ব্রেকিং নিউজ

লক্ষ্মীপুরে আশ্রয়ণ প্রকল্পে থাকা পরিবার গুলোর মানবেতর জীবন

লক্ষ্মীপুরে আশ্রয়ণ ও আবাসন প্রকল্পে থাকা পরিবার গুলোর মানবেতর জীবনজহিরুল ইসলাম শিবলু, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি :: লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চর রমনী মোহন ইউনিয়নে আশ্রয়ণ প্রকল্পে থাকা পরিবার গুলো মানবেতর জীবন জাপন করছে। মৌলিক চাহিদার শুধুমাত্র বাসস্থানের ব্যবস্থা রয়েছে সেখানকার বাসিন্দাদের। তাও আবার দীর্ঘদিন মেরামত না করায় সবগুলো ঘরের টিনের চাল ও বেড়া ঝাঝরা হয়ে ছোট-বড় অসংখ্য ছিদ্র হয়ে গেছে। প্রতিটি ঘরের দরজা, জানালা, ভেঙে গেছে। জরাজীর্ণ ঘরে চালে পলিথিন দিয়ে মেরামত করে কোনোমতে চলছে বসবাস। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্যানিটেশন সুবিধা ছাড়া নানা প্রতিকূলতায় চরম মানবেতর জীবন-যাপন করছেন তারা। এমন করুণ চিত্র আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসকারী ৪০ পরিবারের সবারই।

সরেজমিনে চর রমনী মোহন ইউনিয়ন আশ্রয়ন প্রকল্প ঘুরে দেখা গেছে, এখনে বসবাস করছে ৪০ পরিবার। তাদের বেশির ভাগ ঘরের চালের ওপর ও নিচে পলিথিন দিয়ে রাখা হয়েছে। আর যাদের পলিথিন কেনার সামর্থ্য নেই, তারা চালের ছিদ্র দিয়ে পড়া বৃষ্টির পানি হাড়ি-পাতিল দিয়ে ধরার চেষ্টা করছেন।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা চৌধুরী মিঝি, শরভানু, শাহাদাত উল্যা, আমাতুন নেছা, নুরুল ইসলাম, আবদুল বেপারী, নুরুল ইসলামসহ অনেকে জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই চাল ও বেড়ার অসংখ্য ছিদ্র দিয়ে ঘরের মধ্যে পানি পড়ে। বৃষ্টির পানিতে নিজেরাও ভিজে যাই, সেই পানিতে ঘরে থাকা চাল, ডাল, শুকনো খাবারসহ জামা-কাপড়ও ভিজে যায়।

এদিকে নিকটবর্তী বিদ্যালয় না থাকায় শিক্ষা লাভের সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়ে যাচ্ছে আশ্রয়ণ প্রকল্পে থাকা শিশুরা। নলকূপগুলোও সব নষ্ট। অন্য পাড়া থেকে খাবার পানি বয়ে আনেন তারা। নিরুপায় হয়ে পুকুরের পানি ব্যবহার করতে হচ্ছে তাদের, এতে নারী ও শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছেন বিভিন্ন রোগে। অন্য কোথাও যাওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় বসবাসের অনুপযোগী আশ্রয়ণ ও আবাসন প্রকল্প থাকতে হচ্ছে তাদের।

ভুক্তভোগীরা জানান, সরকার আমাদেরকে আশ্রায়ন প্রকল্পের আওতায় ২০০১ সালে প্রতিটি নদী ভাঙ্গা ও অসহায় ৪০টি পরিবারকে একটি ঘর ও ১ একর জমি বরাদ্ধ দেয়। ঘর বরাদ্ধ দেওয়া সময় আশ্রয়ণ প্রকল্পে গভীর নলকূপ ও স্বাস্থাসম্মত সেনিটেশেন ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন আমাদের বসবাস করা ঘর, নলকূপ ও সেনিটেশন গুলো মেরামত না করায় এই গুলো ব্যবহার করার অনপুযোগী হয়ে পড়েছে। এছাড়া ২০০১ সালের পর থেকে সরকারী কোন বরাদ্ধ পাননি বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

চর রমনী মোহন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ ছৈয়াল জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্পের কোনো ঘরই বসবাসের উপযুক্ত নয়। জরাজীর্ণ ঘরগুলোর দ্রুত মেরামত প্রয়োজন। ২০০১ সালে আশ্রায়ন প্রকল্প হওয়ার পর আর কোন মেরামত না হওয়ার কারনে আশ্রায়ন প্রকল্পের এই জরাজীর্ন অবস্থা। এ ছাড়া আশ্রায়ন প্রকল্পের জন্য সরকারী আলাদা কোন বরাদ্ধ পাওয়া যায়না বলে জানান তিনি।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

পাইকগাছায় উপকূল দিবস পালিত

পাইকগাছায় উপকূল দিবস পালিত

মহানন্দ অধিকারী মিন্টু, পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি :: খুলনার পাইকগাছায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে ...