‘সে আসছে মা, আমি এবার মারা যাব’

18aa92b6fe1c76102f54490a8574c8d5-image‘সে আসছে মা, আমি এবার মারা যাব’—শনিবার দিবাগত রাতে মায়ের কাছে ছেলের এসএমএস।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের অরল্যান্ডো শহরের সমকামীদের একটি নৈশ ক্লাবে হামলা চালান আফগান বংশোদ্ভূত ২৯ বছর বয়সী ওমর মতিন। তাঁর বাড়ি ফ্লোরিডায় পোর্ট সেন্ট লুইসে। শনিবার দিবাগত রাতে তাঁর এলোপাতাড়ি গুলিতে কমপক্ষে ৫০ জন নিহত হয়েছেন। ওই ক্লাব থেকে এক ছেলে তার মাকে মোবাইলে এসএমএস পাঠিয়েছে, ‘বন্দুকধারী লোকটি আমাদের বন্দী বানিয়েছে, আমি এবার মারা যাব।’
বার্তা সংস্থা এএফপি, গার্ডিয়ান, এনবিসি মা ও ছেলেও ওই এসএমএস বার্তা ধরে একটি খবর প্রকাশ করেছে। পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো। অরল্যান্ডোর নাইট ক্লাবে হামলার দায় স্বীকার করেছে আইএস।

ঘড়িতে তখন রাত ২টা ৬ মিনিট। ফ্লোরিডার মিনা জাস্টিস গভীর ঘুমে। মাথার কাছে রাখা মোবাইলে এসএমএস আসে। এসএমএসের শব্দে ঘুম চোখেই মোবাইলে স্ক্রিনে তাকান তিনি। ছেলে এডি জাস্টিসের এসএমএস, ‘মা আমি তোমাকে ভালোবাসি।’ আবার এসএমএস আসল, ‘ক্লাবের ভেতর গুলি চলছে।’
মধ্য রাতে ৩০ বছর বয়সী ছেলের এমন এসএমএসে ঘুমের ঘোর কেটে যায় মায়ের। বিহ্বল মা ছেলেকে ফোন করে জানতে চান, কী হয়েছে? কিন্তু ফোন ধরলেন না ছেলে এডি। মা এবার এসএমএস করলেন, ‘তুমি ঠিক আছো তো?’ মিনিট খানেক পরে উত্তর এল, ‘বাথরুমে আটকা পড়েছি।’ কোন ক্লাব? এডি জানালেন, ‘শহরতলির পালস ক্লাবে।’ এক মিনিট পর আবার এসএমএস, ‘আমি মারা যাচ্ছি।’

এডি অরল্যান্ডোর শহরতলিতে আলাদা থাকতেন। মা জানতেন, ছেলে সমকামী এবং নৈশ ক্লাবে যাতায়াত করে। শুধু জানতেন না, এমন একটা ভয়ংকর রাত অপেক্ষা করে ছিল।

ছেলের সঙ্গে কয়েকটি এসএমএস আদান-প্রদানের পরই মায়ের কাছে বিষয়টা পরিষ্কার হয়। ছেলে নৈশ ক্লাবে গিয়ে কোনো এক বন্দুকধারীর খপ্পরে পড়েছে। প্রাণ বাঁচাতে ছেলে বাথরুমে লুকিয়েছে। পুলিশের আপৎকালীন নম্বর ৯১১-এ ফোন করতে আর একটুও দেরি করেননি মিনা জাস্টিস। ছেলেকে এসএমএস পাঠিয়ে বলেন,
‘আমি পুলিশকে ফোন করেছি।’
‘তুমি এখনো ওখানেই আটকে আছ?’ ‘উত্তর দাও।’
‘আমাকে ফোন করো।’

অনেকক্ষণ ছেলে এডির কোনো উত্তর নেই। মা বিহ্বল। কী করবেন বুঝতে পারছেন না। পুলিশের কাছ থেকেও কোনো খবর পাচ্ছেন না। ২টা ৩৯ মিনিটে এসএমএস আসে মিনার মোবাইলে। মোবাইল চোখের সামনে তুলে নিয়ে মিনা দেখলেন এডি লিখেছেন, ‘পুলিশকে ফোন করো মা। এখনই করো।’ এবার এডির মোবাইল থেকে পরপর এসএমএস আসে।
‘বন্দুকধারী লোকটা আসছে। আমি এবার মারা যাব, মা।’
মিনা ছেলেকে জিজ্ঞাসা করলেন, কারও কোনো ক্ষতি হয়েছে কি? এডির ছোট্ট জবাব, ‘হ্যাঁ, অনেকেই।’

মিনা জানতে চান, পুলিশ পৌঁছেছে কি না? এডি জানান, না, পৌঁছায়নি। এরপরের এসএমএসে মিনা প্রায় উন্মাদ হয়ে গেলেন। কারণ, এডি জানিয়েছেন, বন্দুকধারী বাথরুমে ঢুকে তাঁদের বন্দী করেছে। মাকে এডির কাতর আর্তি, ‘পুলিশকে তাড়াতাড়ি আসতে বলো।’

মিনার বিশ্বাস হচ্ছিল না। আবার জিজ্ঞাসা করলেন, ‘লোকটা বাথরুমে ঢুকে তোমাদের বন্দী বানিয়েছে?’ ২টা ৫০ মিনিটে এডির এক শব্দের এসএমএস, ‘হ্যাঁ।’

সেটাই ছিল এডির শেষ এসএমএস। মিনা জাস্টিস এরপরও বারবার এসএমএস করছিলেন। অনেকক্ষণ উত্তর না পেয়ে বেশ কয়েকবার ফোন করছিলেন। কিন্তু ওপাশ থেকে ছেলের কোনো জবাব নেই। উৎকণ্ঠার প্রহর পার করছেন। বারবার মিনার মনে হচ্ছিল, এখনই হয়তো এডির কাছ থেকে একটা এসএমএস আসবে। কিন্তু এসএমএস আর এল না। ফোনও এল না।

রোববার সকালে অরল্যান্ডো পুলিশ ওয়েবসাইটে নিহত ব্যক্তিদের একটি তালিকা প্রকাশ করা হলো। সেই তালিকায় মিলল এডি জাস্টিসের নাম। তবে জীবিত নয়, মৃতের তালিকায়।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

বছরে আত্মহত্যায় মারা যায় ৮ লাখ মানুষ

নিউজ ডেস্ক :: প্রত্যেক বছর প্রায় ৮,০০,০০০ মানুষ আত্মহত্যা করেন। । এমনটাই ...