ব্রেকিং নিউজ

সংকটের কালো মেঘ অপসারিত হোক

ঢাকা : নির্বাচনের তারিখ যত ঘনিয়ে আসছে, রাজনৈতিক অস্থিরতা ততই বাড়ছে, ততই ঘনীভূত হচ্ছে রাজনৈতিক সংকট। কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী ‘কোনো সংকট নেই’ বলে বক্তব্য দিলেও সংকট যে আছে এবং তা তীব্রতর হচ্ছে- তার প্রমাণ পাওয়া যায় প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক সংলাপের ঘোষণা এবং সর্বদলীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব থেকেই। বস্তুত আমরা এখন বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ সংকটের সময়কাল অতিক্রম করছি।

বস্তুত সংকটমুক্ত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আমাদের দেশে কখনোই ছিল না। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বলতে আমি বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকেই বোঝাচ্ছি। যে লেভেল প্লেয়িং গ্রাউন্ডের কথা এখন বহুল উচ্চারিত হয়, বুর্জোয়া ব্যবস্থায় তা কখনোই থাকতে পারে না। হাজার কোটি টাকার ধনিক আর তিন হাজার টাকা মাসিক রোজগারি গার্মেন্ট শ্রমিকের মধ্যে কি কোনো লেভেল প্লেয়িং গ্রাউন্ড হতে পারে? একমাত্র সমাজতন্ত্রই সর্বোচ্চ গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে পারে। সমাজতন্ত্র অবশ্য এখন আবার রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে সংবিধানে সংযোজিত হয়েছে। কিন্তু ওটা যে একটা ধাপ্পা ছাড়া আর কিছুই নয়, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বিএনপি তো এই শব্দকে সংবিধান থেকে কেটে বাদ দিয়েছিল (জিয়াউর রহমানের পঞ্চম সংশোধনী) আর আওয়ামী লীগ অতীত অথবা বর্তমান সময়ে কখনোই সমাজতন্ত্রে বিশ্বাস করত না।

অথচ আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্রের দাবি উঠেছিল। জিন্নাহর দ্বি-জাতিতত্ত্বকে মতাদর্শগতভাবে খণ্ডন করেই মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তিভূমি তৈরি হয়েছিল। আর যে আকাঙ্ক্ষাকে বুকে করে সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এ দেশের মানুষ, যার প্রধান অংশ ছিল শ্রমজীবী, তাদের আকাঙ্ক্ষার মধ্যে ছিল শোষণমুক্তি অর্থাৎ সমাজতন্ত্র। তাই সেদিনের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে খুব সহজেই ১৯৭২ সালের সংবিধানে সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা স্থান পেয়েছিল রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে।

কিন্তু সমস্যা হলো এই যে সেদিন রাষ্ট্রক্ষমতায় যারা বসেছিল, তারা ছিল নিকৃষ্ট ধরনের লুটেরা বুর্জোয়া শ্রেণী; যারা ছিল মুৎসুদ্দি চরিত্রের, সাম্রাজ্যবাদের কাছে আত্মসমর্পণ, সাম্রাজ্যবাদী মুনাফার উচ্ছিষ্ট ভোগে যারা সন্তুষ্ট। তারা প্রধানত উৎপাদনবিমুখ এবং শ্রমজীবীকে চরমভাবে শোষণ করে, বিদেশি কম্পানির দালালি করে এবং জনগণ ও রাষ্ট্রের সম্পদ লুণ্ঠন করে প্রাথমিক পুঁজি সঞ্চয় করেছে আর একই প্রক্রিয়ায় পুঁজির স্ফীতি ঘটাচ্ছে। বিগত চার দশকে বহু সরকার পরিবর্তন হলেও রাষ্ট্রক্ষমতায় এই একই শ্রেণী রয়েছে। তারা ভাগাভাগি করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি- এ দুটি দলে রয়েছে এবং বস্তুত দল দুটির মূলনীতি নির্মাণ তারাই করে।

এ শ্রেণীর হাতে গণতন্ত্র নিশ্চিত হতে পারে না, ধর্মনিরপেক্ষতাও না। আর সমাজতন্ত্রের তো প্রশ্নই ওঠে না। তাই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই দেখা যাচ্ছে, আমাদের আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার মধ্যেই নিহিত রয়েছে রাজনৈতিক সংকটের বীজ। কারণ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত শ্রেণী, যাদের বলা হয় নব্য ধনিক শ্রেণী, তারা না পারে বুর্জোয়া গণতন্ত্র দিতে, না পারে ধর্মনিরপেক্ষ নীতি কার্যকর করতে। এ কারণে বারবার রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সংবিধান নিয়ে খুশিমতো খেলা ও অসাংবিধানিক শক্তির ক্ষমতাদখল। ১৯৭৫ সালে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম, বারবার সামরিক শাসন, দুবার প্রেসিডেন্ট হত্যা, ক্যু ও ক্যুর প্রচেষ্টা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান যুক্ত হওয়া, আবার সেটা তুলে নেওয়া, অদ্ভুত ধরনের সেনাসমর্থিত জরুরি সরকার (২০০৭-২০০৮)- এসব শাসক বুর্জোয়া শ্রেণীর অগণতান্ত্রিক চরিত্র এবং সমাজব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও অসামঞ্জস্যতার বহিঃপ্রকাশ মাত্র।

যে বুর্জোয়া শ্রেণী বুর্জোয়া গণতন্ত্রও দিতে পারে না, ধর্মনিরপেক্ষতাও তার কাছ থেকে আশা করা যায় না। জিয়াউর রহমান এক কলমের খোঁচায় যে সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা তুলে দিতে পারলেন, তার কারণ শাসক শ্রেণীর মধ্যেই ধর্মনিরপেক্ষতার বোধ ছিল না। জিয়াউর রহমান আরেক ধাপ এগিয়ে এমন সব পদক্ষেপ নিলেন, যার ফলে পাকিস্তানি প্রেতাত্মারা ফিরে এলো। পাকিস্তানপন্থীরা রাজনীতিতে সক্রিয় হলো, সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তানি ভাবাদর্শকেও চাঙ্গা করা হলো। এরপর এরশাদ ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে সংবিধানে সংযোজন করে সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র একেবারে মুছে দিলেন।

গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা এভাবে বারবার হোঁচট খেয়েছে।

দুই.

সাম্প্রতিক সংকটের উৎসও একই জায়গা থেকে। নির্বাচন কোন সরকারের অধীনে হলে তা সবচেয়ে বেশি গণতন্ত্রসম্মত ও গ্রহণযোগ্য হবে- এটা একটা সমস্যা। সংকটের উদ্ভব প্রধানত এ জায়গা থেকেই। কিন্তু সংকট আরেকটি জায়গা থেকেও উদ্ভূত। ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি তো দূরের কথা, যারা বাংলাদেশে তালেবানি শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তাদের অপতৎপরতা ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ এক ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। ‘৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার যখন চলছে এবং এর মধ্যেই কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় জামায়াত নেতার ফাঁসির আদেশ হয়েছে, তখন সেই বিচারকে ভণ্ডুল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে জামায়াত। আর রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার প্রয়োজনে তার সঙ্গে হাত মিলিয়েছে বিএনপি।

একদিকে আওয়ামী লীগ ১৫তম সংশোধনী করে সংকটের সৃষ্টি করেছে, অন্যদিকে জামায়াতের সশস্ত্র তাণ্ডবকে বাতাস দিয়ে আরেকভাবে সংকট ডেকে এনেছে বিএনপি।

এ দুটি দিক একটু বিচার করে দেখা যাক। প্রধানমন্ত্রী হঠাৎ করেই ১৫তম সংশোধনী পাস করিয়ে সংকট সৃষ্টি করলেন। ১৫তম সংশোধনী একাধিক কারণে অগণতান্ত্রিক ও বিতর্কিত। প্রথমত ‘৭১ সালের সংবিধানকে আংশিক পুনরুজ্জীবিত করলেও জিয়া কর্তৃক প্রবর্তিত ধর্মনিরপেক্ষতাবিরোধী ধারা বাতিল এবং এরশাদ কর্তৃক ‘ইসলাম রাষ্ট্রধর্মের’ ধারাকে অক্ষুণ্ন রেখে আসলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত ১৫তম সংশোধনীর দ্বারা প্রায় অর্ধশত ধারা-উপধারা যুক্ত করা হয়েছে যা চিরস্থায়ীভাবে অপরিবর্তনযোগ্য। একমাত্র ফাসিস্ত শাসনব্যবস্থায়ই এমন সংবিধান থাকতে পারে। তৃতীয়ত নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান উঠিয়ে দেওয়া। আমাদের দেশে যেখানে আস্থার ও বিশ্বাসের এত অভাব, সেখানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান জরুরি। একদা আওয়ামী লীগই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি উত্থাপন করেছিল, আন্দোলন করেছিল এবং সেদিনের সরকারি দল বিএনপিকে বাধ্য করেছিল এই বিধান সংবিধানে সংযুক্ত করতে। কিন্তু এখন তারাই দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন নিয়ে ক্ষমতায় এসে ভোল পাল্টাচ্ছে। ভাবতে অবাক লাগে, ১৯৯৫-৯৬ সালে বিএনপি যে কথা বলেছিল, এখন ঠিক তার উল্টোটা বলছে। আর সেদিনের বিরোধী দল আওয়ামী লীগ যে কথা বলেছিল, এখন উল্টো সুরে কথা বলছে। এমন ভোল পাল্টালে জনগণ কিভাবে আস্থা রাখবে?

পাঁচ বছরের শাসনামলে আওয়ামী লীগ তথা মহাজোটের সরকার জনপ্রিয়তা হারিয়েছে যথেষ্ট পরিমাণে। আওয়ামী লীগ আমলের দুর্নীতি, পদ্মা সেতু, হলমার্ক, শেয়ার কেলেঙ্কারি ইত্যাদির কারণে মানুষ ভুলে গেছে হাওয়া ভবনের দুর্নীতি। উপরন্তু টেন্ডারবাজি, দলবাজি, ছাত্রলীগের দাপট, খুন, গুম ইত্যাদির কারণে জনপ্রিয়তা যে কতটা নিচে নেমেছে, তার লক্ষণ পাওয়া গেছে সাম্প্রতিক সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ও জয়দেবপুরের নির্বাচনে। জনপ্রিয়তা যত হ্রাস পাচ্ছে, ততই শেখ হাসিনা তাঁর নিজের তৈরি ১৫তম সংশোধনীকে অর্থাৎ কর্তিত সংবিধানকে আঁকড়ে ধরে রাখছেন, বলছেন- ‘একচুলও নড়বেন না’। এমনকি একতরফা নির্বাচনেরও পরিকল্পনা এঁটেছেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান উঠিয়ে দেওয়ার জন্য তাঁর নিজের দলসহ কোনো দল, বুদ্ধিজীবী, কোনো মহল দাবি তোলেনি। মনে হয়, পরবর্তী নির্বাচনে বিজয়কে নিশ্চিত করতে তিনি এটা করেছেন। অবশ্য তিনি হাইকোর্টের দোহাই পাড়ছেন। কিন্তু হাইকোর্ট যে পরবর্তী দুটি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করার জন্য আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছিল সে ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী চোখ বুজে আছেন। আমি মনে করি পরবর্তী দুটি নির্বাচন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হওয়া উচিত। প্রয়োজনে সংবিধান আরেকবার সংশোধন করা যেতে পারে। কিন্তু সে সময় বোধহয় এখন আর নেই। তাই যেকোনো ধরনের সমঝোতা, সব কার্যকর রাজনৈতিক দলের মধ্যে সমঝোতা। বিশেষ করে বিবদমান বড় দুই দলের মধ্যে সমঝোতা একান্তভাবেই জরুরি। অন্যথায় একতরফা নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। জনগণের কাছেও হবে না, বিশ্বের কাছেও হবে না। এ কথা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ছাড়াও বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও বলেছেন। নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসও বলেছেন, ‘একতরফা নির্বাচন আমরা মেনে নেব না।’ তাঁর এই বক্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। এই আমরা কারা? এটা কি প্রভাবশালী পাশ্চাত্য মহল?

তিন.

নির্বাচন হলে বিএনপি-জামায়াত-হেফাজত প্রমুখের জেতার সম্ভাবনা আছে। সেটা কি কাম্য? নিশ্চয়ই নয়। তাহলে সে ক্ষেত্রে এই দক্ষিণপন্থী শক্তিকে বাইরে রেখে নির্বাচন করলে কি শুভ ফল পাওয়া যাবে না? এরূপ আলোচনা প্রগতিশীল মহলেও ওঠে। এমন এক আলোচনার সময় সিপিবির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমদ স্বামী বিবেকানন্দকে উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছিলেন- ‘ফাঁকি দিয়ে কোনো মহৎ কাজ হয় না।’ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে ফাঁকি রেখে অথবা গণতন্ত্রকে জলাঞ্জলি দিয়ে ধর্মব্যবসায়ী পাকিস্তানপন্থী জঙ্গিবাদকে পরাজিত করব, এমন কৌশল কখনোই শুভ ফল আনবে না।

তাই অবশ্যই সমঝোতার ভিত্তিতে সব দলের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে (অবশ্য জামায়াতকে আমরা সব দলের মধ্যে ধরছি না) একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হওয়া চাই। আবার একই সঙ্গে জামায়াত-হেফাজতের উগ্র মৌলবাদী ধ্যানধারণা ও অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে। তাই সমঝোতা খুবই জরুরি। সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য সিপিবি-বাসদ যৌথভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়াসহ সব গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল ও নেতার সঙ্গে যোগাযোগ, দেখা-সাক্ষাৎ, কথাবার্তা শুরু করেছে।

কিন্তু সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। সংলাপ ও সমঝোতার পরিবেশ একটু তৈরি হয় তো আবার কোনো না কোনো কারণে, প্রায়ই অবান্তর কারণে তা নষ্ট হয়। প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় ভাষণে সর্বদলীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দিলেন। কিন্তু তার পরপরই বিএনপির জনসভা নিষিদ্ধ করে ঢাকা শহরে ১৪৪ ধারা জারি করা হলো। বিএনপি জনসভা করার অনুমতি চেয়ে পুলিশ কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়ার পরপরই আওয়ামী লীগও একই দিনে জনসভা করার ঘোষণা দিল। আর এই অজুহাতে কর্তৃপক্ষ নিষিদ্ধ করল সব ধরনের সভা-সমাবেশ। এ যেন পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া বাধানোর নোংরা কৌশল। প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবে সমাধানের কোনো ইঙ্গিত না থাকলেও আলোচনার ও সমঝোতার যে আভাস পাওয়া গিয়েছিল তা এই ঘটনার কারণে গুরুত্ব হারিয়ে ফেলল। যা হোক, শেষ পর্যন্ত খালেদা জিয়া সভা করলেন। তিনি যে পাল্টা প্রস্তাব দিলেন তা ছিল অবাস্তব। তবু পাল্টাপাল্টি প্রস্তাবের ফলে আলোচনার সম্ভাবনার ক্ষীণ রেখা দেখা গেল। এরই মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চিঠি পাঠালেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মন্ত্রী আশরাফুল ইসলামের কাছে। টেলিফোনে কথাও হলো। প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে টেলিফোনে আমন্ত্রণ জানালেন। কিন্তু খালেদা জিয়া হরতাল চলাকালে যেতে পারবেন না বলে জানালেন। কী হতো হরতাল একদিনের জন্য স্থগিত করলে? আলোচনাটা কী কম গুরুত্বপূর্ণ? হাসিনা যখন এক পা অগ্রসর হন, খালেদা জিয়া তখন পিছু সরে আসেন। অন্যদিকে খালেদা জিয়া এক পা অগ্রসর হলে পার্লামেন্টে সরকারদলীয় মন্ত্রী ও সাংসদরা এমন সব মন্তব্য করেন যে তা সমঝোতার সম্ভাবনা ভণ্ডুল করে দিতে পারে।

কিন্তু সংকট সমাধানের পথ খুঁজে বের করতেই হবে। অন্যথায় অন্ধকারের শক্তি চেপে বসতে পারে। বিদেশি শক্তিকেও খুব তৎপর দেখা যাচ্ছে। ২০০৬ সালেও তারা একইভাবে লম্ফঝম্ফ দিয়েছিল। পরিণতি ছিল এক-এগারো। এখনো কি তেমন কোনো আশঙ্কা আছে? প্রধান দলগুলোর প্রধান নেতারা সমঝোতায় আসতে ব্যর্থ হলে তেমন, এমনকি তার চেয়েও খারাপ কোনো কিছুর আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আশা করি সবার শুভবুদ্ধির উদয় হবে। নির্বাচন হবে সুষ্ঠুভাবে। গণতন্ত্রের পথে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। অমঙ্গলের শক্তি এবং স্বাধীনতাবিরোধী পাকিস্তানি প্রেতাত্মাদেরও পরাজয় হবে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

বুড়িগঙ্গা

সমস্যা ও সম্ভাবনার বুড়িগঙ্গা

সুলতান মাহমুদ আরিফ :: পুরান ঢাকা বলতেই সবার চোখের সামনে ভেসে উঠে “সদর ঘাট” এর ...