ব্রেকিং নিউজ

‘স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে আজ নিজের জীবন বিপন্ন’

Taslima Begomমোঃ শহিদুল ইসলাম, বাগেরহাট প্রতিনিধি :: “স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে আজ নিজের জীবন বিপন্ন। এদেশ থেকে বিচার ব্যবস্থা ওঠে গেছে। পুলিশও আমার কোন কথা শুনতে চায় না। আমরা গরীব তাই এ অবস্থা। কোথায় গেলে বিচার পাব জানিনা। স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে পরিবার পরিজনসহ পালিয়ে বেড়াচ্ছি। ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলের লেখাপড়াও বন্ধের পথে। স্কুলে যাওয়ার পথে মারধর করে।”

বাগেরহাটে চাঞ্চল্যকর কৃষক মোখলেছ হত্যা মামলার বাদী তাছলিমা বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে সাংবাদিকদের কাছে এমন অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, গত ১৭ জুন মোরেলগঞ্জ উপজেলার চরহোগলাবুনিয়া গ্রামের কৃষক (আমার স্বামী) মোখলেছুর রহমানকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্য দিবালোকে উপর্যুপরি কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় ১৬ জনকে আসামী করে মোরেলগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। এরপর থেকে প্রভাবশালী আসামীরা নিজেেেদর বাচাতে বেপরোয়া হয়ে ওঠে। হত্যা মামলা তুলে নিতে মামলার বাদীকে একের পর এক হুমকী ধামকী ও বাড়ি ঘরে হামলা ও হয়রানিমূলক মামলাও দিচ্ছে আসামীরা।

এ ঘটনায় মোরেলগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরী করা হলেও কোন প্রতিকার পায়নি ভুক্তভোগী পরিবারটি। মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন(পিবিআই)-এর তদন্তধীন রয়েছে। ঐ মামলার দুজন আসামীকে আটক করে জেলা হাজতে পাঠালে অন্য আসামী ও আসামীর স্বজনরা আরও বেশি বেপোরোয়া হয়ে ওঠে।

এর মধ্যে ৯ নভেম্বর সকাল ৯টার দিকে বাদী তাছলিমা বেগম জেলাপি কেনার জন্য বাড়ির সিমান্তবর্তী পাশ্বর্বতী ইন্দুরকানী থানার বটতলা বাজারে গেলে আসামীর স্বজন মান্নান হাজীর নেতৃত্বে ৫-৬ জন সন্ত্রাসী তাকে পিটিয়ে আহত করে। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে পিরোজপুর হাসপাতালে ভর্তি করে তাছলিমাকে।

এ ঘটনায় ইন্দুরকানী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। অথচ এ ঘটনার পরের দিন নিজেদের মামলা থেকে আড়াল করার জন্য উল্টো আমার (তাছলিমা) ১২ বছরের শিশু ছেলে সোলায়মান, মেয়ে মাকসুদা ও রাবেয়া এবং দুই ভাইসহ ৭ জনকে আসামী করে মোরেলগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করে আসামী পক্ষের লোকজন। হত্যা মামলা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য পলিকল্পিতভাবে হয়রানি মূলক মামলা দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তাছলিমা বেগম। তবে বাদী পক্ষের করা মামলার কোন আসামীকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি।

গ্রামবাসী মুজিবর, সরোয়ার হোসেন পিন্টু, শহিদুলসহ অনেকে জানান, হত্যা মামলা দায়েরের পর থেকে আসামীরা বেপরোয়া হয়ে বাদীর পরিবারকে একের পর এক হুমকি ধামকী দিয়ে নানাভাবে শায়েস্তা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে হত দরিদ্র ঐ পরিবারটি আসামীদের ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। আমরা চাই সঠিক তদন্ত করে বিচার করা হোক। প্রকাশ্য দিবালোকে একজন মানুষকে হত্যা করা হল, এ ঘটনার যদি বিচার না হয়। এলাকায় অপরাধের রাম রাজত্ব কায়েম হবে, অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে বলে অভিযোগ করেন গ্রামবাসী। একজন কৃষক সত্য কথা বলার কারণে আজ এ অবস্থা।

ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, আসামীদের বাড়ি মোরেলগঞ্জ উপজেলায়। তাই গ্রেফতারের জন্য মোরেলগঞ্জ থানায় ইনকোয়ারি সিলিপ প্রদান করা হয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী তারা আসামীদের আটক করবে।

মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম আজিজুল ইসলাম বলেন, চরহোগলাবুনিয়া গ্রামের হামলার ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জন্য পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। যেই অপরাধী হোকনা কেন আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

বিয়ের প্রলোভনে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ১

স্টাফ রিপোর্টার :: সাভারে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে একজনকে ...