শিক্ষারআলো থেকে বঞ্চিত উপকূল: চরগজারিয়ায় ৩০ হাজার লোকের একটি বিদ্যালয়

Ramgati

মিসু সাহা নিক্কন, চরগজারিয়া থেকে ফিরে :: লক্ষ্মীপুর জেলার ভূ-খন্ড থেকে বিছিন্ন মেঘনা নদী বেষ্টিত রামগতির চর আবদুল্যাহ ইউনিয়নের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ চর গজারিয়া। রামগতি উপজেলার লঞ্চঘাট এলাকা থেকে ইঞ্জিন চালিত নৌকা যোগে ওই দ্বীপে যেতে দেড় ঘন্টা সময় লাগে। চর আবদুল্যাহ ইউনিয়নের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ চর গজারিয়ায় প্রায় ৩০ হাজার লোকের বসবাস। অবহেলিত এই জনপদের শিশু-কিশোরদের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য রয়েছে একটি মাত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, একমাত্র সরকারি বিদ্যালয় রয়েছে “দক্ষিণ চর আবদুল্ল্যাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়”। রামগতি উপজেলা প্রশাসনের আর্থিক সহায়তায় নানান সমস্যার মধ্যদিয়ে চলছে জনতা বাজার প্রাথমিক ও টিপু সুলতান মাধ্যমিক বিদ্যালয় (৮ম শ্রেণী পর্যন্ত)। শিক্ষার্থীরা জানায়, অপর্যাপ্ত শ্রেণীকক্ষ, শিক্ষকের অভাব ও নিয়মিত সব ক্লাস না হওয়া, শিক্ষক থাকলেও থাকেন অনুপসি’ত, শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে প্রয়োজন শহিদ মিনার, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন টিউবওয়েল, বিনোদনের জন্য প্রয়োজন খেলার মাঠ ইত্যাদি।

Ramgatiচর আবদুল্যাহ ইউনিয়নের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ চর গজারিয়া’র বর্তমান শিক্ষার হার ৫%(শতকরা) এর নিচে। এ বিশাল জনগোষ্ঠির জন্য অপ্রতুল শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে চিন্তিত সচেতন মহল।

ইতিমধ্যে লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসকের প্রচেষ্টায় ও রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সহযোগীতায় মেঘনার বুকে জেগে ওঠা দ্বীপে’র জনতা বাজারে “জনতা বাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়” স্থাপিত ও পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসক জিল্লুর রহমান চৌধুরী ওই বিদ্যালয়টি উদ্বোধন করেন। জনতা বাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪জন শিক্ষক ও ৩৮৪ জন শিক্ষার্থী নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রমের যাত্রা শুরু করে।

Ramgati

বুধবার (২২ ফেব্রুয়ারি) লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার ভূ-খন্ড থেকে বিছিন্ন ইউনিয়ন চর গজারিয়া’র উপকূলীয় অঞ্চলের অবহেলিত শিশুদের মৌলিক অধিকার শিক্ষার আলো সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: আবদুল আজিজ পরিদর্শনে যান। এসময় উপস্থিত ছিলেন, সহকারি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছাদ্দেক হোসেন ও মাহবুবুর রহমান, জেলা মনিটরিং কর্মকর্তা নুরুল করিম, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো: আয়ুব আলী, সহকারি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো: মজিবুর রহমান, মাহফুজুল হক ও কাউছার আহম্মেদ ভূঁইয়া। পরিদর্শনকালে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জনতা বাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একবেলা খিচুরি খাওয়ার জন্য আর্থিক অনুদান প্রদান করেন।

Ramgati

এরআগে বিগত ২০১৪ইং সালে লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসকের প্রচেষ্টায় ও রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সহযোগীতায় মেঘনার বুকে জেগে ওঠা দ্বীপে মাধ্যমিক বিদ্যালয় স’াপিত ওই বিদ্যালয়ে ১৩ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে ২৬ জন শিক্ষার্থী রয়েছে, এরমধ্যে ৮ম শ্রেণীতে ৪ জন শিক্ষার্থী। জেলা প্রশাসকের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়টি স্থাপিত হওয়ায় স্থানীয়রা বিদ্যালয়ের নামকরণ করেছেন জেলা প্রশাসকের নামে ‘ টিপু সুলতান মাধ্যমিক বিদ্যালয়’।

আবদুল্যাহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: বেলাল হোসেন জানান, আমার ইউনিয়নে প্রায় ৩০ হাজার লোকের বসবাস। অবহেলিত এই জনপদের শিক্ষা ব্যবস্থায় রয়েছে একটি মাত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অসহায় মানুষদের মৌলিক অধিকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সুনিশ্চিত করবে বলে তিনি আশাবাদি।

রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম শফি কামাল বলেন, দীর্ঘ তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে চর গজারিয়ার জনতা বাজারে প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় এখাকার মানুষ অন্ধকারে ছিলো। জনতা বাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মেঘনার বুকে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে পড়বে। আরো সরকারি বিদ্যালয় বাড়ানোর লক্ষ্যে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

Ramgatiজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: আবদুল আজিজ বলেন, এখানকার একমাত্র সরকারি বিদ্যালয়টি ভূ-খন্ড থেকে বিছিন্ন দ্বীপে হওয়ায় শিক্ষক শঙ্কটের মধ্যে রয়েছে। এখানে আরো প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন ও পর্যাপ্ত শিক্ষক দিয়ে নিয়মিত পাঠদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দ্রুত করা হবে।

চর গজারিয়ায় উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং আরো ১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করার মাধ্যমে এখাকার মানুষের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে পড়বে এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

‘রামগতি উৎসব’

পারস্পরিক ভালোবাসার অনুপম দৃষ্টান্ত হয়ে রইল ‌‘রামগতি উৎসব’

সুলতান মাহমুদ আরিফ :: উৎসাহ, উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শুক্রবার (২১ সেপ্টেম্বর) সফলতার সাথে ...