ব্রেকিং নিউজ

স্মৃতির পাতায় শেখ কামাল

mail.google.com11প্রতিবছর ১৫ আগস্ট ফিরে এলেই মনে পরে অতীতের অনেক স্মৃতি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনটি ছিল পবিত্র শুক্রবার। এইদিন সামরিক বাহিনী থেকে বহিষ্কৃত ও কর্তব্যরত কয়েকজন কলংকিত বেক্তি ও দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীরা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে তার ধানমন্ডি ৩২ নাম্বার বাসভবনে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে। রাজনীতিতে মতবিরোধ থাকতে পারে। থাকাটাই স্বাভাবিক। বিশ্বের সব দেশেই রাজনীতিতে প্রতিপক্ষ আছে এবং থাকবে। কিন্তু এজন্য রাতের অন্ধকারে স্ত্রী পুত্র, অন্তস্বত্তা পুত্রবধু ও ভাইসহ সকলকে একসাথে হত্যা করা হবে? বিশ্ব ইতিহাসের এই মর্মান্তিকতা ও কলংকিত ঘটনাকে প্রাথমিক অবস্থায় ধামা চাপা দিয়ে রাখার ষড়যন্ত্র করেছে চক্রান্তকারীদের নেতা খন্দকার মোস্তাক। পরবর্তিতে জেনারেল জিয়া, জেনারেল এরশাদ ও সবশেষে বিএনপি জামায়াত জোট সরকার একইধারা বজায় রাখে। কিন্তূ চক্রান্তকারীদের সকল ষড়যন্ত্র বের্থ করে দিয়ে দির্ঘ ২১ বছর পর ৯৬ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে দীর্ঘ প্রতিক্ষিত বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের কাজ শুরু করে। কিন্তু সে যাত্রায় আবারও আসে বাধা।  ২০০১ জামায়াত বিএনপি ক্ষমতায় এলে তারা পুনরায় বন্ধ করে দেয় বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারকার্য। এখানেই পরিষ্কারভাবে পরিস্ফুটিত হয়ে ফুটে উঠে বঙ্গবন্ধু হত্যার পেছনে জেনারেল জিয়াউর রহমানের সম্পর্কতা। যদি তা না হয়ে থাকে তাহলে বেগম খালেদা জিয়া জামায়াতকে সাথে নিয়ে কেন বন্ধ করে দিলেন বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারকার্য? শুধু তাই নয় জেনারেল জিয়া, জেনারেল এরশাদ ও বিএনপি জামায়াত জোট এসকল পরিচিত খুনিদের বিদেশে বাংলাদেশ দুতাবাসে চাকুরী দিয়ে পুরস্কৃত পর্যন্ত করেছে। অবশেষে সকল বাধা বিপত্তি ও চক্রান্ত অতিক্রম করে মহাঐক্যজোট সরকার ইতিহাসের এই নিষ্ঠুরতম অন্যায়ের বিরুদ্ধে সত্যের জয় নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার বিচারের মাধ্যমে বেশ কয়েকজন খুনিদের মৃত্যুদন্ড কার্যকরী করতে সক্ষম হয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে আজ আকাশের তারার মতো জল জল করে জলছে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের নাম। প্রতিবছর ঘুরে ফিরে এই আগস্ট মাস এলেই মনে পরে যায় অনেক স্মৃতি, অনেক ঘটনা, অনেক ইতিহাস। জীবন থেকে নেওয়া এই খন্ড খন্ড স্মৃতিগুলো আমার মনের মাঝে এখনো জীবন্ত হয়ে আছে।  ১৯৭৩ সাল। আমি তখন ঢাকা আইডিয়াল কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। সভাপতি ছিলেন ফরিদপুরের গোলাম কিবরিয়া। ঐসময় ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন মমতাজ হোসেন। তিনি পরবর্তীতে ব্রুনাইতে হাইকমিশনার ছিলেন।  বর্তমানে আওয়ামী লীগ রাজনীতির সাথে সক্রিয়। এই কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ঢাকা কলেজের ছাত্র সৈয়দ নুরুল ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন জগন্নাথ কলেজের শফিকুর রহমান। কলেজ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে প্রায় দিনই সন্ধায় যেতে হতো মিরপুর ৩০ নম্বর রোডে ছাত্রলীগ ঢাকা মহানগর  কমিটির অফিসে। উপর তালায় কেন্দ্রীয় অফিস যেখানে বসতেন ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ শহীদুল ইসলাম আর সাধারণ সম্পাদক এম এ রশিদ। আর নিচের তালায় ছিল ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের অফিস। এখানে বসতেন মমতাজ হোসেন ও সৈয়দ নুরুল ইসলাম। এখানেই একদিন ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নুরুল ইসলাম ভাই পরিচয় করিয়ে দিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জৈষ্ঠ পুত্র  কামাল ভাইয়ের সাথে। তার সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। যুদ্ধকালীন সময়ে তিনি লেফটেনেন্ট পদে সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময়টা জেনারেল ওসমানীর পাশে থেকে তিনি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন। স্বাধীনতার পর সেনাবাহিনী ছেড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্ধালয়ে সমাজ বিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে পুনরায় শিক্ষা জীবনে ফিরে আসেন। এই সময় কামাল ভাই ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে সরাসরি ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগ দেখাশুনা করতেন কামাল ভাই। এই কামাল ভাইকে নিয়ে আমার রাজনৈতিক জীবনের অনেক স্মৃতি আছে যা স্বরণীয় হয়ে থাকবে।  কামাল ভাই দিনের শেষে প্রায়ই ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের অফিসে এসে আমাদের খোজ খবর নিতেন। তিনি যেমনি ছিলেন কমল তেমনি ছিলেন সাহসী। ঢাকা মহানগরের কর্মীরা ছিল তার প্রানের চেয়েও বেশি। ৭৩ শেষে কিংবা ৭৪ প্রথমদিকের কোনো এক মাসে পাকিস্থানের প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভুট্টো এক সংক্ষিপ্ত সফরে ঢাকা আসেন। ঢাকার মিরপুর মোহাম্মদপুরের বিহারী, স্বাধীনতা বিরোধী চক্র ও জামাত মুসলিম লীগ পন্থীরা ঢাকা তেজগাঁও বিমান বন্দরে পাকিস্তানী প্রেসিডেন্টকে -পাকিস্তান জিন্দাবাদ- স্লোগান দিয়ে স্বাগত জানায়। যার কারণে বাংলাদেশে লক্ষ্য লক্ষ্য লোককে প্রাণ দিতে হয়েছে,সেই মানুষটিকে মাত্র দুই বছরের বেবধানে এতবড় সম্বর্ধনা!! স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির কাছে এ এক বিরাট অপমান, এক বিরাট আঘাত, এক বিরাট পরাজয়। এর একটা বিহিত অবশ্যই করা উচিত। ভুট্টোকে বুঝতে হবে বাংলার স্বাধীনচেতা মানুষ তোমাকে চায় না। যারা তোমাকে স্বাগত জানিয়েছে তারা মুষ্টিমেও। তারা হানাদার পাকিস্থানের সৃষ্টি রাজাকার ও দালাল।  ঐদিন সন্ধায় মিরপুর ৩০ নাম্বার রোড ছাত্রলীগ অফিসে যথা  সময়ে  ছাত্রলীগের  কর্মী  ও  নেতারা  এসে  জড়ো হতে  থাকে । নেতা ও কর্মীদের মুখে চোখে তখন সংগ্রামী আগুন জলছে। এত বড় অপমান কি করে সহ্য করা যায়। ভুট্টোকে দেখাতে হবে, প্রতিবাদ করে বলতে হবে, আমরা তোমার রক্ত মাখা হাতের কথা ভুলিনি, কখনো ভুলবো না, ভুলতে পারি না। রাতে ছাত্রলীগ অফিসে বসে ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি মমতাজ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নুরুল ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমানসহ সকলেই  সিদ্ধান্ত নিলেন আগামীকাল ভুট্টোকে সাভার সৃতিসৌধে কালো পতাকা প্রদর্শনের কর্মসূচি। সকালে পাকিস্থানের প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো যখন সাভার সৃতিসৌধে শহীদদের সন্মানে মাল্যদানে যাবেন তখন তাকে কালো পতাকা প্রদর্শন করা হবে। সিদ্ধান্ত অনুসারে সারা রাত চললো প্রস্তুতি।  শুরু হলো পোস্টার আর বেনার লেখার কাজ। রাতে ঢাকা নিউমার্কেট পোস্ট অফিস সংলগ্ন আর্ট কলেজের ছাত্রাবাসে গিয়ে পোস্টার ও বেনার লেখার জন্য যাবতীয় জিনিসপত্র পৌছে দেওয়া হলো। সারারাত ঢাকা কলেজ, আইডিয়াল কলেজ, সিটি কলেজ, নিউ মডেল ডিগ্রী কলেজ, সেন্ট্রাল কলেজ, ইডেন কলেজসহ আসে পাশের অন্যান্য কলেজগুলোতে গিয়ে ছাত্রলীগ কর্মীদের খুব ভোরে অফিসে আসতে বলা হলো। এবেপারে সালাম, জাহাঙ্গীর, বাতেন ও আব্দুস সামাদ পিন্টু আইডিয়াল কলেজ, মামুন সিটি কলেজ, সেলিম, দেলওয়ার, পারভেজ, শামিম আফজাল, বাবলু রউফ, ইউনুস ঢাকা কলেজ, পারভীন ও নাজমা লালমাটিয়া কলেজ, ফজিলাতুন্নেসা ইডেন কলেজ, নুরুল হক খান সেলিম নিউ মডেল ডিগ্রী কলেজ, তাহের, শওকত ও আকবর আলী মর্জি তেজগাঁও কলেজ, রফিক, আজিজ, মালে, সলি, আনিস তিতুমীর কলেজ, কামাল, জহির ও মোহন জগন্নাথ কলেজ, কামাল মজুমদার কবি নজরুল কলেজ, হেলাল, নান্দু সরওয়ার্দি কলেজ সহ আরো অনেকের উপর কর্মী জড়ো করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। ঐদিন রাতে তেজগাঁও রেল ক্রসিং এর পাশ থেকে কয়েকটি ট্রাক ভাড়া করা হয়। গভীর রাতে

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

এএইচএম নোমান

সত্তর’র ভয়াল ১২ নভেম্বর: ধ্বংস থেকে সৃষ্টি

এএইচএম নোমান :: ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর গভীর রাতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান তথা ...