শ্রীমঙ্গলে জীবিতকে মৃত দেখিয়ে চেয়ারম্যানের সনদপত্র প্রদান

সজল দেব, মৌলভীবাজার

শ্রীমঙ্গলে জীবিত সহোদরকে মৃত দেখিয়ে পৈত্রিক সম্পত্তি আত্নসাতের পাঁয়তারা করে আরেক সহোদর। সংশ্লিষ্ট উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এই ধরনের একটি উত্তরাধিকার সনদপত্র প্রদান করে প্রতারক সহোদরকে বৈধতা দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মৃত দেখানো বিপুল চন্দ্র দেব সম্প্রতি স্বশরীরে উপসি’ত হয়ে শ্রীমঙ্গল থানায় জিডি ও জেলা প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত আবেদন করলেও এ বিষয়ের কোন সুরাহা হচ্ছে না। এঘটনা নিয়ে উপজেলাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

বিপুল চন্দ্র দেবের অভিযোগে জানা যায়, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের ধোবারহাট গ্রামের মৃত নিকুঞ্জ মোহন দেবের দুই পুত্র অখিল চন্দ্র দেব ও বিপুল চন্দ্র দেব। তাদের দুই ভাইয়ের নাম উল্লেখ করে মির্জাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ২০১১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর একটি উত্তরাধিকার সনদপত্র প্রদান করেন। ভুল তথ্যের কারনে একই সালের ১৫ নভেম্বর এই সনদপত্র বাতিল করেন। এরপর এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফিরোজ মিয়া ওই সালের ৪ নভেম্বর অপর আরেকটি সনদপত্র প্রদান করেন নিকুঞ্জ মোহন দেবের পুত্র বিপুল চন্দ্র দেব মারা গেছে। তার সহোদর অখিল চন্দ্র দেব পৈত্রিক সম্পত্তি আত্নসাত করার জন্য এই প্রতারনা করেন।

তিনি আরো জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিপুল চন্দ্র দেব জীবন জীবিকার তাগিদে দেশের বিভিন্ন স’ানে বসবাস করে আসছেন। এই সুযোগে তিনি মৃত্যুবরন করেছেন বলে তার ভাই অখিল চন্দ্র দেব ষড়যন্ত্রের নাটক সাজায়। এই খবর জানার পর তিনি মৌলভীবাজার নোটারী পাবলিক অফিসে ২০১১ সালের ১২ ডিসেম্বর উপসি’ত হয়ে এফিডেভিট করে জীবিত থাকার বিষয়টি প্রমান করেন। এরপর ১৩ ও ১৪ ডিসেম্বর  শ্রীমঙ্গল থানায় জিডি এবং জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন। জিডি ও আবেদনের এক মাস পেরিয়ে গেলেও বিপুল চন্দ্র দেবের জীবিত থাকার বিষয়ে তদন্তে  কোন অগ্রগতি নেই বলে জানা গেছে।

মির্জাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফিরোজ মিয়া মোবাইল ফোনে বলেন, এ বিষয়ে আমি অত্র এলাকার ইউপি সদস্যের তদন- প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সনদপত্র প্রদান করেছি।

শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ জানান, এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করা ঠিক হবে না বলে তিনি জানান।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা আশফাকুল ইসলাম জানান, এ বিষয় নিয়ে তদন্ত্য চলতেছে । আগামী তারিখে নামকারীজ শেষে সনদপত্রের বিষয়ে আইনগত ব্যবস’া নেয়া হবে।

জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমান শনিবার বিকালে বলেন, এ ব্যাপারে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস’া নিতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তাকে নিদের্শ দিয়েছি।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ইনজেকশন দেয়া গরু চিনবেন যেভাবে

ষ্টাফ রিপোর্টার ::ঈদুল আজহার আর মাত্র ক’দিন বাকি। ঈদুল আজহা মূলত মহান ...