হাটহাজারী পৌর এলাকার অলিগলিতে বেওয়ারিশ কুকুর

মোহাম্মদ হোসেন।

হাটহাজারী: হাটহাজারী পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে বেওয়ারিশ কুকুরের তান্ডবে অতীষ্ট হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। পৌরসভাধীন শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে,অলিগলি ও কৃষি জমিতে দলবেধে কুকুরের অবাধ চলাফেলায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তির যেন শেষ নেই।

illagle-dogপৌর কর্তৃপক্ষের কুকুর নিধন কার্যক্রম নেই বললেই চলে। এ কারণে দিন দিন বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বৃদ্ধিসহ উপদ্রব বেড়েই গেছে। শহরের অধিকাংশ এলাকায় ময়লার ভাগাড়গুলোতে কুকুরের জটলা স্থায়ী রূপ নিয়েছে। রাতের বেলায় কুকুর রাস্থায় শুয়ে-বসে থাকার ফলে অনেকে মোটরসাইকেলযোগে বাসায় ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন। এ

ছাড়া চলাফেলায় পথচারী থেকে শুরু করে নারী ও শিশুদের হাতে থাকা কোন প্রকার ব্যাগ দেখলেই কুকুরগুলো আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এদের জন্য এখন রাস্তায় চলাফেরা দায় হয়ে পড়েছে। গত কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে পাগলা কুকুরের হিংস্র আক্রমণের শিকার হয়ে স্কুল শিার্থীসহ অন্তত ২৫ জনের বেশি আক্রান্ত হয়ে রক্তাক্ত জখম হয়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষ কুকুর নিধনে কোন ধরনের ব্যবস্থা না নেওয়ায় পৌর শহরসহ আশপাশের এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের হিংস্র উৎপাতে স্কুল-কলেজের শিার্থীদের মধ্যে কুকুর আতঙ্ক বিরাজ করছে। পৌর শহরের ব্যবসায়ী, শিার্থী-অভিভাবক ও সর্বস্তরের জনসাধারণের মধ্যে এক ধরনের চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পৌর শহরের পূর্ব ও পশ্চিম দেওয়ান নগর,আজিমপাড়া,শায়েস্থা খাঁ পাড়া,কালা চাঁন্দ দিঘী,ফটিকা কামাল পাড়া,বউ বাজার,বুলবুলিপাড়া,রঙ্গীপাড়া,বাজার,মীরেরহাট,আব্বাইচাপুল বাইদানী পাড়া,করি চেয়ারম্যান ঘাটা,১১ মাইল, পশ্চিম দেওয়ান নগর কেরুপাড়া, ছড়ারকুল, মোহাম্মদপুর, করিয়ার দিঘী, মেহেদীপাড়া,হাটহাজারী বাস স্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন রোডে বেওয়ারিশ কুকুরের দল রীতিমত মহড়া দিচ্ছে। সুযোগ পেলেই তারা হিংস্র আক্রমণ করে লোকজনদেরকে আক্রান্ত করছে। কুকুরের আক্রমণে যারা আহত হয়েছেন তাদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে।

শহরের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, কুকুরের দল প্রায়ই হোটেল-রেঁস্তোরার খাবার তৈরির জিনিসপত্রে মল-মূত্র ত্যাগ করে। এছাড়া বেশির ভাগ কুকুর বিভিন্ন রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে জীবাণু ছড়াচ্ছে। ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে কুকুর নিধনে পৌর কর্তৃপকে পদপে গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। কুকুর আতংকে কোমলমতি শিার্থীরা বিদ্যালয়ে যেতে ভয়ে থাকেন। সাধারণ মানুষও রাস্থাঘাটে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছেন না। অনেককে কুকুর কামড় দিলেও হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন না পাওয়ায় জনমনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কুকুর নিধনেও সংশ্লিষ্টরা উদাসীন রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়,

পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে লোকজনের সাথে কথা বলে তারা জানান, শহরের বিভিন্ন অলিগলিতে পাগলা কুকুরের কারণে বাসায় যাতায়াত ও রাস্থায় হাটা যায় না। মানুষ দেখলেই কুকুর তেড়ে আসে।

পৌর এলাকার অলিগলিতে এসব কুকুর দলবেঁধে ঘোরাফেরা করায় জনতা আতংকে থাকেন। ফটিকা এলাকার বাসিন্দা আবু তৈয়ব জানান, কিছুদিন আগে আমাকে পাগলা কুকুরে কামড় দিতে চেয়ে ছিল আলস্নাহ’র রহমতে বেঁচে যায়। বেওয়ারিশ কুকুর নিধনের জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে পৌরবাসীরা।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

সোহেল মেহেদী ও উপমার ‘ভালোবাসি বলবো তোকে’

সোহেল মেহেদী ও উপমার ‘ভালোবাসি বলবো তোকে’

স্টাফ রিপোর্টার :: ‘ভালোবাসি বলবো তোকে/ দিন যায় বলি বলি করে’ এমন ...