারা স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না। নার্স নীলিমা অন্যত্র বদলী হয়ে গেছে সেটাই ভালো।

রোগীদের সাথে আলাপ কালে জানায়, ডাক্তারা অনেক সময় সারা দিনে একবার তাদের পাশে আসে। তাদের সেবা প্রদানে নার্সই সর্বক্ষণ কাছে থাকে। দিন আর রাত নাই ডাক দিলেই নার্সদের পাশে পায়। আর সেই নার্সদের যে অপমান করে তাদের কোন বিচার হয়না। হিন্দু নার্সদের ক্ষেত্রে যদি এমন হয় তাহলে এ পেশায় কোন হিন্দু পরিবারের মেয়ে আসবে না। সিভিল সার্জন তদন্ত কমিটি করে ৭ দিনের জন্য কিন্তু ৪মাসে তদন্তই শেষ হয় নাই। সিভিল সার্জন কি ঘুমায় নাকি?

সদর হাসপাতালের নার্সিং সুপার ভাইজার হালিমা আক্তার বলেন, নার্স নীলিমাকে পরিকল্পিত ভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। আমি প্রতিবাদ করায় আমাকে আমার পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিল সিভিল সার্জন। সেই দিকে নজর ছিল সিভিল সার্জনের কিন্তু বিচার দেখার ক্ষেত্রে তিনি নিরব।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ মসিউর রহমান টগর বলেন, তার বিচার অনেক আগেই হয়েছে। নার্স নীলিমা বদলী হয়ে অন্যত্র চলে গেছে। সে সম্পর্কে আর কি জানার আছে?

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

শিবগঞ্জের জঙ্গি আস্তানা

শিবগঞ্জের জঙ্গি আস্তানা থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার :: চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবপুর উপজেলার শিবনগর গ্রামে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে একটি ...