স্মার্টফোনের কারণে বাড়ছে স্ট্রেইন ইনজুরি

একটা সময় ছিল যখন শুধু কথা বলার জন্যই মোবাইল ফোন ব্যবহার করা হতো৷ কিন্তু এখন আরও অনেক কাজেই সেটা ব্যবহৃত হচ্ছে৷ ফলে দিনের একটা বড় সময় মানুষ মোবাইলে ব্যস্ত থাকছে৷ এতে বাড়ছে নানা সমস্যা৷

মোবাইল বলুন আর কম্পিউটার৷ দুটো বস্তুই যখন প্রথম হাতের নাগালে এলো তখন সেগুলো আকারে ছিল বেশ বড়৷ পরবর্তীতে বিভিন্ন কোম্পানির মধ্যে প্রতিযোগিতার কারণে এসবের আকার ছোট হতে থাকে৷

যেমন আগে যেখানে কম্পিউটার রাখার জন্য একটা টেবিল লাগতো৷ এখন সেখানে হাতের তালুতে বা দুপায়ের উপর রেখেই ব্যবহার করা যাচ্ছে৷ অর্থাৎ ওজন ও সাইজে কম্পিউটারগুলো ছোট হয়ে গেছে৷ এর ফলে যেটা হয়েছে সেটা হচ্ছে মনিটরের আকার ও কীবোর্ডের কী গুলো ছোট হয়ে গেছে৷

এবার আসি মোবাইল ফোনের কথায়৷ আগে শুধু কথা বলার জন্যই ব্যবহৃত হতো যন্ত্রটি৷ কিন্তু এখন গান শোনা, এসএমএস পাঠানো, চ্যাটিং, ইন্টারনেট ব্রাউজিং অর্থাৎ অনেকটা কম্পিউটারের মতই ব্যবহৃত হচ্ছে মোবাইল ফোন, যাকে বলা হয় স্মার্টফোন৷

এক হিসেবে দেখা গেছে, প্রায় ৪৪ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক কথা বলা ছাড়াও অন্য কাজে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে থাকেন৷ এবং সেটা দিনে গড়ে প্রায় আধা ঘন্টা থেকে দুই ঘন্টা সময় ধরে৷ এর ফলে ব্যবহারকারীরা প্রায়ই ঘাড়ে ও হাতের বুড়ো আঙ্গুলে ব্যথা অনুভব করছেন৷

ব্রিটিশ ডাক্তার টিম হাচফুল বলছেন, তাঁর এক রোগী এতই স্মার্টফোন ব্যবহার করেছেন যে তিনি এখন হাতের ব্যথায় কোনো কাজ করতে পারছেনা৷

এদিকে সামি মার্গো নামের এক ফিজিওথেরাপিস্ট বলছেন হাতে ব্যথার কারণে তাঁর এক রোগী এখন টেক্সট মেসেজের পরিবর্তে ভয়েস রিকগনিশন সফটওয়্যার ব্যবহার করে বার্তা আদানপ্রদান করছে৷Bildunterschrift:

তবে স্মার্টফোন ব্যবহারের কারণে শুধু হাতেই নয় ব্যথা হচ্ছে ঘাড়েও৷ কেননা এসব ফোনের স্ক্রিন এতই ছোট যে সেখানকার লেখাগুলো ভালভাবে পড়ার জন্য ঘাড় নুইয়ে থাকতে হয়৷

টিম হাচফুল বলছেন একেকজন মানুষের মাথার ওজন সাড়ে চার থেকে পাঁচ কেজি হয়ে থাকে৷ এবং মানুষের দেহের গঠনটা এমন যে মাথা থেকে শুরু করে পা পর্যন্ত সেটা এক সরল রেখায় থাকে৷ কিন্তু স্মার্টফোন ব্যবহার করতে গিয়ে ঘাড় নোয়ানোর কারণে মাথার ওজন বেড়ে যায় প্রায় চারগুন! যার প্রভাব গিয়ে পড়ে অন্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের উপর৷

আঙ্গুল ও ঘাড়ে এধরণের ব্যথাকে বলা হয় ‘রিপিটিটিভ স্ট্রেইন ইনজুরি বা আরএসআই’৷ ফ্রান্সে এই আরএসআই’এর কারণেই সবচেয়ে বেশি মানুষ অসুস্থতাজনিত ছুটি নিয়ে থাকে৷

কিন্তু স্মার্টফোন এমন একটা বস্তু যেটা ব্যবহার না করেও থাকা সম্ভব নয়৷ আবার সেটা করতে গিয়ে শরীর খারাপ করুক এটাও নিশ্চয় কেউ চাইবেন না৷ তাহলে কী করা উচিত? টিম হাচফুল সেটার একটা উপায়ও বলে দিয়েছেন৷ তিনি বলছেন স্মার্টফোন ব্যবহারের সময় দিনে গড়ে ৪০ মিনিটের নীচে নামিয়ে আনতে৷ এছাড়া কাজের ফাঁকে ফাঁকে একটু সময় বের করে বিশ্রাম নিতে হবে৷ আর যোগাযোগের অন্য মাধ্যমগুলোও ব্যবহার করতে হবে৷

এদিকে সাম মার্গো বলছেন স্মার্টফোনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকির মুখে আছে শিশুরা, কেননা তারাও অনেক বেশি বেশি এই ফোন ব্যবহার করে থাকে৷ তিনি বলেন, ‘আমি এমন বাসার খবরও জানি যেখানে এক রুম থেকে আরেক রুমে যোগাযোগের জন্য শিশুরা টেক্সট পাঠিয়ে থাকে’৷

ইউনাইটেড নিউজ ২৪ ডট কম/ইউএন নিউজ

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

পদত্যাগ করলেন আলিবাবা ডটকমের জ্যাক মা

ষ্টাফ রিপোর্টার :: জনকল্যাণ কাজে সময় দিতে নির্বাহী চেয়ারম্যানের পদ ছাড়লেন, আলিবাবা ...