ব্রেকিং নিউজ

স্বাধীনতার স্বাদ

ঝর্না চৌধুরী,

পরাধীনতার কবল থেকে বের হয়ে স্বাধীনতার স্বাদ নেবার ইচ্ছা শুধু মানুষের মধ্যেই বিদ্যমান বললে ভুল ই বলা হবে কারণ এটা পৃথিবীর সকল প্রাণীকুলের মধ্যেই লক্ষণীয়-জীব-জন্তু,প্রাণী,মানুষ এই পৃথিবীতে স্ব-স্ব স্থানে  স্বাধীন ভাবে বিচরণ করতে চায় এটা জন্মগত ভাবেই পাওয়া-স্বাধীন ভাবে বেঁচে থাকার চেষ্টার ক্ষেত্রে প্রাণীকুলের মস্তিষ্কই সর্ব প্রথম  কাজ করে-পরাধীনতার গ্লানি থেকে রক্ষা পাবার আশায়, কাজে-কর্মে বেঁচে থাকার প্রতিটি ক্ষেত্রে-কারণে বা অকারণে,ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় পরাধীনতায় বন্দী হলেই প্রাণী তার সব শক্তি প্রয়োগ করে স্বাধীন হতে চায়-পরাধীণ হলে সে প্রবল ভাবে অনুভব করে স্বাধীনতার স্বাদ কতটা মধুর !!

মানুষ যেহেতু এই পৃথিবীর সব চাইতে উন্নত জ্ঞান- সম্পন্ন প্রাণী এই ক্ষেত্রে তাদের এই স্বাদ গ্রহণের ইচ্ছা আরও প্রকট-তাই মানুষ এই পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুক না কেন যখন ই দেখে তার নিজের,পরিবারের,সমাজের,ভাষার বা দেশের উপর এই পরাধীনতার কালো ছায়া ভর করছে বা সম্ভাবনা আছে তখন ই তার মস্তিষ্ক বা আমরা যাকে মন বলে আখ্যায়িত করি তা বিদ্রোহী হয়ে উঠে আর পর্যায়ক্রমে তার সব শারীরিক,মানসিক,অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক,ধর্মগত,আইনগত ও লোকবল দিকসহ যা আছে সব প্রয়োগ করে স্বাধীন হতে চায়—-পরাধীনতার কারাগার থেকে আর এই লক্ষ্যে ১৯৭১ সালে এই দেশের মানুষ পাকিস্তানী শাসক ও শোষক শ্রেণীর নির্যাতন ও নিপীড়নের হাত থেকে রক্ষা পাবার জন্য দেয়ালে তাদের পিঠ ঠেকে যাবার পরও উপযুক্ত প্রস্তুতি ছাড়াই যার যতটুকু ছিল তা নিয়েই মা, মাটিকে পরাধীনতার কলঙ্কের হাত থেকে মুক্ত করার মানসে জীবন বাজি ধরে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো—-লক্ষ লক্ষ মা,বোন,কন্যার সম্ভ্রম আর অগণিত মানুষের জীবন দিয়ে ও রক্তের স্রোতের বিনিময়ে,  সম্পদ বিনষ্ট করে দেশটিকে  ধ্বংস স্তুপে পরিণত করে ও স্বাধীনতার লাল সূর্যটাকে ছিনিয়ে এনেছিল অনেক স্বপ্ন নিয়ে – নিজেরা স্বাধীন ভাবে কাজ করে পরিবার ,সমাজ,দেশটিকে শিক্ষা,কর্ম ও সম্পদে সমৃদ্ধ করবে বুক ভরা এই আশা নিয়ে—-আজ স্বাধীনতার ৪২ বছর পর আমরা কতোটুকু সফলতা পেয়েছি , হয়তো চার ভাগের দুই ভাগ টেনেটুনে আর বাকি দুই ভাগই অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছি।

তার পরিপ্রেক্ষিতেই নিচের গল্পটি তুলে ধরলাম——-

চারিদিকে হৈচৈ আর গুলির শব্দে রাহেলার ঘুম ভেঙ্গে গেল ।সে দৌড়ে ঘর থেকে বের হয়ে চিৎকার করে মাকে জিজ্ঞেস করলো ,মা মা ,তুমি কই গেলা? চারপাশে এত শব্দ ক্যান? মা গোয়াল ঘর থেকে বের হয়ে বললেন, আমাগর দেশের অবস্থা যে,খুব খারাফ হেইডা তো তুই জানস ই! পাকবাহিনীরা আমাগো দেশটারে কাইর‍্যা নিবার চাইতাছে! তাই আমাগর গেরামের সব জোয়ান পোলারা তাগর বিরদ্ধে যুদ্ধ করার লাইগ্যা টেনিং লইতাছে ।

তোর বাপজান কাইল দুঃখ কইরা কইল, আমার রাহেলাডা যদি মাইয়্যা না অইয়া পোলা অইত তাইলে তারে লইয়া এক সাথে যুদ্ধ করতে যাইতাম। আমি তহন কইলাম ,তুমি আমাগরে ফালাইয়া যুদ্ধে যাইবা ক্যামনে ? মাইয়্যাডার কাবিন করছ বড় ঘরের শিক্ষিত পোলার লগে ,টাগরে কতা দিছ ম্যাটটিক পরীক্ষার পর ই তুইল্যা দিবা —-আমাগর তো দশ টা না পাচটা একটা মাত্র মাইয়্যা ,আশা তো করছি আত্মিয়- স্বজন সবাইরে আনাইয়া ধুমধাম কইরা তুইল্যা দিমু ।

তহন তর বাপ কি কইল জানস,আগে দেশ মারে বাছাইয়া লই ,মারে বিপদে রাইখ্যা সন্তান কি হাসি মুখে ঘরে বইয়া থাকতে পারে ?মারে স্বাধীন কইর‍্যা তার মুখে হাসি ফুটাইয়া তারপর মাইয়্যারে নিশ্চিন্তে শশুর বাড়ি পাঠামু -দেশের লাইগ্যা তর বাপের এত মায়া দেইখ্যা আমার কান্দন আইছিল,আমি আর কিছু কইতে পারি নাই!

মায়ের কথাগুলো শুনে রাহেলা চিন্তিত বলল,দেশের যা অবস্থা চলতাছে তাতে তো মনে অইতাছে পরীক্ষা দিতে পারুম না!

মা ভরসা দিয়ে বললেন, তুই চিন্তা করিছ না-আমাগর দেশের মানুষরা দেশটারে মুক্ত কইরাই ছাড়বো।পাকবাহিনীরা যতই কুচেষ্টা করুক না ক্যান,এই বার আর আমাগর অধিকার কাইড়্যা নিবার পারতো না।তুই এইসব চিন্তা না কইরা মন দিয়া খালি পড়,তর কিন্তু বালা পরীক্ষা দিতে অইব।

যতই সময় যেতে লাগলো দেশের পরিস্থিতি ততই ঘোলাটে হতে শুরু করলো —-রাহেলার বাবা শত বাঁধা সত্ত্বেও পরিবারের সবার চোখে জল দেখেও যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে চলে গেলেন।

রাহেলা ও তার মা রেডিওতে কান পেতে দেশের পরিস্থিতি জানার চেষ্টা করছিলেন,এমন সময় রাহেলার কাবিন করা স্বামী আনোয়ার এসে হাজির হল।নতুন জামাইকে দেখে রাহেলার মা উঠে রান্না ঘরের দিকে চলে গেলেন।তখন আনোয়ার রাহেলার হাতখানী ধরে যুদ্ধে যাবার অনুমতি চাইল।রাহেলা স্বামীকে কাছে পাবার আগেই যুদ্ধে যাবার কথা শুনে ভয়ে শঙ্কিত হয়ে কোন টু-শব্দ না করে অঝোর ধারায় কাঁদতে লাগলো।  আনোয়ার তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলল,দেশটাকে শত্রুদের হাত থেকে রক্ষা করে পরাধীনতার গ্লানি দূর করে,  স্বাধীনতার লাল সূর্যটাকে হাতে নিয়ে ঘরে ফিরবো তারপর এসে স্বাধীন দেশে তোমাকে নিয়ে সুখের সংসার গড়বো। শুধু দোয়া করো, আমরা যেন আর পরাধীনতার কাছে হার না মানি।

যুদ্ধের তাণ্ডবলীলা বাড়ার সাথে সাথে গ্রাম পুরুষশূন্য হতে লাগলো—-সাহসী বালক,যুবক,বৃদ্ধ যারাই মুক্তিকামী ছিলেন তারাই ছুটে গেলেন যুদ্ধের আহবানে !তখন দেশের অন্যান্য মানুষগণ প্রাণ রক্ষার তাগিদে শহর থেকে গ্রামে আর গ্রাম থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে আশ্রয় নিতে লাগলেন।যাদের কোথাও যাবার জায়গা ছিল না তারা মাটির নীচে গর্তখুঁড়ে জীবন্ত অবস্থায় ই মৃতের মতো অবস্থান নিলেন।রাহেলাদের কোথাও যাবার জায়গা ছিল না বলে তারা নিজেদের বসত ভিটায় পড়ে রইলেন।তাদের আশে- পাশে যারা ছিলেন সবাই মনে করলেন যে,এমন প্রত্যন্ত অঞ্চলে পাক- হানাদার বাহিনী আসবে না।কিন্তু তারা কল্পনাও করতে পারেনি যে,এই দেশের এই গ্রামগুলোর আর শহরগুলোর কিছু অমানুষ রাজাকার,আলবদর,আলশামস নামধারী পাক-হানাদার বাহিনীর সাথে স্বার্থের কারণে আঁতাত গড়ে মা,মাটি আর স্বাধীনতার বিরুদ্ধে লড়ে দেশের মা,বোন,কন্যার সম্ভ্রমহানী করে বুকে গুলি করে হত্যা করতে পারবে,ঘরবাড়ি পুড়িয়ে সব লুটপাট করে নিয়ে যেতে পারবে!মুক্তিকামী মানুষদেরকে,মুক্তি বাহিনীদের সাহায্যকারীদেরকে আর মুক্তিবাহিনীদেরকে বর্বরোচিত ভাবে হত্যা করে রক্তের বন্যায় দেশটিকে ভাসিয়ে দিতে পারবে !!

এক অমাবস্যার কাল রাত্রিতে পাক-হানাদার বাহিনীর একদল তাদের দোসরদের সাহায্য নিয়ে রাহেলাদের গ্রামের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো—–ঘুমন্ত গ্রামের ঘুমন্ত মানুষদের উপর চলল নরপিশাচদের তাণ্ডবলীলা !!

পাকবাহিনীর পিশাচরা যখন রাহেলাকে নিয়ে টানা-হেঁচড়া করছিল তখন মা আর তার আর্ত-চিৎকারে আশ-পাশের বাতাস ভারি হয়ে কান্নার প্রতিধ্বনি রাহেলার কানে বাজছিল বার বার তবুও পিশাচদের মন গলছিল না !!মা কন্যার ইজ্জত ভিক্ষা চাচ্ছিলেন,পিশাচদের এক এক করে সবার পা জড়িয়ে ধরে আর্তনাদ করে,কিন্তু মায়ের আহাজারিতে  তাদের কাজের ব্যাঘাত ঘটায় এক পিশাচ রাহেলার চোখের সামনে তার মায়ের বুকে গুলি ছুঁড়লো আর তৎক্ষণাৎ মা মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন তখন ই রাহেলা তার শরীরের সবটুকু শক্তিদিয়ে মা বলেই জ্ঞান হারালো ।

যেদিন তার জ্ঞান ফিরলো তখন সে জানতে পারলো,মুক্তিবাহিনীরা তাকে উদ্ধার করে তাদের তাবুতে এনে সেবা-যত্ন করে সুস্থ করার চেষ্টা করছেন।তখনো সে পুরোপুরি সুস্থ হয়নি বলে সে বাড়ি যেতে চাইলেও তাকে যেতে দেয়া হলো না। সেখানে থাকতে থাকতেই সে শুনতে পেলো—–বাংলার সোনার ছেলেরা পাক বাহিনী ও তাদের দোসরদের শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে স্বাধীনতার লাল সূর্যটাকে ছিনিয়ে এনেছে !!!!

রাহেলার দু’চোখ বেয়ে আনন্দ অশ্রু ঝরতে লাগলো সেই সাথে মায়ের মৃত্যুর দৃশ্যটিও চোখে ভাসতে লাগলো-তারপরও স্বাধীনতার সুখে ভাবতে লাগলো ,ফিরে গিয়ে তার বাপজান আর আনোয়ারকে দেখতে পাবে!

সে সুস্থ হয়ে আশ্রয়স্থল থেকে বিদায় নিয়ে তাদের গ্রামে এসে দেখতে পেলো গুটিকয়েক বাড়ি ছাড়া আর সবগুলো পুড়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে,তাদের বাড়িটির অস্তিত্ব ও নেই-  আহারে,তার মাথা গুজার ঠাইটুকু ও নেই !!কিছু দিন এই বাড়ি ,ঐ বাড়ি থেকে থেকে অপেক্ষা করতে লাগলো তার বাপজান আর আনোয়ারের ফিরে আসার অপেক্ষায় – কয়েক মাস পর তাদের গ্রামের এক মুক্তি যোদ্ধা ফিরে এসে তাকে জানালো তার বাপজান আর আনোয়ার দু’জন ই যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন !! রাহেলা সব শুনে বাকরুদ্ধ হয়ে গেলো ,তার চোখের জল তো সেই দিন ই শুকিয়ে গিয়েছিল যেদিন তার সম্ভ্রমসহ মাকে হারাতে হয়েছিল!!

শ্বশুর বাড়িতে খবর নিয়ে দেখলো, তার ভাসুরের বউ আর তার এক ছোট বাচ্চা ছাড়া আর কেউ বেঁচে নেই। যুদ্ধের কালবৈশাখীর ঝড়ে তার শ্বশুর বাড়িটিও উড়ে গেছে !!

গ্রামের চারিদিকে শুধু হাহাকার আর হাহাকার-কারো মুখে হাসি নেই, কারো পেটে ভাত নেই আর কোথাও কোন কাজ ও নেই তাই সবাই শহরমুখী ,অবশেষে পেটের দায়ে রাহেলাও শহর অভিমুখে রওনা দিল । পথিমধ্যে একজন লোক তার জীবনের করুণ কাহিনী শুনে চাকরি দেবার আশ্বাস দিয়ে নিয়ে এসে অন্ধকার এক পতিতা পল্লীতে বিক্রি করে দিল।সেই থেকে শুরু হল, তার স্বপ্নহীন অভিশপ্ত জীবন।মাঝে মাঝে তার বুকফাটা আর্তনাদে এই অন্ধকার গলির বাতাস ভারি হয়ে যায়——-

স্বাধীনতার ৩০ বছর পর ও যখন একদিন রাহেলা আবারো তার অতীত স্মৃতি মনে করে  বিলাপ করছিলো তখন সহ্য করতে না পেরে সেখানকার আরেকজন রুমেনা তার কাছে এসে সান্ত্বনা দিয়ে বললো ,আর কত কান্দস? এইহানে তর চোখের পানির এক পয়সার  দাম নাই! এইহানে আইয়া একবার ঢুইক্যা পড়লে বুকে পাথর চাপা  দিয়া মইরা মইরা বাঁচতে অয় যদিও এই বাঁচা কুত্তার জীবনের চাইতেও জঘন্য—- তুই ত ভাবিস, তর একলার ই দুঃখ আর সবাই এইহানে আইসে সুখে !! তাইলে হুন, আমার জীবনের পরাজয়ের কাহিনী ———

আমি ও বুক ভরা স্বপ্ন নিয়া স্বাধীন দেশে সুখের সংসার গড়ছিলাম।স্বামী –সন্তান সব ই আছিল ,আমার সোয়ামী রিক্সা চালাইত আর আমি চাইর কেলাস পর্যন্ত পড়ালেহা করছিলাম দেইখ্যা একটা গার্মেন্টসে কাম পাইছিলাম।সুখে –দুখে দিনগুলা কোন মতে কাইটা যাইতাছিল -কিন্তু একদিন সইন্ধ্যা বেলা কাম শেষে বাড়ি ফিরবার পথে স্বাধীন দেশের দানবগর হাতে পইড়্যা ইজ্জত হারাইয়া হাসপাতালে মরার সাথে পাঞ্জা লইড়া প্রায় দের মাস পর যখন বাড়ি ফিরলাম তহন আমার সোয়ামী আমারে আর সংসারে জায়গা দলো না ,হেই কুইল কী জানস ,আমি না কি অপবিত্র অইয়া গেছে তাই তার সংসারে আমারে জায়গা দিলে,তার সংসার না কি অপবিত্র অইয়া যাইব !!কি আর করুম , কোন হানে ঠাই না পাইয়া নিজের পেটের  খিদার যন্ত্রণায় পাগল অইয়া ইচ্ছায় এই পাপের পথে পা বাড়াইছি !!!!

তুই ত পরাধীন দেশের পশুগর শিকারে ক্ষত-বিক্ষত অইয়া নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে এই হানে আইছস আর আমি ত স্বাধীন দেশের অমানুষগর লালসার শিকারে সব হারাইয়া নিজের ইচ্ছায় এইহানে নাম লিখাইছি———

রাহেলা , রুমেনার কথায় দিশেহারা হয়ে , চিৎকার করে বলতে লাগলো , আহারে স্বাধীনতা !!!! এই স্বাধীনতা পাইবার লাইগ্যা ই কী আমার বাপজান আর আনোয়ারের মতো লক্ষ লক্ষ মানুষ বুকের তাজা রক্ত দিছিল?? রক্তের স্রোতে পরাধীনতারে ভাসাইয়া দিছিল-আমার মত লক্ষ লক্ষ নারীরা সম্ভ্রম হারাইয়া, জীবন দিয়া আর এই অন্ধকার গলির বাসিন্দা অইয়া-আমরা আমাদের এই ত্যাগের বিনিময়েই কী পাইতাছি এই স্বাধীনতার স্বাদ ??!!??

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

"রামগতি তোমায় ভালোবাসি"

‘রামগতি তোমায় ভালোবাসি’

সুলতান মাহমুদ আরিফ :: ভালোবাসা আর ভালোলাগার প্রিয় জায়গা রামগতির ভালোবাসাময় প্রিয় ...