লিংক করিডোর ইস্যুতে দ্বার খুলছে না ২৫০ শয্যা হাসপাতালের

বাগেরহাট ২৫০ শয্যা হাসপাতাল

মোঃ শহিদুল ইসলাম, বাগেরহাট প্রতিনিধি:: লিংক করিডোর ইস্যুতে দ্বার খুলছে না বাগেরহাটের নব নির্মিত ২৫০ শয্যা হাসপাতালের কার্যক্রম। গনপূর্ত বিভাগ ভবনটি বুঝে নিতে চিঠি দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগকে কিন্তু পুরাতন ভবনের সাথে নতুন ভবনের লিংক করিডোর না থাকায় ভবনটি বুঝে নিচ্ছে না স্বাস্থ্য বিভাগ ।

লিংক করিডোরের জন্য গনপূর্ত বিভাগ ইতিমধ্যে দুই দফা দরপত্র আহবান করলেও তাতে অংশ নেননি ঠিকাদাররা। সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ভবন নির্মাণ কাজ অনেক আগে শেষ হলেও কবে চালু হবে ২৫০ শয্যা হাসপাতালের কার্যক্রম -তা বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা।

বাগেরহাট সিভিল সার্জন ডা. অরুন চন্দ্র মণ্ডল জানান, আগের ভবনের সঙ্গে নতুন ভবনের লিংক করিডোর না থাকায় আমরা ভবনটি বুঝে নিচ্ছি না। দ্রুত এই কাজটি শেষ করার জন্য গণপূর্ত বিভাগকে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, এ ভবনটি চালু হলে জনবল কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি বাগেরহাট বাসির জন্য নতুন সেবার দ্বার খুলবে ।

গণপূর্ত বিভাগ বাগেরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী সতীনাথ বসাক বলেন, বাগেরহাট সদর হাসপাতালটি ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত প্রকল্পের আওতায় আমরা কাজ শেষ করেছি। ফেব্রুয়ারিতে আমরা স্বাস্থ্য বিভাগকে ভবনটি বুঝে নিতে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু তারা বুঝে নিচ্ছেন না। তাদের দাবি, পুরাতন ভবনের সঙ্গে লিংক করিডোর করে দিতে হবে।

কিন্তু করিডোর নির্মানের কোন নির্দেশনা নাই। তবে এতেও স্বাস্থ্যসেবা দিতে কোনো বাধা হবে না। তারপরও আমরা লিংক করিডোর করার জন্য কয়েক দফায় দরপত্র আহবান করেছি। কিন্তু কোনো ঠিকাদার ওই দরপত্রে অংশ নেননি তবু আবারও চেষ্টা করা হচ্ছে।

সচেতনরা বলছেন, স্বাস্থ্যসেবা পেতে জেলা সদর হাসপাতালের প্রতি সবার নজর থাকে। কিন্তু আমাদের বাগেরহাটে ডাক্তার ও শয্যা সংকটের কারণে কাঙ্খিত স্বাস্থ্যসেবা মিলছে না। ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল চালু হলে ডাক্তার ও শয্যা সংকট থাকবে না। সাধারণ রোগীদের উন্নত চিকিৎসা নিতে আর বাইরে যেতে হবেনা হতাসাগ্রস’ হতে হবেনা এজন্য দ্রুত হাসপাতালটি চালু ও জনবল নিয়োগ করে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী শরিফা বেগমের স্বজন মান্নান সরদার বলেন, আমরা চিকিৎসা সেবা নিতে এ হাসপাতালের ওপর নির্ভর করি। অসুস’ বোনকে নিয়ে এসে দু’দিন ফ্লোরে থাকার পর বেড পেয়েছি। হাসপাতালটি ২৫০ শয্যা হলে আমাদের এত কষ্ট করতে হত না।

হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, ১০০ শয্যায় রোগীর সঙ্কুলান হয় না। দ্রুত ২৫০ শয্যা চালু করতে পারলে আমরাও রোগীদের বেশী সেবা দিতে পারব।

জেলার প্রায় ১৭ লাখ মানুষের প্রধান চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান বাগেরহাট সদর হাসপাতাল। ১৯৯৭ সালে ৫০ শয্যা থেকে হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। ২০১৩ সালে এটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়। গত বছরের জুনে ‘হেলথ পপুলেশন অ্যান্ড নিউট্রেশন সেন্টার ডেভলপমেন্ট প্রজেক্ট’-এর আওতায় ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৫০ শয্যাবিশিষ্ট নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়।

এক বছর আগে ছয়তলা ভবনের মূল কাজও শেষ হয়। কিন্তু ভেতরের কাজ শেষ হয় চলতি বছরের জানুয়ারিতে। তবে গণপূর্ত বিভাগ, বাগেরহাট ও স্বাস্থ্য বিভাগের নানা জটিলতায় ভবন হস্তান্তর ও চালুর বিষয়টি ঝুলে আছে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

বাংলাদেশিদের ‘উইপোকা’ বললেন বিজেপি সভাপতি

ডেস্ক রিপোর্ট :: ভারতীয় জনতা দল-বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ বলেছেন, ‘‘বাংলাদেশি অভিবাসীরা ...