শিক্ষা অফিসার সুলতান ও অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ

ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার সুলতান আলী ও অফিস সহকারী মুকুলের বিরুদ্ধে ঘুষ, দূর্নীতি, স্বজনপ্রীতিসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিস্তর অভিযোগ উঠেছে।

8787হরিণাকুন্ডুর অসহায় শিক্ষক সমাজ দূর্নীতিবাজ এই কর্মকর্তা কর্মচারীর হাতে জিম্মি হয়ে পড়লেও হয়রানির ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। হরিণাকুন্ডু উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সুলতান আলী যোগদানের পর থেকেই নানা অনিয়ম দূর্নীতি শুরু করেন।

এছাড়া শিক্ষা দপ্তরের অফিস সহকারী হিসাবে মুকুল এক যুগ পূর্বে যোগদানের সময় থেকেই নানা বিতর্কের জন্ম দিয়ে একাধিকবার আলোচনার কেন্দ্রবৃন্দুতে উঠে আসে।

কুলে নিয়োগ বানিজ্য, শিক্ষকদের বেতন করনের কাগজ ছাড় করণ, টাইম স্কেল, বিএড স্কেল, শিক্ষার্থীদের নাম উপবৃত্তিতে অন্তর্ভূক্তিকরন, স্কুল ম্যানেজিং কমিটি গঠন, ভবন নির্মান, স্যানিটেশন সুবিধা, শিক্ষক প্রশিক্ষনে প্রেরনসহ শিক্ষা দপ্তরের সাথে সংশিষ্ট সকল বিষয়ে ঘুষ ছাড়া কোন কাজ সম্পাদন করার সুযোগ নেই দূর্নীতিবাজ ওই কর্মকর্তা সুলতান আলী ও মুকুল গংদের দাপটে।

উপবৃত্তি থেকে বাদ পড়া শিক্ষার্থীদের নাম অন্তভুক্তি করতে মুকুল হাতিয়ে নিয়েছে কয়েক লাখ টাকা। সমপ্রতি পাখিমারা মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে সরকারি নীতিমালা লংঘন করে বেক ডেটে পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা।

বিধি বহির্ভূত এসব নিয়োগ প্রক্রিয়ার পত্রিকায় বিজ্ঞাপন থেকে শুরু করে বাছাই, নিয়োগ বোর্ড, এমপিও’র জন্য পেপারস প্রেরণসহ নিরাপদে বেতন উত্তোলন করার সকল দায়িত্ব মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে শিক্ষা অফিসের এই দূর্নীীতবাজ চক্রটি সম্পন্ন করার ভয়াবহ তথ্য পাওয়া গেছে।

এক্ষেত্রে সংশিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক থাকেন অনেকটা অধরা। সমপ্রতি একটি বিদ্যালয়ে সভাপতির সম্পূর্ন অগোচরে তার স্বাক্ষর জাল করে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে একজন শিক্ষক অবৈধ ভাবে নিয়োগ দিয়ে তার বেতন উত্তোলনের চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। ঘুষের বিনিময়ে ঝিনাইদহে হরিণাকুন্ডু উপজেলা শিক্ষা অফিসে হয় না এমন কোন কাজের নজীর নেই।

অভিযোগ রয়েছে অনেক সময় রেট ফেলে ঘুষ নিয়ে থাকেন কর্মকর্তা সূলতান আলী ও মুকুল। সকাল থেকেই ঘুষ লেনদেনের হাট বসে এ দপ্তরটিতে। শৈলকুপা শিক্ষা অফিসের দায়িত্ব পালন কালে সরকারী বই বিক্রি করে অনৈতিক ভাবে হাতিয়ে নেন কয়েক লক্ষ টাকা। এ অভিযোগে তাকে শান্তিমূলক বদলী করে শিক্ষা অধিদপ্তর।

বই বিক্রির অপরাধে এই দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। হরিণাকুন্ডু উপজেলার ৩৯টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৩টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ১২টি মাদ্রাসার প্রধানরা দীর্ঘদিন ধরে দূর্নীতিবাজ শিক্ষা অফিসার সুলতান ও মুকুলের কাছে জিম্মি হয়ে আছেন। বিভিন্ন প্রকল্প কর্তৃক শিক্ষকদের প্রশিক্ষনের টাকাও দুজনে আত্মসাৎ করেছেন বলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ বয়েছে।

ঘুষের বিনিময়ে বিষয় এবং বিধি লঙ্ঘন করে নিজের অনুগত শিক্ষকদের একাধিকবার প্রশিক্ষণসহ নানাবিধ সুবিধা পাওয়ে দেওয়ার জন্য বাড়ি বাড়ি ফেরি করে নাম সংগ্রহের পাশাপাশি ঘুষের টাকা আদায়ের বিষয়েও  বহুল আলোচিত। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে চাপে ফেলে তিনি প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছ থেকে একটি মোটা অংকের অর্থ আদায়ের বিনিময়ে দাপ্তরিক কাজ করে থাকেন।

শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি প্রদানের ক্ষেত্রে নিজের পছন্দের প্রতিষ্ঠান প্রধানদের মাধ্যমে একটি উলেখযোগ্য অংশ তিনি প্রকৃত ছাত্রীদের নামের পরিবর্তে ডুপিকেট ছাত্রীর নাম ব্যবহার করে এবং অনুপস্থিত ছাত্রীদের টাকা উত্তোলন করে একটি বড় অঙ্কের পার্সেন্ট পকেটজাত করেন। উপবৃত্তিতে বাদ পড়া ছাত্র-ছাত্রীদের তালিকায় নাম উঠানোর জন্যও বাড়তি টাকা হাতিয়ে নেন বলে জানা গেছে।

অফিসের মোটর সাইকেল মেরামতের নাম করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সদ্য নিয়োগকৃত শিক্ষকদের এমপিও ভুক্তির জন্য অন-লাইনে আবেদন করার নামেও তিনি মোটা অঙ্কের উৎকোচ নিচ্ছেন বলে শিক্ষকদের অভিযোগ। কিন্তু ন্যায্য সুবিধা বঞ্চিত অসহায় শিক্ষকগন বিভিন্ন ধরনের হুমকি এবং হয়রানির ভয়ে প্রকাশ্যে কেউ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পান।

এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঘুষের টাকায় নামে বেনামে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন এই আলোচিত শিক্ষা অফিসার সুলতান ও ৩য় শ্রেণির কর্মচারী মুকুল। ৩ বছর পরপর সরকারি চাকুরীজীবিদের বদলীর বিধান থাকলেও ঘুষ, দূর্নীতি ও বিভিন্ন অনিয়ম করার কারনে হরিণাকুন্ডু ত্যাগ করেন না। এক যুগে অন্তত ৫ থেকে ৬ বার বদলীর আদেশ প্রাপ্ত হলেও অজ্ঞাত ক্ষমতার জোরে শেষ পর্যন্ত ঝিনাইদহে হরিণাকুন্ডুতে বসতী হয়ে উঠেছে মুকুল।

প্রায় এক যুগ ধরে ঝিনাইদহে হরিণাকুন্ডুতে চাকরী করার সুবাদে তিনি ধরাকে সরা জ্ঞান করে চলেছেন। হরিণাকুন্ডুর সচেতন নাগরিক সমাজের মাঝে মুকুলের খুটোঁর জোর নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অনেকে বলেছেন এতদিন কিভাবে একজন ঘুষখোর কর্মচারী এক উপজেলায় চাকুরী করেন। এক নাগাড়ে এক যুগ ধরে একই উপজেলায় চাকরী করায় যে শিক্ষা অফিসারই আসুক না কেন তারা সবই কর্মচারী মুকুলের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েন।

এখানে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষা অফিসারগনকে বাগে নিতে তিনি অনিয়ম করার পথ বাদলে দিয়ে বাড়তি কিছু নগদ সালামী ধরিয়ে দেওয়ায় তারাও নিরব হয়ে পড়েন। বলতে গেলে মুকুলে অধীনেই যেন শিক্ষা অফিসের অন্যান্যরা চাকরী করেন বলে ভূক্তভূগিরা জানান। কোন নিয়ম নীতির তিনি তোয়াক্কা করেন না। অবৈধ অর্থের বিনিময়ে সমস্থ অনিয়মই তার কাছে নিয়ম হয়ে দাড়িয়েছে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা অফিসার সুলতান আলী জানান, অফিসে আসেন বিসত্মারিত বলা যাবে। শিক্ষা অফিসের কর্মচারী মুকুল মিয়ার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন প্রশিক্ষনে পাঠালে শিক্ষকরা খুশি হয়ে কিছু টাকা দিয়ে থাকেন এটা ঘুষ বলা যাবেনা। তবে তার  বিরুদ্ধে উত্থাপিত অন্যান্য বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কৌশলে এড়িয়ে বলেন, অফিসারদের বিষয়ে আমার কোন হাত থাকে না।

উপজেলার শিক্ষক মহলসহ সচেতন নাগরিক সমাজ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরসহ সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ওই ঘুষখোর, দূনীতিবাজ ব্যক্তিদের বদলীসহ শাস্তিমূলক ব্যাবস্থা গ্রহনের জোর দাবী জানিয়েছেন।

ইউনাইটেডনিউজ/ডেস্ক৩/অব/জাহিদুর রহমান তারিক

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো হবে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার :: বাংলাদেশে বাস করা রোহিঙ্গাদের জোর করে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন করা ...