সোহাগের কবুতর প্রেম থেকে কবুতরের হাট

সোহাগের কবুতর প্রেম থেকে কবুতরের হাটখোরশেদ আলম বাবুল, শরীয়তপুর প্রতিনিধি :: বন্ধুর সাথে এক কবুতর খামারীর খামারে গিয়ে মো. শফিকুল ইসলাম সোহাগের কবুতরের প্রতি প্রেম জাগ্রত হয় । সেখান থেকে এক জোড়া পছন্দের কবুতরও কিনে আনেন সোহাগ। সেই থেকেই সোহাগের কবুতর পালন ও বিশ্বের নামিদামি কবুতর সংরক্ষণ কার্যক্রম শুরু। এখন সোহাগের পরিচর্যায় দেশের নামিদামি কবুতরের ৫০ জোরা কবুতর রয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী আরও কিছু কবুতর সংরক্ষণের জন্য শরীয়তপুরের চৌরঙ্গী এলাকায় কবুতরের হাট বসিয়েছেন সোহাগ।

সপ্তাহের শনি ও বুধাবার সকালে চৌরঙ্গী অফিসার্স ক্লাবের সামনে বকুতরের হাট বসে। ব্যাপক সাড়া মিলেছে সোহাগের কবুতরের হাটে। নিজ জেলাসহ পাশবর্তী জেলার কবুতর খামারীরা আসেন সোহাগের কবুতরের হাটে। বকুতরের পাশাপাশি হাস-মুরগী ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ওঠে এ হাটে। বেচাকেনাও হয় কল্পনাতিত। ব্যাপক প্রচার থেকে প্রসার হতে পারে এ হাটের। তাই ফেসকুক, টুইটার ও মাইকিং এর মাধ্যমে প্রচার শুরু করেছে সে। এ কবুতরের হাট দেশের বিখ্যাত হাটে পরিচিত লাভ করবে বলে সোহাগের ধারণা।

কবুতর প্রেম সম্পর্কে জানতে সোহাগের সাথে কথা হয়। জানতে চাওয়া হয় তার কবুতর প্রেমের উৎসাহ। তখন সোহাগ জানায়, শরীয়তপুরের চৌরঙ্গী এলাকার তুলাসার গ্রামে তার বাড়ি। সে পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তার বন্ধু রাসেল হুজাইফার কিছু কবুতর ছিল। হুজাইফা একদিন সোহাগকে সাথে নিয়ে এক কবুতর খামারীর বাড়ি যায়। সেখানে একটা খাচার ভিতর এক জোড়া ওমা প্রজাতের কবুতর তার পছন্দ হয়। ৩ হাজার ৫শ টাকা দাম করে সোহাগ সে ওমা কবুতর কিনে আনে। সেই থেকেই তার কবুতর প্রেম জাগ্রত হয়।

এখন সোহাগের ফার্মে নামিদামি ওমা, রেসার, কাগজী, সিরাজী, গ্রিবাস (সবুজ গলা, জিরা গলা, খাকী, খয়েরী, গোলা, চিল্লা), ক্লাক রেসার, বাংলা, মুখী, লক্ষ্যা, কালদম, কিং, বিউটি ওমা সহ বিভিন্ন প্রজাতের ৫০ জোড়া কবুতর রয়েছে। একজিভিশন ওমা, হেলমেট, ঝাক, ম্যাগপাই ও পক্ষী জাতের কবুতরের খোঁজে রয়েছেন সোহাগ। এ সকল কবুতর তার সংগ্রহশালায় যোগ করতে কবুতরের হাট বসিয়েছে তিনি।

সোহাগ আরও জানায়, এক সাথে ৫০ জোড়া কবুতর ঘন্টার পর ঘন্টা আকাশে উড়বে। সেই কবুতর দেখে অন্যরা উৎসাহিত হবে এবং কবুতর পালন শুরু করবে। তাহলে তার সখ পূর্ণ হবে।

ম্যাগপাই ও চিল্লা কবুতর সম্পর্কে জানতে চাইলে সোহাগ জানায়, এ দুই প্রজাতির কবুতর ৮ ঘন্টা ধরে আকাশে উড়তে পারে। উড়তে উড়তে তারা আকাশের সাথে মিলে যায়। চিল্লা কবুতর আকাশের নীলের সাথে মিলে গেলে আর ফিরে আসতে পারে না। ম্যাঘপাই কবুতর আকাশের নীলে অদৃশ্য হয়ে গেলেও ফিরে আসতে সক্ষম হয়। তাই চিল্লা ও ম্যাঘপাই কবুতর এক সাথে থাকলে আকাশের নীল থেকে বেরিয়ে ফিরে আসতে পারে।

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে খামারীরা সোহাগের হাটে কবুতর নিয়ে আসবে এবং দেশের অন্যতম হাট হবে সোহাগের কবুতরের হাট। তাই সকল কবুতর প্রেমীদের আমন্ত্রন জানিয়েছে সোহাগ তার কবুতরের হাটে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

‘আজ আমার পালা’

চলন্ত বাসে মেয়েদের মলেস্ট করার গল্প

স্টাফ রিপোর্টার :: পাবলিক বাসে নারীদের যৌন হয়রানির বিষয়টি অহরহ ঘটছে আমাদের ...