স্কুলে যাওয়ার যুদ্ধে পরাজিত ওরা !

নদী ভাঙনে বিদ্যালয় স্থানান্তরের কারণে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক কমেছে।শিপুফরাজী, চরফ্যাসন :: ভোলা জেলার চরফ্যাসন উপজেলার ঢালচরে নদী ভাঙনের কারণে শিক্ষাচিত্র কিছুটা ভিন্ন । এখানে জেলে পাড়ার শিশুদের স্কুলে যাওয়াটা জীবনের আরেক যুদ্ধ। আর সেই যুদ্ধে পরাজিত হয় অনেকেই। যেসব কিশোর-তরুণেরা এখন মাছধরাসহ বহুমূখী শ্রমে রোজগারে ব্যস্ত; এদের অনেকেরই স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া করে মানুষ হবে। কিন্তু স্বপ্নপূরণ হয়নি। বিরূপ প্রকৃতি ওদের সহায় হয়নি। অবশেষে স্কুলের বইখাতা ফেলে শ্রমিকের তালিকায় নাম লেখাতে বাধ্য হয়েছে তারা।

চরের পশ্চিম ঢালচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদীতে হারিয়ে যাওয়ার পর এই শেলটারেই স্থানান্তর করা হয়েছে। আলাপ হলো এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহিরুল হকের সাথে। তিনি জানালেন, দ্বীপের প্রাকৃতিক এই বিপর্যয় শিক্ষা ব্যবস্থায় মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়েছে, ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের দালালপুর থেকে বিদ্যালয়টি চার মাস আগে স্থানান্তর করা হয়েছে ২নং ওয়ার্ডের হাজীপুর গ্রামে। এখানে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রের দোতলায় স্কুলের কাজ পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু এখানে শিক্ষার পরিবেশ নেই।

ছাত্রছাত্রীদের বসার স্থান নেই; খেলার মাঠ নেই। টয়লেটের অবস্থা ভালো নয়।

প্রধান শিক্ষক জানালেন, স্থানান্তরের কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক কমেছে। এক সময় ৩০০ থেকে ৩৫০ শিক্ষার্থী থাকলেও এখন শিক্ষার্থী সংখ্যা মাত্র ১৭০জন।

’দ্বীপের অপর ঢালচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও নদী ভাঙনের কারণে একবার স্থানান্তর করা হয়েছে। এটির কার্যক্রম চলছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কোস্টট্রাস্টের দোতলা ভবনের নিচতলায়। মুজিব কিল্লা সংলগ্ন উত্তর ঢালচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও ভাঙনের মুখে চলে এসেছে।

অন্যদিকে ঢালচর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও একমাত্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়টিও ভাঙনের খুব কাছাকাছি। ভাঙনের বর্তমান গতি অব্যাহত থাকলে অচিরেই বাকি তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও স্থানান্তর করতে হবে।

ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের হাজীপুরে ঢালচর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় সুপার মো আমীর হোসেনের জানান, ভাঙনের মুখে থাকায় শিক্ষার্থী সংখ্যা দিন দিন কমছে। এক হিসাব দেখিয়ে মাদ্রাসা সুপার বলেন, ২০১৭ সালের প্রথম দিকে ৪৭৯জন শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও বছর শেষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় মাত্র ২৫০ জনে। এখনও প্রতিদিন বিদ্যালয় পরিবর্তনের সার্টিফিকেট নিতে আসছে শিক্ষার্থীরা।
দাখিল মাদ্রাসার পাশেই রয়েছে একতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভবন। পুরনো ভবনটির পলেস্তারা খসে পড়ছে। শ্রেণীকক্ষের অবস্থাও ভালো নয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, মাধ্যমিক বিদ্যালয়েও শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে।

ঢালচর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুস সালাম হাওলাদার বলেন, এই দ্বীপের অভিভাবকেরা অনেক কষ্ট করে ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠায়। কিন্তু প্রকৃতির বৈরিতায়, বিশেষ করে নদী ভাঙনের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় মারাত্মক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বর্ষাকালে ছেলেমেয়েদের স্কুলে যেতে খুবই সমস্যা দেখা দেয়। শিক্ষার সংকট উত্তরণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন ভবনের পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি ।

 

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

'টপ এমপ্লয়ার' এর স্বীকৃতি পেল বিএটি বাংলাদেশ

‘টপ এমপ্লয়ার’ স্বীকৃতি পেল বিএটি বাংলাদেশ

ঢাকা :: বৃটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো বাংলাদেশ প্রথম বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান হিসেবে সম্মানজনক ‘টপ ...