ব্রেকিং নিউজ

সাংবাদিক বান্ধব প্রধানমন্ত্রীর কাছে মফস্বল সাংবাদিকদের প্রত্যাশা

মহানন্দ অধিকারী মিন্টু :: সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের গুরুত্ব আজ আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এর পরিধি আজ নিদিষ্ট সিমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। গণমাধ্যম বর্তমানে দেশে-বিদেশে সকল মানুষের কাছে এটি একটি জনপ্রিয় মাধ্যম।

স্বাধীনতা পরবর্তী গত ৪৪ বছরে সংবাদ মাধ্যমে ঘটেছে ব্যাপক সমপ্রসারণ। প্রতিনিয়ত আসছে নিত্য নতুন চ্যানেল, সংবাদপত্র ও অনলাইনের সংখ্যা। প্রায় অর্ধশত বছর আগে ভূমিষ্ট হওয়া স্বাধীন দেশের সংবাদ মাধ্যম পরিণত হয়েছে গণমাধ্যমে।

অবাধ তথ্য সরবরাহ, গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখা, মানবাধিকার ও সুশাসন নিশ্চিত করা, কৃষিসহ শিক্ষাকে উনন্ত থেকে উনন্তর করার পিছনে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এর ফলে গণমাধ্য স্থান করে নিয়েছে কোটি কোটি মানুষের হৃদয়।

যদিও চলার পথটি সব সময় উর্বর সমতল ছিল না। মাঝে মধ্যে অগণতান্ত্রিক সরকারের নগ্ন হস্তক্ষেপে হোচট খেতে হয়েছে গণমাধ্যমের। বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে গণমাধ্যমকে সফল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে যাদের সবচেয়ে বেশী অবদান রয়েছে তারাই আজ অনেকটাই উপেক্ষিত।

অর্থাৎ গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা। বিশেষ করে, মফস্বল সাংবাদিকরা। শহর কেন্দ্রিক সাংবাদিকদের কিছুটা সুযোগ সুবিধা থাকলেও মফস্বল সাংবাদিকরা না পায় বেতনভাতা, না পায় কোনো সুযোগ সুবিধা।

বর্তমানে মফস্বল সংবাদ গণমাধ্যমে শিরনামও হচ্ছে। জাতীয় ইসু সৃষ্টি করছে মফস্বল খবর। অথচ সেই মফস্বল সাংবাদিকদেরকে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করতে হয়। সুবিধাবঞ্চিত এসব সাংবাদিকদের প্রয়োজন সহায়তায়। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ইতিবাচক মনোভাব।

গণমাধ্যম নিয়ে সরকারের মনোভাব যাই হোক সাংবাদিকদের কল্যাণে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সাংবাদিকদের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর দেয়া অনুদানের পরিসংখ্যান দেখলেই বোঝা যায় শেখ হাসিনা সরকার কতটাই সাংবাদিক বান্ধব।

২০০৯ সাল থেকে ২০১৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৬ বছরে তিনি ২৮ হাজার ৬শ ১৯জন দুঃস্থ ও অসহায় সাংবাদিককে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে ১৯৮ কোটি ৯৮ লাখ ১ হাজার ৭৯৯ টাকা আর্থিক সাহায্য প্রদান করেছেন।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর দশম জাতীয় সংসদের ৩য় অধিবেশনে প্রশ্ন উত্তরে প্রধানমন্ত্রী সংসদকে এ তথ্য জানান। তথ্যানুযায়ী, ২০০৯ সালে ২ হাজার ৪৭১ জন সাংবাদিককে ৬ কোটি ৩৬ লাখ ৮০ হাজার ২২৮ টাকা, ২০১০ সালে ৩ হাজার ৬৪৫জনকে ৯ কোটি ৩৯ লাখ ৩৫ হাজার ৪২৪ টাকা, ২০১১ সালে ৩ হাজার ৩৩২ জনকে ৮ কোটি ৫৮ লাখ ৬৯ হাজার ৯০ টাকা, ২০১২ সালে ৩ হাজার ৩০৯ জনকে ১৯ কোটি ৯ লাখ ৮ হাজার ৯৪৫ টাকা, ২০১৩ সালে ১০ হাজার ৪৩৭ জনকে ৯৫ কোটি ২১ লাখ ৬৪ হাজার ৬৯০ টাকা এবং ২০১৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫ হাজার ৪২৫ জন ইলেকট্রিক, প্রিন্ট ও অনলাইনের দুঃস্থ ও অসহায় সাংবাদিককে দেয়া হয় ৬০ কোটি ৩২ লাখ ৪৩ হাজার ৪২২ টাকা।

মফস্বল সাংবাদিকসংসদে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া তথ্যবহুল এ খবরটি পরের দিন অর্থাৎ ১৮ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন গণমাধ্যমে গুরুত্ব সহকারে প্রকাশিত হয়। সংবাদটি পড়ে গত প্রায় ৬ বছরে সাংবাদিকদের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর দেয়া অনুদানের পরিসংখ্যানটি জানতে পারলাম। সাংবাদিকদের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর এ ধরণের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসিত।

পেশা একজন সাংবাদিক হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্যোগকে সাধুবাদ ও অভিনন্দন জানাই। পাশাপাশি সহায়তার ক্ষেত্রে মফস্বল সাংবাদিকদের অধিক গুরুত্ব দেয়ার দাবী জানাই।

ভবিষ্যতে সুবিধাবঞ্চিত সাংবাদিকদের কল্যাণে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা অব্যাহত থাকবে সাংবাদিক বান্ধব প্রধানমন্ত্রীর কাছে এমনটাই প্রত্যাশা সাংবাদিক সমাজের।

 

লেখক: মহানন্দ অধিকারী মিন্টু, সাংবাদিক, পাইকগাছা, খুলনা, মোবাইল: ০১৭১৬-৮৮৮৫৩৮, ইমেইল: mintu_paikgacha@yahoo.com

 

 

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

বন্ধুময় জীবনে বন্ধু নির্বাচনে দৃষ্টি নিয়োগ

বন্ধুময় জীবনে বন্ধু নির্বাচনে দৃষ্টি নিয়োগ

সুলতান মাহমুদ আরিফ :: বন্ধু বলতেই হৃদয়ের মনিকোঠায় দক্ষিণের শিতল বাতাসের এক ...