সরকারি ব্যাংকের ২৫ পরিচালকের পদ শূন্য

bank_133030ঢাকা: সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য, শিল্প, কৃষি ঋণ বিতরণ, জনগণের আমানত সংগ্রহ করে থাকে সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো। আর এসব ব্যাংকের ঋণ বিতরণসহ অন্যান্য কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য গঠন করা হয় পর্ষদ।

বাংলাদেশ ব্যাংক ছাড়াও সরকার মালিকানাধীন ১৫টি ও সরকারের সঙ্গে বেসরকারি অংশীদারিত্বে পরিচালিত দু’টি ব্যাংকের ২১৭টি পরিচালকের পদ রয়েছে। আইএফআইসি ব্যাংক ও গ্রামীণ ব্যাংকসহ ১৭টি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকও পরিচালনা পর্ষদের সদস্য থাকেন। আর এসব প্রতিষ্ঠানের ২৫ জন পরিচালকের পদ শুন্য রয়েছে।

সরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেছেন, একজন পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হলে তার বেতন ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা দিবে ব্যাংকগুলো। এছাড়াও ওই সব পরিচালকগণ যদি নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের চেষ্টা করেন তাহলে ব্যাংকের বারোটা বাজে। এ কারণে সরকার ইচ্ছে করেই যে কয়জন নিয়োগ না দিলে চলে তাদেরই নিয়োগ দেয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নয়টি পদের মধ্যে শুন্য রয়েছে দু’টি। সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ১৩টি পদের দু’টি পদ খালি রয়েছে। চেয়ারম্যান ড. ফজলে কবির বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর নিয়োগ পাওয়া সেটিও চলছে ভারপ্রাপ্ত দিয়ে। জনতা  ব্যাংকের খালি রয়েছে ১৩টির মধ্যে দু’টি। অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ১৩টি পদের মধ্যে খালি রয়েছে ৪টি।

রূপালী ব্যাংকের ১৩টির মধ্যে খালি একটি। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ১১টির মধ্যে একটি, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ১১টির মধ্যে একটি, আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের পাঁচটির মধ্যে একটি পদ খালি রয়েছে। আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক পাঁচটির খালি।

প্রবাসী কল্যান ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ১৪টি পদের মধ্যে খালি রয়েছে দু’টি। বাংলাদেশ কর্মাস ব্যাংকের ১২টির মধ্যে খালি একটি। বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড (বিডিবিল)  ১০টির মধ্যে দু’টি। বেসিক ব্যাংক পর্ষদের ১১টির দু’টি পদ খালী রয়েছে। পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের নয়টি পদের মধ্যে একটি খালি।

সরকারি বেসরকারি অংশীদারিত্বে পরিচালিত আইএফআইসি ব্যাংকে সরকার মনোনীত তিনটির মধ্যে একটি ও গ্রামীন ব্যাংকের তিনটির মধ্যে একটি পদ শুন্য রয়েছে।

পরিচালনা পর্ষদের সবগুলো পদ পূরণে রয়েছে সোনালী ব্যাংক ইউকে ও কর্মসংস্থান ব্যাংকের।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেন, সরকার মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর পরিচালক নিয়োগের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ছাড়পত্র নিতে হয়। মন্ত্রণালয়ের পাঠানো নামের মধ্যে দু’একজনের ব্যাপারে আপত্তি দিলে তখন সেটি আটকে যায়। এ কারণে অনেক সময় এসব পদে নিয়োগ দিতে বিলম্ব হয়।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ইউনুসুর রহমান বলেন, ব্যাংকগুলোর পর্ষদ সভা করার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

২৪ প্রতিষ্ঠানের ১৮৫ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি

স্টাফ রিপোর্টার :: ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) ফাঁকি উদ্ঘাটনে সরকারের নানামুখী পদক্ষেপে ...