লড়াই করেও হারলো বাংলাদেশ

ওপেনিং এ ভালো স্কোরের সন্ধান না পেলেও মিডল অর্ডার আর লোয়ার অর্ডার এ দায়িত্বশীল ব্যাটিং প্রতিবারই বাংলাদেশকে খাদের কিনারা থেকে বাঁচিয়েছে। কখনো কখনো দেখা মিলেছে জয়ের। বাংলাদেশ ভারতের মধ্যকার একমাত্র টেস্ট ম্যাচেও এমনটাই দেখা গিয়েছিল প্রথম ইনিংস এ। উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান এবং বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের সেঞ্চুরিতে ঘুরে দাড়িয়েছিল বাংলাদেশ দল।

খেলার দ্বিতীয় ইনিংসে আশা জাগালেও সেই আশার প্রদীপ আর ধরে রাখতে পারেননি। আউট হয়ে ফিরে গেছেন সাজ ঘরে। এরপরেই ক্রিজে আসেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। মিডল অর্ডার কিংবা লোয়ার অর্ডার এ মাহমুদউল্লাহ পার্ফর্মেন্স নিয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু বাংলাদেশ ভারত টেস্ট ম্যাচ এ সেই নির্ভরতার দেখা মিলেনি।
টপ অর্ডার এর ব্যর্থতার পর যখন মাহমুদউল্লাহও আউট হয়ে গেলেন তখন বাংলাদেশের টেস্ট হারের গতি যেন বেড়ে গেল একলাফে। তবুও সামান্য আশা জাগিয়েছিল বাংলাদেশের শেষ তিনটি উইকেট জুটি। ‘আশা’ বলতে ড্র। না, সেটি হয়নি। শেষ তিন ব্যাটসম্যানের ২৩ ওভারের লড়াইয়ের সমাপ্তি তাসকিন আহমেদের এলবিডব্লু হওয়ার মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশ হায়দরাবাদ টেস্ট হারল ২০৮ রানে। একেবারেই হেরে যাওয়া বলাটাও যুক্তিযুক্ত নয়। লড়াই টা জমেছিল অল্প হলেও।

ভারতের মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলতে যাওয়া বাংলাদেশ একেবারে শূন্য হাতে ফিরছে না হায়দরাবাদ থেকে। এই টেস্টে ভারতের ৬৮৭ রানে পিষ্ট হয়ে আগেই আত্মসমর্পণ করেননি মুশফিকরা। ভারতে যাওয়ার আগে বাংলাদেশ টেস্ট অধিনায়ক বলেছিলেন, পাঁচ দিন সমান লড়াই করতে চান। এই লক্ষ্যটা কিন্তু পূরণ হয়েছে। ম্যাচটা প্রায় শেষ সেশন পর্যন্ত নিয়ে যেতে পেরেছে বাংলাদেশ। চতুর্থ ইনিংসে ভারতের মাটিতে অশ্বিন-জাদেজার স্পিনের সামনে ১০০ ওভার ব্যাট করাটাও কম কৃতিত্বের নয়।

বিরাট কোহলির কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়তে শুরু করেছিল। সপ্তম উইকেট জুটিতে মাহমুদউল্লাহ আর সাব্বির রহমানের ব্যাটে প্রতিরোধটা ভালোই গড়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেই প্রতিরোধ ভেঙে ভারত-অধিনায়কের মুখে হাসি এনে দেন দলের পুরোন পেসার ইশান্ত শর্মা। ভারতের এই পেসার এলবিডব্লিউ এর ফাঁদে ফেলেন বাংলাদেশ দলের সেনসেশন সাব্বিরকে। মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে সাব্বিরের জুটিটা ভালোই দাঁড়াচ্ছিল। ২২ রান করে ফেরেন তিনি। ১৮ ওভার স্থায়ী ৫১ রানের ষষ্ঠ উইকেট জুটিটি ভাঙার পরেই স্বস্তি ফেরে ভারতীয় দলে।

সাব্বিরের পর মাহমুদউল্লাহর বিদায়ই পরিষ্কার করে দেয় ম্যাচের গতি-প্রকৃতি, বাংলাদেশের হারটা তখন হয়ে দাঁড়ায় কেবল সময়েরই ব্যাপার। ১৪৯ বলে ৬৪ রান করে ইশান্তের বলে ভুবনেশ্বর কুমারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ১৯ মাস পর টেস্টে ফিফটি পাওয়া এই ব্যাটসম্যান।

এরপরও হায়দরাবাদ টেস্ট ড্র করার ক্ষীণ আশা জাগিয়েছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ-কামরুল ইসলাম রাব্বীর অষ্টম উইকেট জুটি। ৬১ বলে ২৩ রান করে মিরাজ ফিরে গেলে কামরুল এক প্রান্ত আগলে রাখেন। ৭০ বলে ৩ রানে অপরাজিত ছিলেন বাংলাদেশ দলের এই পেসার।

টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দল ভারতের বিপক্ষে পাঁচটা দিন বাংলাদেশ যে লড়াই করেছে সেটি নিয়ে প্রশংসিত হতেই পারে তারা।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

প্রধানমন্ত্রী

দুর্নীতিবাজদের সঙ্গে নিয়ে তারা কিভাবে দুর্নীতিকে প্রতিরোধ করবেন: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ :: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বলেছেন, দুর্নীতিবাজদের সঙ্গে নিয়ে তারা কিভাবে ...