সিন্ডিকেট চক্রে গুচ্ছগ্রামবাসী

malআল-মামুন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি :: যুগের পর যুগ খাগড়াছড়ির ৮৪টি গুচ্ছগ্রামের ২৬হাজার ২শত ২০পরিবারের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে,যখন যে দল ক্ষমতায় আসে। তার মধ্যে মাটিরাঙ্গা উপজেলার ২৪টি গুচ্ছগ্রামে ৯,২,৬২টি পরিবারের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ বর্তমানে অর্ধহারে-অনাহারে মানবেতর দিনযাপন করছে।

গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প চেয়ারম্যান নিয়োগ যেন সিন্ডিকেট চক্রের বাণিজ্যে পরিনত হয়েছে। বিধি লংগন করে ২-৩ লাখ টাকার বিনিময়ে দলীয় অযোগ্য ব্যাক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলে একাদিক অভিযোগ রয়েছে।

যদিও বিধি মালায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির বিষয়টি সু-স্পষ্ট বলা আছে। এদিকে বাংলাদেশ সংবিধানে স্থানীয় সরকার পরিকল্পনা পরিষদের নীতিমালার ৫৯নং অনুচ্ছেদে স্পষ্ট উলেৱখ রয়েছে।

জনকল্যাণ মূখী যে কোন কাজ বা জনগনের আর্থিক সম্পৃক্ত সকল কাজ/জনসেবা মূলক সকল কাজ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি দ্বারা অবশ্যই করতে হবে। কিন্তু শুধু মোটা অংকের অর্থ বানিজ্যের জন্য সংবিদান লংগন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অপমান করে,রেশন বিতরন বিধি লঙ্গন করে সিন্ডিকেট চক্রের বানিজ্যিক নিয়মে চলছে বলে একাদিক সূত্র অভিযোগ তুলেন।

অনিয়ম ও টাকার বিনিময়ে নতুন গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প চেয়ারম্যান নিয়ে একাদিক অভিযোগ আর জটিলতায় এখন থমকে আছে সাধারন খেটে খাওয়া অসহায় গুচ্ছগ্রামবাসীর জীবন। এদিকে-মাটিরাঙ্গা সরকার দলীয় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি রকিবুল হাসান, নুরুল ইসলাম পিসি, তাজুল ইসলাম ও কুটু মিয়া বাবুল নিরুপাই হয়ে গত ১৬ নভেম্ব ২০১৪ইং তারিখে, যৌথভাবে বাদী হয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া অনির্বাচিত তাহের মিকার,কৃষক আলী মিয়া, ফেরু মিয়া টেইলার, ও মোস্তফা মিয়ার বিরুদ্ধে, সংবিধান ও গুচ্ছগ্রামের নীতিমালা লঙ্গনের অভিযোগ এনে হাই কোর্টে মামলা রুজু করলে, আদালত সেটি আমলে নিয়ে ৬ মাসের জন্য নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করে সংবিধান, অনুযায়ী কেন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধম্যে রেশন বিতরন করা হবেনা মর্মে একটি রুল জারি করেন।

সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া অনির্বাচিত নতুন চেয়ারম্যানগন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে (আপিল নংসিভিল পিটিশন নং-৩০৮৭/২০১৫)মূলে আপিল করলে, বাংলাদেশ সংবিদানের ৫৯ অনুচ্ছেদে জনপ্রতিনিধির বিষয়টি উল্লেখ থাকায় সুপ্রিম কোর্টের,হাই কোর্ট বিভাগ উক্ত নিয়োগ প্রক্রিয়াটি স্থগিত করেন, ফলে সুপ্রিম কোর্ট আপিল বিভাগ অনির্বাচিতদের আপিলটি খারিজ করে দেন। কিন্তু সৃষ্ট জটিলতায় দূর্ভোগের শিকার হয়ে পড়ে গুচ্ছগ্রামবাসী।

তথ্য অনুসন্ধনে জানা যায়, গুইমারা উপজেলায় গুচ্ছগ্রামবাসীর রেশন বিতরণ কালে অনির্বাচিত প্রকল্প চেয়ারম্যান দিয়ে রেশন বিতরন করলে,তারা চাউল দিলে গমের খবর রাখেনা। সরকার দলীয় জনপ্র্রতিনিধি কুটু মিঞা (বাবুল) মেম্বাকে বাদ দিয়ে, মুসলিমপাড়া-২ এ দলীয় বিবেচনায় আবু তাহের (মেকার)কে প্রকল্প চেয়ারম্যান বানিয়েছেন।

এর ফলে সৃষ্ট আইনি জটিলতার ফাকে পড়ে গুইমারার পাচঁশ রেশন ভোগি পরিবার রেশন সামগ্রী বিগত ছয় মাস ধরে খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করছেন। এদিকে, হাফছড়িতে বশর নামক এক ছিন্নমূল’কে সিন্ডিকেট চক্রের ছত্রছায়ায় প্রকল্প চেয়ারম্যান করায় বশর হতদরিদ্র হাফছড়ি গুচ্ছ গ্রামবাসির তিন ডিও (সত্তর লক্ষ টাকা মূল্যের) রেশন সামগ্রী গোপনে বিক্রি করে বলে জানা গেছে।

এর পর থেকে সে এলাকা ছেড়ে উদাও হয়ে যায়। পরবর্তীতে হাফছড়ি গুচছগ্রামবাসী অভাবের তাড়নায় স্থানীয় দলীয় লিড়ার, ইউএনও সহ প্রশাসনের উচচ পর্যায়ে দৌড়যাপ করে আজ ও পর্যন্ত এর কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নী অভিযোগ কার্ডধারী ও এলাকাবাসীর।

গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প চেয়ারম্যান নিয়োগ বিষয়ে মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা-মনিরুজ্জামান বকাউলের বলেন, এটি রাজনীতিবীদ, জনপ্রতিনিধি ও আদালতের ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। গুচ্ছগ্রাম বিষয়ে মামলার জবাব দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি নীতিমালা অনুসরণে করে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানান।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক অহিদুজ্জামান বলেন, হাই কোর্টের রিটের কারনে গুচ্ছগ্রামবাসী চাউল পাচ্ছে না। বর্তমান নিয়োগকৃতদের কার্যক্রম স্থগিত করায় এ খাদ্যশস্য বিতরণ করা যাচ্ছে না। কোর্টের আদেশ পাওয়া গেলে নীতিমালা অনুসরণ করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

বাসচাপায় প্রাণ হারালেন বাবা ছেলে

ষ্টাফ রিপোর্টার :: কিশোরগঞ্জে বাসচাপায় মোটর সাইকেলের আরোহী বাবা-ছেলেসহ তিনজন নিহত হয়েছে। ...