লালমনিরহাটে বালু উত্তোলনে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে গুচ্ছগ্রাম

 লালমনিরহাটে বালু উত্তোলনে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে প্রধানমন্ত্রীর গুচ্ছগ্রামআসাদুজ্জামান সাজু, লালমনিরহাট প্রতিনিধি :: লালমনিরহাটের বহুল আলোচিত দহগ্রাম-আঙ্গোরপোতায় ভূমিহীনদের জন্য নির্মিত প্রধানমন্ত্রী’র গুচ্ছগ্রামটি বোমা মেশিনের তাণ্ডবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অবৈধ ভাবে বোমা মেশিন দিয়ে বালু-পাথর উত্তোলনের ফলে ভেঙে যেতে বসেছে ওই গ্রামের আবাদী জমি ও বসত বাড়ি।

জানা যায়, জেলার পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম-আঙ্গোরপোতা ছিটমহলবাসীর একমাত্র চলাচলের পথ ‘তিনবিঘা করিডোর’ গেটটি ২০১৩ সালে উন্মুক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তখন থেকেই শুরু হয় মৌলিক অধিকার বঞ্চিত এ ছিটমহলের বাসিন্দাদের নাগরিক সুবিধা ও জীবনমান উন্নয়নে নানামুখী পরিকল্পনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিদেশে দহগ্রাম-আঙ্গোরপোতা তিস্তার চরাঞ্চলের ভূমিহীনদের বসবাসের জন্য সাম্প্রতিক সময় ৮০টি পরিবারের বসবাসের জন্য একটি গুচ্ছগ্রাম তৈরী করা হয়। সেখানে ৩০টি পরিবারের ঘর-বাড়ি ফাঁকা রেখে পাশে আরও একটি আশ্রয়ন করার পরিকল্পনা হাতে নেয় সরকার। যদিও আশ্রয়নটি কৃষি জমিতে নির্মাণ না করতে স্থানীয় কৃষকরা জজ আদালত থেকে হাইকোর্ট পর্যন্ত মামলা করেছেন। হাইকোর্ট ভূমি সচিবের মাধ্যমে দহগ্রামের ভূমি রেকর্ডপত্র তলব করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, ১৯৯২ সালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র এক ঘণ্টা করিডোর গেট মুক্তি পাওয়া দহগ্রামে মাঠ জরিপের কাজ শুরু হয় ১৯৯৪ সালে। সে সময় বন্যার কারণে দহগ্রামের বড়বাড়ি, সৈয়দপাড়া, শালতলি প্রভৃতি গ্রামের প্রায় ১৪৫০ একর জমি মাঠ জরিপ না করেই কাজের সমাপ্ত করা হয়। যা পরবর্তীতে সরকারি খাস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত হয়। কৃষকরা বিষয়টি জানতে পেয়ে লালমনিরহাট জজ আদালতে দুইটি মামলা ও সাম্প্রতি হাইকোর্টে একটি মামলা করেন। মামলা বিচারাধীন থাকলেও সরকারিভাবে ওই আশ্রয়ণ প্রকল্পের এক একর মাঠ ভরাট করতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অধীনে ৭০ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেয়া হয়।

প্রকল্পটির চেয়ারম্যান হিসেবে দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন দুইটি বোমা মেশিনে বালু-পাথর তুলে আশ্রয়নের মাঠ ভরাট কাজ শুরু করেছেন। ফলে বোমা মেশিনের তাণ্ডবে গুচ্ছগ্রামের মাঠ ও ঘরবাড়ি ভেঙে যেতে বসেছে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গুচ্ছগ্রাম।

বড়বাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ফজলুল হক জানান, কৃষি জমিতে আশ্রয়ন না করতে এবং তাদের জমি ফেরত পেতে তারা হাইকোটের আশ্রয় নিয়েছেন। হাইকোর্ট কাজ বন্ধের নির্দেশ দিলেও কাজ বন্ধ করেনি সরকার পক্ষ। এক গুচ্ছগ্রামে থাকার লোক নেই। সেখানে আরও আশ্রয়নের প্রয়োজন কী ? প্রশ্ন তোলেন তিনি।

ওই এলাকার আব্দুল কাদের বলেন, গরীবের কথা কে শুনে। গরীব মানুষ মরুক, পানিতে ভাসি গেলেও কারও কিছু হয় না। চেয়ারম্যান নিজেই গুচ্ছগ্রামের ঘরের পেছনে বোমা মেশিন বসাইছেন। এখন কাকে বিচার দিবু বাহে?

দহগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেন জানান, উপজেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তে ওই জমিতে বালু ভরাট করা হচ্ছে। বোমা মেশিনে কেন ? এমন প্রশ্নে তিনি কোন মন্তব্য করেননি।

পাটগ্রাম উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নন্দী কুমার জানান, শ্রমিক দিয়ে আশ্রয়ন প্রকল্পের মাঠ ভরাটে বরাদ্দের অর্ধেক বিল ইতোমধ্যে দেয়া হয়েছে। তবে বোমা মেশিনে বালু উত্তোলন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বোমা মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের চেষ্টা করে ছিলো আমরা তা বন্ধ করে দিয়েছি।।

পাটগ্রাম উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নুর কুতুবুল আলম জানান, হাইকোটের একটি পত্র কৃষকরা হাতে হাতে দিয়েছেন। কিন্তু কোন অফিস কপি তিনি পাননি। অফিস কপি এলে আদালতের নির্দেশনা মেনে কাজ করা হবে। বোমা মেশিনে বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই ।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক শফিউল আরিফ জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি কেউ গৃহহীন থাকবেন না। সেই লক্ষ্যে জেলার পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম-আঙ্গোরপোতা ছিটমহলবাসীর জন্য গুচ্ছগ্রাম-২য় (সিভিআরপি) পযার্য়ের প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। তবে কেউ যদি আশ্রয়ণ প্রকল্পে মাটি ভরাটের নামে অবৈধ ভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন করেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

সিলেটের স্বপ্নিল অভিষেকে বাংলাদেশের সিরিজ জয়

স্টাফ রিপোর্টার :: ওয়ানডেতে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের অভিষেকটা হল দারুণ। দেশের ...