হাটহাজারীতে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা

মোহাম্মদ হোসেন।

হাটহাজারী: মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা ও নিম্ন তাপমাত্রার পাশাপাশি এবার ধেয়ে আসছে শৈত্যপ্রবাহ। গত কয়েক দিন ধরে ছুঁয়ে ছুটে আসা ঠান্ডা বাতাসেরই দাপট থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘন কুয়াশা ও নিম্ন তাপমাত্রার পাশাপাশি এবার ধেয়ে আসছে শৈত্যপ্রবাহ।

শীতের এমন দাপটে হাটহাজারীসহ কাঁপছে উত্তর চট্টগ্রামের মানুষ। দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া মানুষদেরকে। একইসঙ্গে বেড়ে গেছে ঠান্ডাজনিত নিউমোনিয়া, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়াসহ অন্যান্য রোগের প্রাদুর্ভাব ।

ঠান্ডাজনিত রোগে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু এবং বৃদ্ধরা। হাটহাজারী উপজেলা হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশু ওয়ার্ডে ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ শিশু শীতজনিত রোগে ভর্তি হচ্ছে। এর মধ্যে নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা প্রায় ৬০ শতাংশ। আর মেডিসিন বিভাগে শীতজনিত রোগীর চাপ বেড়েছে দ্বিগুণ।

মৌসুমি এসব রোগ শিশু আর বৃদ্ধদের বেশি হলেও এতে আক্রানত্ম রোগী ও অভিভাবকদের আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা।

হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. ফজলে রাব্বী বলেন, শীত শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতজনিত রোগীদেরই হাসপাতালে বেশি ভর্তি করা হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিশু।

হাসপাতালের  ওয়ার্ডে প্রায় ৭০ শতাংশ শিশু ঠান্ডা জনিত রোগে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুরা।

টিএইচও  বলেন, যদি কোনো শিশুর সর্দি-জ্বরের সঙ্গে কাশি, বুকে ঘ্যাড় ঘ্যাড় শব্দ হয় আর যদি শিশুর শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, তবে অবশ্যই ওই শিশুকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে। কারণ, ঠান্ডা জ্বরের সঙ্গে বুকে ঘ্যাড় ঘ্যাড় ও শ্বাসকষ্ট হওয়াটা নিউমোনিয়ার লক্ষণ। ভাইরাল ইনফেকশন ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকে নিউমোনিয়া হওয়ার প্রবণতা বেশি।

শিশুদের অভিভাবকদের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, শিশুদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বড়দের তুলনায় কম। তাই শিশুর রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এ সময় অবশ্যই পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে বুকের দুধ পান করাতে হবে। ছয় মাস বয়স পর্যনত্ম শিশুকে শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। শিশুর হাত, পায়ে মোজা এবং মাথায় টুপি পরিয়ে রাখতে হবে। শিশুর ডাইপার ঘন ঘন পরিবর্তন করতে হবে। ধূমপায়ী অভিভাবকদের শিশুদের সামনে ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে।

এ ওয়ার্ডে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বেশি। এর মধ্যে শ্বাসকষ্টের রোগীই বেশি। তাই সর্দি এবং জ্বরের সঙ্গে যদি কাশি হয় তাহলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিতে হবে। কাশির সঙ্গে যদি হলদে ভাবের কফ বের হয়, তাহলে অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন তিনি।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

সোহেল মেহেদী ও উপমার ‘ভালোবাসি বলবো তোকে’

সোহেল মেহেদী ও উপমার ‘ভালোবাসি বলবো তোকে’

স্টাফ রিপোর্টার :: ‘ভালোবাসি বলবো তোকে/ দিন যায় বলি বলি করে’ এমন ...