শিশু দিবসে শিশুরা উপলক্ষ মাত্র!

শিশু দিবসেতাহমিনা শিল্পী :: আজ ১৭ মার্চ’২০১৭ শিশু দিবস। প্রতি বছরের মতো এ বছরও নানা আয়োজনে পালন করা হচ্ছে দিবসটি। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে জনমনে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে এই দিবস পালন কতোটা যৌক্তিক? কিংবা দিবস পালনে প্রকৃত পক্ষে শিশুরা কতোটা লাভবান হচ্ছে?

শিশু দিবস পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময় পালিত হয়। শিশু দিবস পালনকারী প্রথম দেশ তুরস্ক। তুরস্কের অধিবাসীরা শিশু দিবস প্রথম পালন করেন ২৩শে এপ্রিল, ১৯২০ সালে। সারা বিশ্বে ‘বিশ্ব শিশু দিবস’ পালন করা হয় ২০শে নভেম্বর এবং ‘আন্তর্জাতিক শিশু দিবস’ পালিত হয় ১ জুন। কিন্তু বাংলাদেশে প্রতি বছর ১৭ মার্চ পালিত হয় ‘জাতীয় শিশু দিবস’।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সিদ্ধান্তে ২০১১ সাল থেকে প্রতিবছর ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম তারিখে শিশু দিবস পালন হয়ে আসছে। আবার অন্যদল ক্ষমতায় এলে নিজ ক্ষমতাবলে প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে দিবসটি পালন থেকে বিরত থাকছে। তাই শিশু দিবস পালনের ধরন ও বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভাবতে বাধ্য হচ্ছি যে, এ শুধুমাত্র  রাজনৈতিক ক্ষমতাবল প্রদর্শন ছাড়া আর কিছুই না।

শিশু দিবসশিশুরা হচ্ছে জাতির ভবিষ্যৎ এবং একই সাথে সমাজের সবচেয়ে দুর্বল অংশ।তাই শিশু দিবস বিষয়ক আলোচনার পূর্বে কিছু প্রাসঙ্গিক বিষয় উপস্থাপন আবশ্যক। যেমনঃ

শিশুর বয়স নির্ধারণ নিয়ে জটিলতা রয়েছে। কত বছর বয়স পর্যন্ত শিশু হিসেবে ধরা হবে তা সুনির্দিষ্ট একটি আইনে বলা নেই। তবে প্রচলিত মতে শিশু হল ১৮ বছর অনুর্ধ যে কোনো ব্যক্তি।

শিশু সুরক্ষা ও শিশু অধিকার  বিষয়ে আইন ও নীতিমালা নির্ধারিত আছে কিন্তু বাস্তবায়নের নামে নিত্যই চলে প্রহসন। বাস্তবায়িত হচ্ছে না শিশুদের নুন্যতম অধিকার। উপরন্ত বর্তমানে এমন একটা সামাজিক অবক্ষয়ের শিকার হচ্ছে আমাদের শিশুরা যে শিশু দিবস পালন অনেকটাই বিতর্কিত।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৯৮তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৯৮তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস

সারা বিশ্বের এখন ভয়ংকার পেশার নাম শিশু শ্রম। দিনে দিনে এই শ্রমের শ্রমিকের সংখ্যা বাড়ছে। বিশ্বের বিভিন্ন এনজিও সংস্থা, সরকারসহ বিভিন্ন সংস্থা এর বিরুদ্ধে আলাপ, আলোচনা, পরিসংখ্যান তুলে ধরলেও প্রতিকারে কিছুই হচ্ছে না।

আজকের শিশুরাই আগামীর নাগরিক। তাই শিশু-কিশোরদের চারিত্রিক দৃঢ়তা গঠন। তাদের শারীরিক ও মানসিক  বিকাশ নিশ্চিত তৈরী ও তাদের স্বাস্থ্য-পুষ্টির দিকেও বিশেষ নজর দেয়া প্রয়োজন।

শিশুদের শিক্ষা ব্যাবস্থায় চলে অনিয়ম আর দূর্নীতি। ওদের জন্য নেই কোন খেলার মাঠ। নেই সুষ্ঠু শিশুতোষ বিনোদনের সুযোগ। প্রাশাসনিক অব্যবস্থাপনায় পরিত্যক্ত পাইপে, ঢাকনা বিহীন ড্রেন-ম্যানহোলে পড়ে মরছে শিশু। প্রতিদিন বাড়ছে শিশু নির্যাতন, ধর্ষন ও হত্যার মত জঘন্য কাজ। রাজনৈতিক আন্দোলনের শিকার হয়ে পুড় মরছে। গুলিবিদ্ধ হচ্ছে মায়ের গর্ভে থাকা অনাগত শিশু।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৯৮তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস এসব হীন কর্মকাণ্ড থেকে সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরাও পিছিয়ে নেই। এমনকি বর্তমানে শিশু নিজের মা-বাবার কাছেও নিরাপদ নয়। তাইতো প্রতিনিয়ত চরম নির্ভরতা আর নিরাপত্তা হীনতায় কাটছে শিশুদের দিন।

এমতাবস্থায় রাজনৈতিক বলয়ের বাইরে গিয়ে কবে হবে শিশুদের নিজের একটি দিন? কি করে বাস্তবায়ন হবে শিশুদের সকল অধিকার? এসব অন্যায় আর অরাজকতার প্রতিকার কি? কি এর সমাধান?

 

লেখকের ইমেইল: tahmina_shilpi@yahoo.com

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

Lakshmipur Election

ভোটের লড়াইয়ে বাদ পড়বেন একাধিক হেভীওয়েট প্রার্থী

জহিরুল ইসলাম শিবলু, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:: উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুর জাতীয় রাজনীতিতে রয়েছে এই ...