ব্রেকিং নিউজ

সাকিব-তাসকিনের নৈপুন্যে বাংলাদেশের রোমাঞ্চকর জয়

তৃতীয় উইকেটে রহমত-হাসমতের জুটি শঙ্কায় ফেলে টাইগারদের। তবে সাকিব, তাসকিনের বোলিং নৈপুন্যে দারুনভাবে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে আফগানদের ৭ রানে হারিয়েছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল।

taskin-on-wingsআফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে বাংলাদেশ দলে একটি জায়গা ফাঁকাই রাখা হয়েছিল তার জন্য। ফেরার ম্যাচে প্রথমে অনুজ্জ্বল ছিল তাসকিন। তবে শেষ দিকে দারুণ বোলিং করে বাংলাদেশকে জয়ও এনে দিলেন এই ফাস্ট বোলার।

মিরপুর শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রবিববার দুপুরে টস জিতে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৬৫ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। জবাবে আফগানিস্তানও শেষ বলে অলআউট হয় ২৫৮ রানে।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাশরাফির করা ইনিংসের সপ্তম ওভারের শেষ বলে মুশফিকুর রহিমের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন মোহাম্মদ শাহাজাদ (৩১)। অষ্টম ওভারের তৃতীয় বলে শাবির নূরিকে (৯) এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন সাকিব আল হাসান।

হাসমত-রহমতের শতরানের জুটি

hasmat-rahmat৪৬ রানে ২ উইকেট হারানোর পর তৃতীয় উইকেটে শতরানের জুটি জুটি গড়ে প্রতিরোধ গড়েন হাশমতউল্লাহ শাহিদি ও রহতম শাহ। দুজনই তুলে নেন ফিফটি। দলীয় ১৯০ রানে রহমতকে ফিরিয়ে ১৪৪ রানের জুটি ভাঙেন সাকিব। মুশফিকের হাতে স্টাম্পড হন রহমত (৭১)।

এরপর দলীয় ২১০ রানে হাশমতউল্লাহ শাহিদিকে সৌম্য সরকারের ক্যাচ বানিয়ে বিদায় করেন তাইজুল ইসলাম। দলীয় ১৩০ রানে নজিবুল্লাহ জাদরানকে মুশফিকের ক্যাচে পরিণত করেন মাশরাফি।

তাসকিনের শুভ প্রত্যাবর্তন

শেষ তিন ওভারে আফগানিস্তানের প্রয়োজন ছিল ২৭ রানে। তবে ৪৮তম ওভারে তিন বলের ব্যবধানে মোহাম্মদ নবী (৩০) ও আসগার স্টানিকজাইকে (১০) বিদায় করেন নিষেধাজ্ঞা থেকে ফেরা তাসকিন আহমেদ।

শেষ দুই ওভারে ৩ উইকেট হাতে রেখে আফগানদের প্রয়োজন ছিল ২১ রান। ওভারের পঞ্চম বলে রশিদ খান রুবেলকে চার মারেন। তবে পরের বলেই তাকে বোল্ড করেন রুবেল।

শেষ ওভারে আফগানিস্তানের প্রয়োজন পড়ে ১৩ রান। তবে তাসকিনের দারুণ বোলিংয়ে ৬ রানের বেশি নিতে পারেনি সফরকারীরা। দ্বিতীয় বলে মিরওয়েজ আশরাফ ও শেষ বলে দৌলত জাদরানকে আউট করে বাংলাদেশকে রোমাঞ্চকর জয় এনে দেন তাসকিন। ৮ ওভারে ৫৯ রানে মূল্যবান ৪ উইকেট নেন তরুণ ফাস্ট বোলার।

ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারে ফিরে গেছেন সৌম্য সরকার। পঞ্চম বলে দৌলতের বলে পুল করতে গিয়ে শূন্য রানে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তিনি।

এরপর ইমরুলকে নিয়ে উইকেটে থিতু হওয়ার চেষ্টা করে তামিম। ইনিংসের তৃতীয় ওভারের শেষ বলে দওলাত জাদরানকে ফ্লিক করে ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগ বাউন্ডারিতে চার মেরে ৯ হাজারী ক্লাবে পা রাখেন তামিম। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন ফরম্যাট- টেস্ট, ওয়ানডে ও টি২০ মিলে নিজের ঝুলিতে এ রান সংগ্রহ করেছেন তামিম।

১৯তম ওভারের প্রথম বলে তামিম-ইমরুলের ৮৩ রানের জুটি ভাঙ্গেন মোহাম্মদ নবী। ব্যক্তিগত ৩৭ রানে বোল্ড আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন ইমরুল। ম্যাচের এই অবস্থায় হাল ধরেন তামিম ও রিয়াদ।

বাংলাদেশের প্রথম এবং বিশ্বের ৮৯তম ব্যাটসম্যান হিসেবে ৯ হাজার আন্তর্জাতিক রানের মাইলফলক স্পর্শ করলেন তামিম ইকবাল। এ মাইলফলক ছোঁয়ার সময় তার সামনে ছিলেন ভারতের কিংবদন্তি খেলোয়াড় কপিল দেব।

৬৩ বলে ক্যারিয়ারের ৩৩তম হাফসেঞ্চুরি পূরণ করে ক্যারিয়ারের ৮ম শতকের পথেও হাঁটছিলেন তামিম ইকবাল। কিন্তু মিরওয়াইস আশরাফের একটি বলে স্বপ্ন ভঙ্গ হয় বাংলাদেশি ওপেনারের। সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েও যে আউট হয়ে গেছেন তিনি ৮০ রানে।

বাংলাদেশকে বড় পুঁজি এনে দিতে লড়াই করা মাহমুদউল্লাহ অর্ধশতক করেন ৬৫ বলে। দৌলত জাদরানের বলে লংঅন ও মিডউইকেটের মাঝ দিয়ে দারুণ এক চারে ক্যারিয়ারের ২৫তম অর্ধশতক করেন এই মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান। তবে ইনিংসটি বেশি লম্বা করতে পারেননি তিনি। বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার সাকিবের সঙ্গে মাহমুদুউল্লাহর ৪০ রানের জুটিতে দুইশ’ পার হয় বাংলাদেশের সংগ্রহ।

৩৬ তম ওভারের প্রথম বলে মোহাম্মদ নবীর বলে বাউন্ডারি লাইনে দাড়িয়ে মিরওয়াইসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৬২ রানে সাজঘরে ফেরেন তিনি।

উইকেটে এসে দ্রুত ফিরে যান মি. ডিপেন্ড্যাবেল মুশফিকুর রহিম। ৪৩তম ওভারের শেষ বলে রশিদ খানের গুগলিতে পরাস্ত হয়ে স্টাম্পড আউট হন তিনি। দ্রুত ফিরে যান সাব্বির রহমান। রশিদ খানের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ার আগে ৫ বলে ২ রান করেন তিনি।

বাংলাদেশকে আড়াইশর পথে রাখেন বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার সাকিব। কয়েকটি সহজ ক্যাচ ছাড়া আফগানরা এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানকে ফেরায় দুর্দান্ত এক ক্যাচে। ৪০ বলে তিনটি চারে ৪৮ রান করেন।

৭ উইকেট হাতে থাকা বাংলাদেশ শেষ ১০ ওভারে ৬৯ রানের বেশি রান করতে পারেনি।

৭৩ রানে ৪ উইকেট নেন পেসার দৌলত। দুটি করে উইকেট নেন রশিদ ও নবী।

সাকিবের অনন্য উচ্চতা

টেস্ট, টি-২০ পর এবার ওডিআইয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি সাকিব আল হাসান যা ইতিহাসে বিরল।

২০৭ উইকেট নিয়ে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ছিলেন এতদিন রাজ্জাক। রবিবার মিরপুরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডেতে নিজের প্রথম ওভারেই সাবির নুরিকে এলবিডব্লিউ করে সাকিব ছুঁয়ে ফেলেন রাজ্জাককে। নিজের নবম ওভারে এসে রহমত শাহকে মুশফিকের হাতে স্টাম্পড করিয়ে ছাড়িয়ে যান রাজ্জাককে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ভারতকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশে

স্টাফ রিপোর্টার :: সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতকে হারিয়ে ফাইনালে পা রেখেছে ...