ব্রেকিং নিউজ

হাসপাতালের ডাক্তাররা ব্যস্ত থাকেন প্রাইভেট প্র্যাকটিসে

বান্দরবান সদর হাসপাতালেএনামুল হক কাশেমী, বান্দরবান প্রতিনিধি :: ১০০ শয্যার বান্দরবান সদর হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত রোগীরা। নিয়োজিত চিকিৎসা কর্মকর্তাদের বেশির ভাগই বিনাছুটিতে কর্মস্থলের বাইরে থাকছেন এবং প্রাইভেট চেম্বার, মিনি হাসাপাতাল ও ক্লিনিকেই মহাব্যস্ত সময় খাটান বেশি। সদর হাসপাতালের চিকিৎসকরা রোগীদের প্রাইভেট চেম্বর বা ক্লিনিকেই চিকিৎসাগ্রহণে বেশিউৎসাহ দিচ্ছেন।

ফলে রোগীরা উন্নত চিকিৎসার আশায় ঝুকঁছেন ক্লিনিকে। এসব কারণে গরিব ও অসহায় রোগীরা সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠান সদর হাসপাতালে ন্যুনতম চিকিৎসা টুকুও পাচ্ছেন না। কনসাল্টেন বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা কর্মকর্তাদের দেখাই মেলে না,তারা চিকিৎসক তালিকাায় থাকলেও সপ্তাহে মাত্র একদিনই কর্মস্থলে আসেন এবং ২/৩ ঘন্টা পর পরই কর্মস্থল ত্যাগ করেন।

এ অবস্থা চলছে দীর্ঘদিন ধরে বান্দরবান সদর হাসপাতালে। প্রতিদিন জেলার নানাস্থান থেকে চিকিৎসার্থে আসা বহুরোগী বিনা চিকিৎসায় ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন বলেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

গত বৃহস্পতিবার সকালে সদর হাসপাতালে চিকিৎসার্থে আসা কুলসুমা বেগম,খাদিজা খাতুন,সেলিম উদ্দিন ও কামাল হোসেন অভিযোগ করেন,ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকার পরও কাংখিত চিকিৎসকের দেখা মেলে না, ফলে বিনা চিকিৎসায় ফিরে যেতে হয়েছে। আবার হাসপাতালের কিছু কর্মচারী রোগীদের পরামর্শ দিয়ে থাকেন- অমুক চিকিৎসকের চেম্বারে যান,তিনি ভাল চিকিৎসক।

কয়েকজন রোগী বলেন,তারা ভাল ওষুধপত্র এ সদর হাসপাতাল থেকে কখনও পায় না। প্রেসক্রিপশনে ৩/৪ আইটেম ওষুধের নাম লিখা থাকলেও হাসপাতাল ফার্মেসী থেকে ১/২টি আইটেমের কিছু ট্যাবলেট দিয়েই বিদায় করে দেয়া হয় এবং বলা হয় বাইরের দোকান থেকে কিনুন অন্যসব ওষুধ।

জানা গেছে, বান্দরবান সদর হাসপাতালে মুল্যবান এবং জীবনরক্ষাকারী বিপুল পরিমাণ ওষুধ সরকারি ওষুধাগার থেকে সরবরাহ করা হলেও সেইসব ওষুূধের বেশির ভাগই কালোবাজারে বেচা-বিক্রি হয়ে যায়।

সম্প্রতি জেলা সদরে ২টি বেসরকারি মিনি হাসপাতাল চালু হওয়ার পর থেকেই মূলত সরকারি সদর হাসপাতালের কিছু চিকিৎসকের পোয়া বেড়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন সচেতন নাগরিকরা। জেলা সদরে গড়ে ওঠা দৃটি বেসরকারি মিনি হাসপাতাল হিলভিউ ও ইম্মানুয়েলে রাত-দিন ব্যস্ত থাকেন সদর হাসপাতালের কিছু সংখ্যক চিকিৎসক।

সম্প্রতি জেলা প্রশাসক সদর হাসপাতালে চলমান দুর্নীতির বিষয়ে স্বপ্রণোদিত হয়ে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেন। এ সংবাদ পেয়ে জেলার সরকারি দলের ডাক্তার প্রীতি কতিপয় নেতা অসন্তোষ প্রকাশ করেন জেলা প্রশাসকের ওপর,পরে সেই তদন্ত কমিটি হিমাগারে নথিভুক্ত হয়।

অভিযোগ উঠেছে-৩৩ ও ৩৪তম বিসিএস পরীক্ষা শেষে একযোগে ৩৮জন চিকিৎসককে বান্দরবান জেলায় নিয়োগ দেয়া হলেও তারা সরকারের উচ্চ পর্যায়ে চেষ্টা-তদবিরের মাধ্যমে কথিত প্রশিক্ষণ বা ভাল জায়গায় পোষ্টিং নিয়ে চলে যায় ৬মাস থেকে একবছরের মধ্যেই। বিধি মতে পোষ্টিং পাওয়া কর্মস্থল থেকে ২বছরের মধ্যে কোনভাবেই অন্যত্র বদলির সুযোগ নেই এবং কর্মস্থলে থাকাটা বাধ্যতামুলক মর্মে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সু-ষ্পষ্ট নিদের্শনাও বিদ্যমান।

স্বাস্থ্য বিভাগ পার্বত্য জেলা পরিষদে ন্যস্ত একটি সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠান। জেলা পরিষদের অক্ষমতার সুযোগ নিয়ে বিধিলংঘন করেই পোষ্টিং প্রাপ্ত চিকিৎসকের বেশিরভাগই অন্যত্র বদলির আদেশ নিয়ে ইতিমধ্যেই চলে গেছেন বলেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ও সিভিল সার্জন ডা.উদয় শংকর চাকামা বলেন, বান্দরবানে চিকিৎসকের তীব্র সঙ্কট রয়েছে, কোন ডাক্তারই এখানে বেশী দিন থাকতে চায় না। দূর্গম পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় ডাক্তারদের বাইরে প্র্যাকটিস করার সুযোগ না থাকায় তারা অন্যত্র চলে যায়। বিষয়টি তিনি বহুবার উপর মহলে জানিয়েছেন, তাতে কোন ফল হয়নি ডাক্তার আসে আবার চলে যায় এ অবস্থা রয়েই গেছে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মহিলা ও শিশু হাসপাতাল উদ্বোধন

নতুন মহিলা ও শিশু হাসপাতাল উদ্বোধন

স্টাফ রিপোর্টার :: মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি ...