সুমিকে নিয়ে বিপাকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ

সুমিকে নিয়ে বিপাকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষতন্ময় ভৌমিক, নওগাঁ প্রতিনিধি :: সুমি নামে অজ্ঞাত এক কিশোরীকে নিয়ে বিপাকে পড়েছে নওগাঁ সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। নওগাঁ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা অচেতন অবস্থায় গত ৫ জানুয়ারি তাকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে যায়। এর পর থেকে ওই কিশোরীটি হাসপাতালের মহিলা অর্থো ওয়ার্ডের ৮৯ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জানুয়ারি বগুড়া জেলার সান্তাহার রেল ষ্টেশন এলাকায় থেকে সুমি নামে আনুমানিক ১৬ বছরের কিশোরীকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে নওগাঁর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। উদ্ধারের পর নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়া হয়। ওই কিশোরীটি তার নাম সুমি বললেও বাবা-মার নাম একেক সময় একেক রকম বলছে।

কুষ্টিয়া জেলার সাইনবোর্ড এলাকায় বাড়ি বলছে। বাড়ীতে বাবা-মা, খালা-খালু থাকলেও কোনো ঠিকানা বা আত্মীয়-স্বজনদের কারও মোবাইল নম্বর বলতে পারছে না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশের মাধ্যমে কুষ্টিয়া থানায় যোগাযোগ করে সুমির নাম পরিচয়ের কোনো হদিস করতে পারেনি।

মহিলা অর্থো ওয়ার্ডের ইনচার্জ সেবিকা নেহেরা বানু জানান, মাথায় প্রচণ্ড আঘাত নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পাঁচ দিন পর্যন্ত কিশোরীটি অচেতন অবস্থায় ছিল। কিশোরীটি মাথায় আঘাত পেয়েছিল। তার মাথায় ১০-১২টি সেলাই দিতে হয়েছে। কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের সেবার ফলে সে ভর্তি হওয়ার ২০ দিনের মধ্যেই সুস্থ হয়ে ওঠে।

তিনি বলেন, জ্ঞান ফেরার পর তার নাম জানতে চাইলে সে জানায় তার নাম সুমি। কিন্তু বাবা-মার নাম একেক সময় একেক রকম বলছে। বাড়ির ঠিকানা বলছে কুষ্টিয়ার সাইনবোর্ড এলাকা ছাড়া আর কিছু বলতে পারছে না। হাসপাতালে ভর্তি করার সময় তার গায়ে নীল জামা-পায়জামা ও কালো রংয়ের একটি জ্যাকেট ছিল।

ওই ওয়ার্ডের আরেক সেবিকা জাহানারা বেগম বলেন, সুমিকে নিয়ে আমরা চরম বিপাকে পড়েছেন। ওয়ার্ডের মধ্যে সব সময় ছোটাছুটি করে। অন্য রোগীদের নানাভাবে বিরক্ত করে। প্রায়ই প্রতিদিনই মায়ের কাছে যাবে বলে কান্নাকাটি করে।

শিশুটির চিকিৎসা করছেন ডা. আরশাদ হোসেন। তিনি জানান, কিশোরীটি আগে থেকেই মানসিক ভারসাম্যহীন অথবা মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পাওয়ার ফলে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন শারীরিকভাবে সে সম্পূর্ণ সুস্থ হলেও তার এখন মানসিক চিকিৎসা প্রয়োজন।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আনজুমান আরা বলেন, ইত্যে মধ্যে পুলিশ, সমাজসেবা অধিদপ্তর, গণমাধ্যম সবার সঙ্গে যোগাযোগ করছি। কিন্তু তার কোনো ঠিকানা পাওয়া যাচ্ছে না। সব সময় তাকে নজরে রাখতে হয়। হারিয়ে গেলে তার দায়ভার তাদেরই নিতে হবে। তিনি আরো জানান, আর কিছু দিন দেখে পরিচয় বা কোন আত্নীয় না পাওয়া গেলে পাবনা হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করব।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

শিবগঞ্জের জঙ্গি আস্তানা

শিবগঞ্জের জঙ্গি আস্তানা থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার :: চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবপুর উপজেলার শিবনগর গ্রামে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে একটি ...