শেরপুরের চরাঞ্চলে মুখী কচু আবাদ করে অধিক লাভ

শেরপুর : জেলার নকলা উপজেলার চর অষ্টাধর ও চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের বিস্তৃত চরাঞ্চল মুখী কচুর আবাদ করে অল্প খরচ অধিক লাভ করছেন কৃষকরা।

দেশী জাতের মুখী কচুর আবাদে তেমন পরিশ্রম নেই, উৎপাদন খরচও তেমন লাগে না।

চরাঞ্চলের বেলে-দোঁআশ মাটিও কচু চাষের উপযোগী। তাছাড়া কচু পুষ্টিরও যোগান দেয়।

কৃষকরা কচু চাষে আগ্রহী হওয়ায় দিন দিনই বাড়ছে মুখী কচুর আবাদী জমির পরিমাণ।

নকলার চরাঞ্চলের যেদিকে তাকানো যায়, সেদিকেই এখন চোখে পড়ে মুখী কচুর আবাদ।

কৃষকরা জানান, মুখী কচু চাষ খুবই লাভজনক। বপনের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই কচুর ফলন ঘরে তোলা যায়। কাঠা প্রতি (৫ শতাংশ) কচুর ফলন হয় ১২-১৩ মণ। এক কাঠা জমিতে কচু আবাদ করতে খরচ হয় মাত্র এক-দেড় হাজার টাকা। আর প্রতিমণ কচু বিক্রী হয় ৭-৮ হাজার টাকা। কচু চাষে কেবল লাভ আর লাভ।

কৃষকরা বলেন, কচু বিক্রী করতেও তেমন কষ্ট হয়না। বাজারে নেওয়ার সাথে সাথে পাইকাররা কচু কিনে নিয়ে যায়। এই কচু চাষ করায় চরের জমিতেও এখন তারা তিনটি ফসলের আবাদ করতে পারছেন।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, বর্ষাকালের সব্জী হিসেবে মুখী কচু খুবই জনপ্রিয়। কচুতে পুষ্টির মাত্রাও অনেক। যে কারণে বাজারে এর চাহিদাও প্রচুর। এ সময় বাজারে অন্যজাতের তেমন সব্জী থাকেনা বলে মুখী কচু বিক্রী করতে তেমন বেগ পেতে হয়না।

চরঅষ্টাধর ইউনিয়নের দক্ষিণ নারায়নখোলা গ্রামের কৃষক মোসত্মফা মিয়া জানান, মুখী কচুর চাষ প্রচুর লাভজনক। আমাদের এই চরাঞ্চলে যেদিকে তাকাবেন সেদিকেই মুখী কচুর আবাদ দেখতে পাবেন। রেজাউল করিম নামে আরেক কৃষক বলেন, পাঁচ-ছয় বছর ধইরা আমাদের এলাকায় এই কচুর আবাদ শুরু হয়েছে। মুখী কচু আবাদে খরচ কম, তেমন পরিশ্রমও নাই, লাভও বেশী। এ কারণে আমাদের এলাকায় মুখী কচুর আবাদ দিন দিন বাড়ছে। উত্তর নারায়নখোলা গ্রামের কৃষক হাদী মিয়া বলেন, গত বছর আমি ৪ কাঠা জমিতে কচুর আবাদ করছিলাম। ৪ কাঠায় ১০০ মণ ফলন পাইছিলাম। বাজারও তখন ভালো পাইছিলাম। ৫-৭ শ’ টাকা মণ দরে কচু      বেঁচেছি। খুব লাভ হয়েছে। এবার আমি ১০ কাঠা জমিতে কচুর আবাদ করেছি।

নকলা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, নকলা উপজেলায় ৩০০ হেক্টর জমিতে কচুর আবাদ হলেও কেবল চর অষ্টাধর ও চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের চরাঞ্চলেই কচুর আবাদ হচ্ছে ২০০ হেক্টর জমিতে।  উপজেলা কৃষি কর্মকতা আশরাফ উদ্দিন বলেন, অল্প খরচে অধিক লাভজনক হওয়ায় চরাঞ্চলে মুখী কচুর আবাদ কৃষকদের মধ্যে দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। কচুর আবাদ করে কৃষকরা বেশ লাভবান হচ্ছে। চর অষ্টাধর ইউনিয়নের চর বসন্তি, নারায়নখোলা, চর বাবনা, শিকদার পাড়া এসব চরে বর্ষাকালীন সব্জী হিসেবে মুখী কচুর ব্যাপক আবাদ হচ্ছে। ওইসব এলাকার কৃষকদের দেখাদেখি আশপাশের এলাকাতেও কচু চাষের প্রতি কৃষকরা আগ্রহী হচ্ছে।

নকলার চরাঞ্চলের মতো অন্য এলাকার চরাঞ্চলেও মুখী কচু আবাদের বিস্তৃতি ঘটিয়ে ওইসব এলাকার দারিদ্র বিমোচন সম্ভব বলে মনে করেন কৃষক ও কৃষিবিদরা।

শাহরিয়ার  মিল্টন/

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

পলাশবাড়ীতে মরিচের বাম্পার ফলনেও হাসি নেই চাষিদের মুখে

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল। গাইবান্ধা: বাম্পার ফলনেও হাসি নেই গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার ...