ব্রেকিং নিউজ
Home / অর্থনীতি / সোনামসজিদ স্থলবন্দর রাজস্ব আদায়ে ধস

সোনামসজিদ স্থলবন্দর রাজস্ব আদায়ে ধস

সোনামসজিদ স্থলবন্দর রাজস্ব আদায়ে ধস মোঃ আশরাফুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি :: সোনামসজিদ স্থলবন্দরে চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসেও রাজস্ব ঘাটতি পূরণ করতে পারেনি কাস্টমস। রাজস্ব আদায়ে ধস নেমেছে। রাজস্ব বোর্ডের বেঁধে দেয়া লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে সোনামসজিদ কাস্টমস।

সোনামসজিদ কাস্টমস সূত্র জানায়, চলতি ছয় মাসে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৩৬ কোটি ৯৬ লাখ ৯৮ হাজার টাকা এর বিপরীতে আয় হয়েছে ১৭২ কোটি ৩৯ লাখ ৩১ হাজার টাকা। সে হিসেবে অর্থবছরের ছয় মাসের সোনামসজিদ কাস্টমসের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬৪ কোটি ৫৭ লাখ ৬৭ হাজার টাকা রাজস্ব আয় কম হয়েছে।

ছয় মাস অনুসারে দেখা যায়, গত জুলাই মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৮ কোটি ৮ লাখ ৭ হাজার টাকা, আয় হয়েছে ২৭ কোটি ৩৯ লাখ ৫৬ হাজার, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭৮ লাখ ৫১ হাজার টাকা রাজস্ব আয় কম হয়েছে।

আগস্ট মাসে লক্ষ্যমাত্রা ৩৪ কোটি ১ লাখ ১০ হাজার টাকা, আয় হয়েছে ৩১ কোটি ২৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকা, রাজস্ব কম হয়েছে ২ কোটি ৭১ লাখ ১৫ হাজার টাকা।

সেপ্টেম্বর মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৫ কোটি ৩১ লাখ ৯১ হাজার টাকা। আয় হয়েছে ২৫ কোটি ৭৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা, রাজস্ব আয় কম হয়েছে ৯ কোটি ৫৩ লাখ ১১ হাজার টাকা।

অক্টোবর মাসে ৪৩ কোটি ২০ লাখ ৩৯ হাজার টাকা। আয় হয়েছে ২৪ কোটি ৯৪ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। রাজস্ব আয় কম হয়েছে ১৮ কোটি ২৫ লাখ ৭৩ হাজার টাকা।

নভেম্বর মাসে ৪৮ কোটি ৭৪ লাখ ৮ হাজার টাকা। আয় হয়েছে ৩৫ কোটি ২৪ লাখ ১৮ হাজার টাকা। রাজস্ব আয় কম হয়েছে ১৩ কোটি ৪৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

সর্বশেষ গত ডিসেম্বর মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৭ কোটি ৬১ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। আয় হয়েছে ২৭ কোটি ৮২ লাখ ১৬ হাজার টাকা। রাজস্ব কম হয়েছে ১৯ কোটি ৭৯ লাখ ২৭ হাজার টাকা। সে হিসাবে গত জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে রাজস্ব আয়ে বড় ধরণের ধস নেমেছে।

এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার পেছনে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, রাজস্ব আয়ের পরিমাণ বাড়াতে গিয়ে সোনামসজিদ কাস্টমস আমদানিকৃত সব ধরণের পণ্যের শুল্কমূল্য দফায় দফায় বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি নানামুখী হয়রানির ফলে আমদানিকারকেরা সোনামসজিদ বন্দর ছেড়ে অন্য স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি করছে। এসব কারণে সোনামসজিদে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা আয়ে বড় ধরণের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

সোনামসজিদ স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানি গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক শফিউর রহমান বাবু জানান, এ বন্দর দিয়ে আমদানি কমে যাওয়ায় রাজস্ব আয়ে ধস নেমেছে।

এদিকে সোনামসজিদ স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের সাথে সংশ্লিষ্টরা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হারুন অর রশিদ জানান, ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্য যথা সময়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ছাড়করণের বিলম্ব করে থাকে।

এছাড়াও আমদানীকৃত পণ্য ছাড়ে কাস্টমসের কড়াকড়ি, নিয়মিত পণ্য ছাড়ে বিলম্ব, সোনামসজিদ কাস্টমস কর্মকর্তারা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কোনো ধরণের আলোচনা না করেই আমদানিকৃত পণ্যের শুল্কায়ন মূল্য বৃদ্ধি করে ইচ্ছামতো এইচএস কোড পরিবর্তন করায় আমদানিকারকেরা এ বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানিতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।

সোনামসজিদে দায়িত্বরত সহকারী কাস্টমস কমিশনার সোলাইমান হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বন্দরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কাস্টমসের নিয়মনীতি মোতাবেক আমদানিকৃত পণ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ছাড়করণ করা হয়।

তিনি আরও জানান, আমদানিকৃত পণ্য সোনামসজিদ পানামা ইয়ার্ডের ভেতরে প্রবেশের পর এক মাসেও কোন কোন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট বিল অব এন্ট্রি দাখিল করেননা।

তিনি জানান, আবার কোন কোন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট আমদানিকৃত পণ্য ছাড়করণের জন্য অসম্পূর্ণ কাগজপত্র দিয়ে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করেন। এসব সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টকে যথাসময়ে বিল অব এন্ট্রি দাখিল ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ বিল অব এন্ট্রি দাখিল করার জন্য একাধিকবার তাগিদপত্র দিলেও কোন কর্ণপাত করেননা। ফলে আমদানিকৃত পণ্য ছাড়ে মূলত এসব কারণেই পণ্য ছাড়ে বিলম্ব হয়ে থাকে।

অন্যদিকে কোন কোন ফল আমদানি কারকেরা অভিযোগ করে বলেন- এ বন্দর দিয়ে ফল আমদানি না হওয়ার কারণ ফরমালিন পরীক্ষার নামে অর্থ আদায় করে হয়রানী করা হয়। অন্য বন্দরের কাচা পণ্যের কোন ফরমালিন পরীক্ষা হয়না।

এবিষয়ে সিএঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হারুন অর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অ্যাসোসিয়েশনের বিভিন্ন খরচের জন্য কিছু অর্থ নেয়া হয় বলে স্বীকার করেন। বিভিন্ন কারণে সোনামসজিদ স্থলবন্দরে গত ছয় মাসেও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে গতিশীলতা ফিরে আসেনি। তবে স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের সাথে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করে বলেন সোনামসজিদে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে গতিশীলতা ফিরে না আসার জন্য অনিবার্চিত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান কর্তা ব্যক্তিকেই দুষচ্ছেন অনেকেই।

বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে গতিশীলতা ফিরে না আসার জন্য অ্যাসোসিয়েশনের কর্তাদের অদক্ষতার ও সমন্বয়ের অভাব রয়েছে বলে বিভিন্ন স্থান থেকে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

তারানা হালিমের সঙ্গে পূর্ণিমা শীল

সেই পূর্ণিমাকে ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিলেন তারানা হালিম

স্টাফ রিপোর্টার :: ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সহিংসতার ...