রাস্তার শরবত বিক্রেতা থেকে তুরস্কের মসনদে

রিসেপ তায়েপ এরদোগানডেস্ক নিউজ :: তুরস্কের রাস্তায় রাস্তায় লেবুর শরবত বিক্রি করতেন তিনি। বাবা ছিলেন তুর্কি কোস্টগার্ডের সদস্য। এখন তিনি তুরস্কের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্যারিশম্যাটিক নেতা। রিসেপ তায়েপ এরদোগান। ৬৪ বছর বয়সী এই মানুষটি রাষ্ট্রক্ষমতা পাকাপোক্ত করে তুরস্কের মসনদে আসন গেড়ে বসেছেন। রোববারের নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে জয়ী হয়েছেন।

বলা হচ্ছে, তুমুল জনপ্রিয়তার সুযোগ নিয়ে তুর্কিদের ওপর এবার প্রতাপশালী নয়া সুলতান হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন এরদোগান। সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে মার্কিন ধাঁচের সর্বক্ষমতাসম্পন্ন প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। এক রকম গণতান্ত্রিক কারসাজিতেই তুরস্কে ‘এক ব্যক্তির শাসন’ প্রতিষ্ঠা করলেন এরদোগান।

১৯৫৪ সালে তুরস্কের কাসিমপাসায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। শৈশব কেটেছে কৃষ্ণসাগরের পাড়ে। ১৩ বছর বয়সে ইস্তাম্বুলে আসেন। শহরের রাস্তায় রাস্তায় বিক্রি করতেন লেবুর শরবত ও তিলের রুটি। পরে পড়ালেখা করেছেন মারমারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসায় প্রশাসনে। ভালো ফুটবল খেলোয়াড়ও ছিলেন তিনি। জড়িয়ে পড়েন ইসলামী আন্দোলনে।

১৯৯৪ সালে ইস্তাম্বুলের মেয়র নির্বাচিত হন। দেড় কোটি জনগণের শহরটিতে তিনি যানজট ও বায়ুদূষণ রোধ করে নগরের চেহারা পাল্টে দেন। আধুনিক তুরস্কের জনক মুস্তাফা কামাল আতাতুর্কের পর দেশটির রাজনীতিতে এতটা পরিবর্তন অন্য কোনো নেতা আনতে পারেননি। তুরস্কে ইসলামী রাজনীতি নিষিদ্ধ হলে তিনি বিক্ষোভে অংশ নেন। সেখানে একটি ধর্মীয় কবিতা আবৃত্তির কারণে চার বছরের জেল হয় তার।

কবিতাটি ছিল- ‘মসজিদ আমাদের ক্যান্টনমেন্ট, গম্বুজ আমাদের হেলমেট, মিনার আমাদের বেয়নেট এবং বিশ্বাসীরা আমাদের সৈনিক।’

এরদোগানের দীর্ঘদিনের মিত্র আবদুল্লাহ গুল ও অন্যদের সঙ্গে মিলে ২০০১ সালে জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (একেপি) পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০২ সাল থেকে দলটি প্রতিটি নির্বাচনে জয়লাভ করে আসছে। জেল খাটার অতীত থাকায় প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হতে পারেননি তিনি। পার্লামেন্টে নতুন আইন পাসের মাধ্যমে ২০০৩ সালে তিনি প্রধানমন্ত্রী হন।

২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রিত্ব ছেড়ে তুরস্কের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হন। তুরস্কের রাজনীতিতে ১৯৬০’র দশক থেকে চারবার সামরিক হস্তক্ষেপ হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ১৫ এপ্রিলের সামরিক অভ্যুত্থান নস্যাৎ করে দিয়ে এরদোগান ক্ষমতার ওপর তার অবস্থান আরও পাকাপোক্ত করেছেন। লম্বা স্লিম মধ্যবয়স্ক এরদোগান রাজনীতিতে এক ভিন্নধর্মী ইমেজ প্রতিষ্ঠা করেছেন।

২০১৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আঙ্কারা সফর করেন। এরদোগানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে তিনি ঘোষণা দিলেন, ‘একজন নেতা কীভাবে একইসঙ্গে ইসলামিক, গণতান্ত্রিক ও সহিষ্ণু হতে পারে তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ এরদোগান।’ সমালোচকরা বলছেন, অনেক আগেই তিনি গণতন্ত্রের পথ থেকে সরে এসেছেন। ৬১ কোটি ৫০ লাখ ডলার ব্যয়ে ১১৫০ রুমবিশিষ্ট বিলাসবহুল প্রেসিডেন্ট প্যালেস বানানো তার কর্তৃত্ববাদী ক্ষমতালিপ্সার দৃষ্টান্ত। তুর্কিদের একাংশ এরদোগানকে ‘বুয়ুক উস্তা’ বা ‘বড় মাস্টার’ বলে থাকেন।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ব্যারিস্টার নাজমুল হুদাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

চার বছরের কারাদণ্ড, রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশ স্টাফ রিপোর্টার :: সাবেক মন্ত্রী ...