শরীয়তপুরে ১০ টাকা কেজির চাল চোরদের সরকারের সাধারণ ক্ষমা

খোরশেদ আলম বাবুল।

শরীয়তপুর: শরীয়তপুরে প্রধান মন্ত্রীর ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির’ ১০ টাকা কেজির চাল চোরদের সরকার সাধারণ ক্ষমা করেছেন বলে জানিয়েছেন সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাজী মোঃ গোলাম কিবরিয়া।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার ৪৫ বছরেও মুক্তিযোদ্ধাতের সঠিক তালিকা প্রনয়ণ করা সম্ভব হয় নাই। এতো অল্প সময়ে হত দরিদ্রদের তালিকা প্রনয়ণ কি ভাবে সম্ভব?

শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া, চিকন্দী, চন্দ্রপুর, মাহমুদপুর, রুদ্রকর, পালং ইউনিয়ন সহ ৬৫টি ইউনিয়নে ১০ টাকা কেজির চাল বিতরনে অনিয়মের সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। আংগারিয়া ইউনিয়নের তালিকা থেকে ত্রুতিপূর্ণ ৮৩ জনের নাম বাদ দিয়ে নতুনদের নাম যোগ করা হয়েছে। এমনি ভাবে জেলার সকল ইউনিয়নে এক-দুই বার চাল বিতরনের পরে তালিকা সংশোধন হয়েছে।

তালিকা সংশোধনের পূর্বে ডিলারগণ খাদ্য গুদাম থেকে যে চাল উত্তোলন করেছে জনমনে প্রশ্ন সে চাল কোথায়? তাহলে জেলা খাদ্য অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের সহায়তায় সে চাল আত্মসাৎ হয়েছে? তালিকায় মৃত্যু ব্যক্তি, প্রবাসী, উকিল, চাকরিজীবী, স্কুল শিক্ষক, ডিলার, শিল্পপতি সহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষের নাম ছিল। সে সকল ব্যক্তিগণ কোন চাল উত্তোলন করেন নাই। তাহলে সেই চাল  কোথায়? তাহলে হতদরিদ্রদের জন্য প্রধান মন্ত্রীর বিশেষ বরাদ্দ চাল চেয়ারম্যান, মেম্বার, ডিলার ও খাদ্য অফিসের কর্তা ব্যক্তিদের পকেটদাবা হয়ে আড়ালেই থাকবে?

চেয়ারম্যান, মেম্বার ও ডিলারদের সাথে আলাপকালে জানায়, ত্রম্নটিপূর্ণ তালিকা সংশোধন করে খাদ্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে দেয়া হয়েছে। সর্বশেষ সেই তালিকা অনুযায়ী চাল বিতরণ হয়েছে। জেলা খাদ্য অফিসও তালিকা সংশোধনের সত্যতা স্বীকার করেন। তবে ভুল তালিকার যে চাল উত্তোলন হয়েছে সেই চাল বিতরণ হয়নি তবে সেই চাল কোথায় তার কোন সঠিক সমাধান দেননি জেলা খাদ্য অফিস।

চিকন্দী ইউনিয়নে হতদরিদ্রের তালিকায় স্বপন খানের নাম দেখানো হয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা গেছে স্বপন খান একজন আইনজীবী। স্বপন খানের পিতা এডভোকেট মোঃ আলী খান বলেন, সপরিবারে ৩০ বছর যাবৎ শরীয়তপুর পৌরসভা বসবাস করি। আমরা পৌরসভার ভোটার। আমরা চিকন্দী ইউনিয়নের ভোটারও না। আমরা কোন রিলিফ গ্রহন করি নাই। কে বা কারা চাল বিতরনের তালিকায় আমার ছেলের নাম দিয়েছে তাও জানি না।

এ বিষয়ে শরীয়তপুর সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাজী মোঃ গোলাম কিবরিয়ার মতামত জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৪৫ বছরেও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা সঠিক প্রণয়ন হয়নি ব্যাপারটা এমনই। ভুল তালিকা প্রণয়ন ও চাল বিতরনের বিষয়ে সরকার সাধারণ ক্ষমা করেছে মর্মে নির্দেশনা রয়েছে। সর্বশেষ তালিকায় যে সংশোধনী আনা হয়েছে তা সংরক্ষণ করে খাদ্য অফিসে, জেলা প্রশাসকের ওয়েবসাইডে দিতে বলা হয়েছে। এ অপরাধের জন্য শাস্তি দিতে হবে এমন কোন নির্দেশণা আমাদের কাছে আসে নাই।

জেলা খাদ্য কর্মকর্তা সামসুজ্জামান খান বলেন, আমার উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছে ‘এ জেলার মানুষ চোর’। বাংলাদেশের অন্য কোন  জেলায় এমন ঘটনা ঘটেনাই। শরীয়তপুরে ৬ জনের ডিলারশীপ বাতিল হয়েছে। মৃত্যু ব্যক্তির নামে সাক্ষর করে তার স্ত্রী চাল উত্তোলন করেছে। তালিকা সংশোধনীতে মৃত্যু ব্যক্তির নাম বাদ পড়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

৩২ ধারা বহাল রেখে ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল পাস

ষ্টাফ রিপোর্টার :: সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংগঠনসহ বিভিন্ন মহলের আপত্তি সত্ত্বেও বহুল ...